বিপাকে ঝালকাঠির তরমুজচাষিরা

প্রকাশ : ১১ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০

ঝালকাঠি প্রতিনিধি

করোনাভাইরাসের প্রভাব আর বৈরী আবহাওয়ায় ঝালকাঠির তরমুজ এবং বাঙ্গিচাষিরা বিপাকে পড়েছেন। জেলায় তরমুজ ও বাঙ্গি চাষ করে চোখে-মুখে অন্ধকার দেখছেন চাষিরা। বেসরকারি ঋণদান প্রতিষ্ঠান থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে এখন আসল টাকা পরিশোধ করতেই হিমশিম খাচ্ছেন তারা। বাজারজাত করতে না পারায় পাইকার আসছেন খেতে। এরই মধ্যে আবার গত রোববার দুপুরে ঘণ্টাব্যাপী শীলা বৃষ্টিতে বাড়তি বেদনা যোগ হয়েছে চাষিদের। তাই খেতে থেকেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে তরমুজ ও বাঙ্গি। নিজেরাও বাজারে নিয়ে বিক্রি করতে না পারায় চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন তরমুজ ও বাঙ্গিচাষিরা। ধারদেনা করে পুঁজি খাটিয়ে এখন সর্বস্বান্ত হওয়ার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন তারা। এ বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠতে সরকারি সহায়তার দাবি জানান তরমুজ চাষিরা।

জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ঝালকাঠি জেলার প্রত্যন্ত এলাকায় ১৬ হেক্টর জমিতে তরমুজ ও ৪১ হেক্টর জমিতে বাঙ্গির আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় চার হেক্টরে তরমুজ ও চার হেক্টরে বাঙ্গি, নলছিটি উপজেলায় পাঁচ হেক্টরে তরমুজ ও সাত হেক্টরে বাঙ্গি, রাজাপুর উপজেলায় সাত হেক্টরে তরমুজ ও ২০ হেক্টরে বাঙ্গি, কাঠালিয়া উপজেলায় তরমুজের চাষ না হলেও ১০ হেক্টরে বাঙ্গির চাষ করা হয়েছে।

কোনো কোনো বছর ঝড়-বৃষ্টিতে ফসল কিছুটা নষ্ট হলেও এবারের মতো এমন বিপর্যয় কখনো হয়নি। এ বছর মাঠের পর মাঠ গাছে ছেয়ে গেছে। ফুলও ধরেছে যথাসময়ে। কিন্তু অধিকাংশ খেতে কাক্সিক্ষত ফল আসেনি। চাষিদের প্রাথমিক ধারণা সময়মতো বৃষ্টি না হওয়া এবং ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগের আক্রমণে এবার তরমুজ আবাদে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।

তরমুজ চাষি সাদ্দাম হোসেন জানান, খেত প্রস্তুত করা, সার, ওষুধ, সেচ সব মিলিয়ে তার প্রায় ১০-১২ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। যে তরমুজ ধরেছে, সেগুলো বিক্রির উপযোগী হতেই করোনাভাইরাসের কারণে সারা দেশ অচল হয়ে পড়েছে। বিক্রির সুযোগ নেই। খেতের তরমুজ খেতেই নষ্ট হচ্ছে।

আরেক তরমুজ চাষি লাল মিয়া তরমুজ চাষ করেছেন কিন্তু একটিও তরমুজও বিক্রি করতে পারেননি বলে হতাশা প্রকাশ করেছেন তিনি। একই অবস্থা অন্য চাষিদেরও। রাজাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রিয়াজুল্লাহ বাহাদুর জানান, চলতি মৌসুমে তরমুজ আবাদ অনেক দেরিতে হয়েছে। তা ছাড়া গাছ যখন বড় হয়েছে তখন বৃষ্টির প্রয়োজন ছিল। কিন্তু বৃষ্টি হয়নি। আবার করোনাভাইরাসের কারণে বাজারে সরবরাহ করতে না পারায় চাষিরা বিপাকে পড়েছেন। কৃষকের সার্বিক সহযোগিতায় কৃষি বিভাগ তাদের পাশে রয়েছে। সরকারি প্রণোদনার ব্যবস্থা আসলে যথানিয়মে প্রকৃত চাষিদের তা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

 

"