ছুটির দাবিতে কমলগঞ্জের ২৩ চা-বাগানে একযোগে মানববন্ধন

প্রকাশ : ১২ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

সারা দেশে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সরকারিভাবে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হলেও চা শ্রমিকদের এ ছুটির বাহিরে রাখা হয়েছে। এদিকে অবিলম্বে চা বাগানে সাধারণ ছুটি ঘোষণার দাবিতে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের ২৩টি চা-বাগানে একযোগে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল ৯টায় চা শ্রমিকরা সামাজিক নিরাপত্তা বজায় রেখে এ কর্মসূচি পালন করেন।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনয়িনের কেন্দ্রীয় কমিটির জরুরি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী করোনাভাইরাস প্রতিরোধকালে সাধারণ ছুটির দাবিতে গতকাল সকাল ৯টায় একযোগে দেশের ২৩০টি চা-বাগানে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।

গতকাল সকাল সাড়ে ৮টায় কমলগঞ্জের শমশেরনগর চা-বাগান কারখানার প্রধান ফটকের সামনে চা বাগান পঞ্চায়েত নিপেন্দ্র বাউরীর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরী। এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন চা শ্রমিক ইউনিয়নের মনু-ধলাই ভ্যালির কার্যকরী কমিটির সম্পাদক নির্মল দাশ পাইনকা, চা শ্রমিক নেতা সীতারাম বীন, মোহন রবিদাস, চা বাগান কর্মচারী পরিষদের আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি তানভীর হাসান প্রমুখ।

সকাল সাড়ে ৯টায় আলীনগর চা-বাগান কারখানার প্রধান ফটকের সামনে চা-বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি গনেশ পাত্রের সভাপতিত্বে ও সজল কৈরীল সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন চা বাগান কর্মচারী পরিষদের আলীনগর ইউনিটের সদস্য দীপক বাড়ই, সীতারাম বীন ও রামভজন কৈরী।

একই সময়ে চাতলাপুর চা বাগান, মাধবপুর, পাত্রখোলা, ধলই, মদনমোহনপুর, কুরমা, চাম্পারায়, ফুলবাড়ীসহ ফাঁড়ি ও মূল মিলিয়ে কমলগঞ্জের মোট ২৩টি চা-বাগানে একযোগে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক রামভজন কৈরী তার বক্তব্যে বলেন, চা বাগান এলাকার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা খুবই নাজুক। তারা মনে করেন চা সংসদের কর্তা ব্যক্তিরা প্রধানমন্ত্রীকে ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে চা-বাগানের সাধারণ ছুটি বন্ধ রেখেছেন। চা বাগানে করোনাভাইরাস সংক্রমিত হলে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। চা বাগানে সাধারণ ছুটির দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রেরণ করা হবে বলেও জানা গেছে।

 

"