কমলগঞ্জে কারখানা বন্ধ দুর্ভোগে দেড় হাজার তাঁতি

প্রকাশ : ১১ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সারা দেশের মতো বন্ধ রয়েছে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের আদমপুর মণিপুরি কমপ্লেক্সে তাঁতবস্ত্র বুনন। তবে তাঁতিদের নিজ বাড়িতে তাঁতবস্ত্র বুনন চললেও বাজারে সরবরাহ করতে না পেরে নানা সমস্যায় পড়ে দুর্ভোগে পড়েছেন দেড় হাজার তাঁতি।

সম্প্রতি আদমপুর মণিপুরি কমপ্লেক্সে গেলে সেখানকার মণিপুরি তাঁতবস্ত্র প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রধান প্রশিক্ষক সৌদামনি সিনহা প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, এখানে নিচতলায় সাতটি তাঁত ফ্রেম রয়েছে। এখানে বেশ উন্নতমানের তাঁতের শাড়ি, ওড়না ও ইনাফি তৈরি করা হয়। দ্বিতীয়তলায় রয়েছে তাঁতের পাঁচটি ফ্রেম। দ্বিতীয়তলার ফ্রেম তাঁতে সিল্কের ও ভারতীয় সুতা দিয়ে উন্নতমানের ওড়না ও ইনাফি তৈরি হয়। এ কমপ্লেক্সে ১৬ জন তাঁতি কাজ করেন। করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকারি নির্দেশনায় গত ২৪ মার্চ থেকে প্রাতিষ্ঠানিক এই তাঁত কারখানা বন্ধ রয়েছে। মৈতৈ, বিষ্ণুপ্রিয়া ও পাঙাল (মণিপুরি মুসলিম) এই তিন সম্প্রদায়ের কমপক্ষে ১ হাজার তাঁতি নিজ নিজ বাড়িতে কোমর ও ফ্রেম তাঁতে কাজ করেন। প্রাতিষ্ঠানিক কারখানায় কাজ বন্ধ থাকলেও তারা বাড়ির তাঁতে কাজ করছেন। বাজার বন্ধ থাকায় চাহিদামতো সুতা পাওয়া যাচ্ছে না বলে তাদের তৈরি তাঁতবস্ত্র বাজারজাতও করা যাচ্ছে না। এক্ষেত্রে তারা মহাজনের কাছে আটকা রয়েছেন।

সৌদামনি সিনহা প্রতিদিনের সংবাদকে আরো বলেন, যে শাড়ির দাম আগে ১ হাজার ৪০০ টাকা ছিল এখন তা মহাজনের কাছে ৯০০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। তাও আবার সময় মতো টাকা পাচ্ছেন না তারা।

আদমপুরের তেতইগাঁও গ্রামের মণিপুরি তাঁতি জয়ন্তি দেবী ও আশা রানী দেবীকে দেখা যায় তারা দুজনই নিজ বাড়িতে ফ্রেম তাঁতে ওড়না তৈরিতে ব্যস্ত আছেন। তারা জানান, এখন বাজার বন্ধ থাকায় মহাজনের ইচ্ছামতো দামে অনেক কম দামে তৈরি তাঁতবস্ত্র বিক্রি করতে হচ্ছে। বাজার খোলা থাকলে তৈরি বস্ত্র হাতে রেখে দাম যাচাই করে বিক্রি করা যেত। এজন্য এখন মণিপুরি তাঁতিরা দুর্ভোগের শিকার বলে তারা জানান।

আদমপুর ইউপির জালালপুর গ্রামের তাঁতি নুর নাহার ও বন্ধেরগাঁও গ্রামের তাঁতি শারমিন আক্তার প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, বেশ কয়েক বছর ধরে তারাও মনিপুরি তাঁতবস্ত্র তৈরি করেন। আদমপুর ও ইসলামপুর ইউপিতে কমপক্ষে ৫০০ বাঙালি তাঁতি রয়েছেন বলে তারা জানান। তারা বর্তমান সময়ে বাড়িতে তাঁতবস্ত্র বুনন করলেও বাজারজাত করতে না পারায় তারা মহাজনের দয়ার ওপর নির্ভরশীল। সুতার দাম তেমন না বাড়লেও তৈরি বস্ত্র বাজারে সরবরাহ করা যাচ্ছে না। এক্ষেত্রে মহাজনের দেওয়া দামে বস্ত্র বিক্রি করতে হচ্ছে।

তবে আদমপুরের সুতা ব্যবসায়ী ও তাঁতবস্ত্র ক্রয়কারী মহাজন মজর আলী বলেন, সুতার দাম বাড়েনি। তবে বাজার বন্ধ থাকায় তাঁতিরা বস্ত্র বিক্রি করতে পারছেন না। তিনিও তৈরি বস্ত্র সামান্য মূল্য হাতে রেখে ক্রয় করছেন বলে জানান।

 

"