তারাবাড়ীতে খালের মুখ ভরাট হুমকিতে ২০০ হেক্টর জমি

প্রকাশ : ১২ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০

কালীহাতী (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

টাঙ্গাইলের কালীহাতী উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নের তারাবাড়ীতে ফসলি জমির পানি প্রবাহের দুটি খালের মুখ ভরাট করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে ওই এলাকার নগরবাড়ী, মাইস্তা, তারাবাড়ী, তাতিহারা, পিচুরিয়া ও লুহুরিয়া গ্রামের পাঁচ শতাধিক কৃষকের প্রায় ২০০ হেক্টর আবাদি জমি হুমকির মুখে পড়েছে। অতি বৃষ্টি ও বর্ষাকালে সৃষ্ট বন্যায় ফসল উৎপাদন হুমকিতে পড়বেন বলে জানায় স্থানীয় কৃষকরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, তারাবাড়ী গ্রামের মৃত হোসেন আলী ভূঁইয়ার ছেলে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য আবদুল কাদের ভূঁইয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ব্যক্তিগত আবাদি জমির দুটি খালের মুখ এস্কাভেটর দিয়ে ভরাট করছেন। এতে করে ওই এলাকার পাঁচ শতাধিক কৃষকের প্রায় ২০০ হেক্টর আবাদি জমির ফসল উৎপাদন হুমকিতে পড়বে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

খালের মুখ ভরাটের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য আবদুল কাদের ভূঁইয়া জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্য, ইউপি চেয়ারম্যান, স্থানীয় আ.লীগ নেতারা ও পুলিশ প্রশাসন জমি ভরাটের বিষয়ে অবগত আছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

স্থানীয় কৃষক আ. মান্নান, আ. জলিলসহ অনেকেই জানান, স্থানীয় বৈঠকে চকের পানি নেমে যাওয়ার বিষয়ে আবদুল কাদের ভূঁইয়া খালের চুঙ্গি (সুড়ঙ্গ) বরাবর পাকা ড্রেন তৈরি করে বিকল্প ব্যবস্থা রাখার কথা বললেও তা না করেই জমি ভরাট চলমান রেখেছেন। এতে অতি বৃষ্টি ও বর্ষাকালে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তারা।

তারাবাড়ী গ্রামের কৃষক আবদুল মান্নান বলেন, ‘এইভাবে আমগোরে পেটে লাথি মাইর‌্যা খালের মুখ ভরাট করলে আমার ১৫ বিঘা জমির আমন ধান বন্যার পানিতে ডুইবা যাইবো।’

৯০ বছর বয়সি কৃষক আইয়্যুব আলী সরকার বলেন, খালের মুখে জমি ভরাটের কারণে অতি বৃষ্টিতে ইরি ক্ষতিগ্রস্ত ও বন্যায় ছয়টি গ্রামের অন্ত্যত ৫০০ কৃষকের আমন ধান ডুবে যাবে।

আবদুল কাদের ভূঁইয়া বলেন, ওয়াকফ করা (ব্যক্তিগত) সম্পত্তি ভরাট করে মাদ্রাসা নির্মাণ করব, জোর করে কি পানি যাওয়ার রাস্তা নিবেন? ওয়াকফ দলিলের নম্বর কত তা জানতে চাইলে তা বলতে পারেননি, তবে গত ২৫ মার্চ দলিল হয়েছে বলে জানান তিনি। প্রয়োজনে আলোচনা সাপেক্ষে মাদ্রাসার সামনে দিয়ে (খাল থেকে ১৫ গজ পশ্চিমে ফসলি জমির ওপর দিয়ে) পানি যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিবেন বলেও জানান তিনি।

কৃষক আবদুল জলিল বলেন, ‘খাল দিয়া যে পরিমাণ পানি যায়, খেতের ওপর দিয়া পরিমাণে অনেক কম পানি যাব। ধান সেই ডুইবাই থাকব।’

নারান্দিয়া ইউপি চেয়ারম্যান শুকুর মাহমুদ তালুকদার এ বিষয়ে বলেন, কৃষকদের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। পানি প্রবাহ নিশ্চিত করার পর জমি ভরাট করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি (আবদুল কাদের ভূঁইয়া) এ বিষয়টি ভুলভাবে উপস্থাপন করছেন। ফসল উৎপাদন সুরক্ষিত করার লক্ষ্যে পানি প্রবাহ নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহরিয়ার রহমান এ বিষয়ে বলেন, বিষয়টি অবগত নই, অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

"