পাথরঘাটায় ১১ হাজার হেক্টর জমিতে মুগডাল চাষ

প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০

ইমরান হোসাইন, পাথরঘাটা (বরগুনা)

উপকূলীয় এলাকা বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার মাঠজুরে এখন মুগডাল চাষ। বিগত বছরে সফলতার ধারাবাহিকতায় এবারও পাথরঘাটার চাষিরা মুগডাল চাষে ঝুঁকে পড়েছেন ব্যাপক আগ্রহ নিয়ে। বেশ কয়েক বছর ধরেই কম খরচে চাষাবাদ হওয়ায় এবং অধিক দাম পাওয়ায় কৃষকরা মুগডাল চাষ করে আসছে। এবার গাছ ভালো হওয়ায় ভালো ফলন হবে বলে আশা করছেন কৃষকরা।

পাথরঘাটা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, এবার উপজেলার ৭ ইউনিয়নে ১০ হাজার ৯২০ হেক্টর জমিতে মুগডাল চাষ হয়েছে। চাষের হিসাব অনুযায়ী এ বছর ১৩ হাজার ৮০০ টন উৎপাদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার প্রতিটি মাঠজুড়ে এখন মুগডালের গাছের সবুজ পাতার রঙে মুখরিত ফসলের মাঠ। প্রতিটি মাঠে এখন শুধু সবুজ রঙের চোখ ধাঁধানো বর্ণীল সমরাহ। ছত্রাক ও রোগ-বালাই থেকে ফসল বাঁচাতে কীটনাশক স্প্রে করছেন চাষিরা।

পাথরঘাটার কালমেঘার কালিপুর গ্রামের কৃষক মো. নয়া মিয়া জানান, কয়েক বছর ধরেই মুগ ডাল চাষ করে আসছেন তিনি। মুগডাল চাষে কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় বতর্মানে এই ডালের চাষ বেড়েই চলেছে। তিনি নিজেও ১২০ শতাংশ জমিতে মুগডালের চাষ করেছেন। এ বছর গাছ ভালো হওয়ায় গত বছরের মতো ভালো ফলন পাব বলে আশা করছি।

উপজেলার কাঁঠালতলী এলাকার কৃষক মনির মিয়া জানান, মুগডাল বিক্রি করতে বাজারে নিয়ে যেতে হয় না। পাইকাররা কৃষকের বাড়ি বাড়ি থেকে মুগডাল কিনে নিয়ে যায়। মুগডাল চাষ করতে কোনো ঝামেলা নেই। এজন্য জমিতে কোনো নিড়ানি বা রাসায়নিক সারের প্রয়োজন হয় না। বীজ ছিটিয়ে দেওয়ার পর পাকলে ঘরে তোলা হয়।

পাথরঘাটা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শিশির কুমার বড়াল জানান, চলতি মৌসুমে পাথরঘাটা উপজেলায় ১০ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও ১০ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে মুগডালের আবাদ হয়েছে। মুগডাল চাষে প্রকল্পের মাধ্যমে

কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। উপশি জাত আবাদে কৃষকদের বিভিন্ন প্রদর্শনী দেওয়া হয়েছে। কৃষি প্রণোদনা হিসেবে বেশ কিছু কৃষকদের মাঝে সার ও বীজ বিতরণ করা হয়েছে। কৃষকদের যথাযথ পরামর্শ ও

পরিচর্যার বিষয়ে দিক-নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। আবাদের হিসাব অনুযায়ী এ বছর ১৩ হাজার ৮০০ টন উৎপাদন আশা করেছে কৃষি বিভাগ।

 

"