বিপাকে দোহার-নবাবগঞ্জের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা

‘করোনায় মরার আগে পরিবার নিয়ে না খেয়ে মরতে হবে’

প্রকাশ | ০৯ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০

নবাবগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি

‘ছোট এই দোকানের আয় থেকেই চলে আমার সংসারের সব খরচ। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অসহায় হয়ে পড়েছি। এমন অবস্থা যদি আরো অনেক দিন থাকে তাহলে বিশাল ক্ষতি হয়ে যাবে। পরিবার-পরিজন নিয়ে বিপাকে পড়তে হবে।’ গত মঙ্গলবার সকালে এভাবেই এ প্রতিবেদকের কাছে নিজের অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন নতুন বান্দুরা বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বাবুল মিয়া।

দোকানের সামনে একা বসে ছিলেন এই ব্যবসায়ী। তবে মুখে মাস্ক না থাকায় মাস্ক কোথায় প্রশ্ন করতেই বলেন, ভাই মাস্কের দাম ৪০ টাকা। আর ১০ টাকা জোগাড় করতে পারলে এক কেজি চাল কিনতে পারব। আগে তো খেয়ে বাঁচতে হবে তারপর না হয় করোনায় মরব। যে অবস্থা করোনায় মরার আগে পরিবার পরিজন নিয়ে না খেয়ে মরতে হবে।

ব্যবসা বন্ধ থাকায় বাবুল মিয়ার মতো নবাগঞ্জের অনেকেই দিশাহারা হয়ে পড়েছেন।

দেশে করোনা রুখতে সাধারণ ছুটি চলছে। বন্ধ রয়েছে যাবতীয় যান চলাচল, দোকান-পাট। মানুষকে ঘরে থাকতে বলা হয়েছে। ঘরের বাইরে চলাচলে দেওয়া হয়েছে নিষেধাজ্ঞা। এমন অবস্থায় মহাবিপাকে পড়েছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।

বান্দুরার ব্যবসায়ী বিপ্লব মাহমুদ বলেন, দোকান বন্ধ রাখলে কীভাবে সংসার চালাব। এদিকে সংসার খরচ অন্যদিকে দোকান ভাড়া। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখলে পরিবার পরিজন নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে।

কথা হয় ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ী আলী আকবরের

সঙ্গে। তিনি জানান, ‘তার দুটি সন্তান আছে। পরিবারে একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তিনি। করোনাভাইরাস আতঙ্কের কারণে তার আয় একদম কমে গেছে।

একাধিক ব্যবসায়ীরা জানান, অনেকের ঘরে এখন খাবার নেই। বেশির ভাগ ব্যবসায়ীরাই বিভিন্ন ব্যাংক বা এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসা করছেন। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা কারো কাছে চাইতে পারে না। আবার কেউ সাহায্য নিয়ে এগিয়ে আসে না।

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দোকান ভাড়ার ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

 

"