সাংবাদিককে কার্যালয়ে ডেকে মামলার হুমকি দিলেন ইউএনও

প্রকাশ : ০৯ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০

শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি

বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) ফোন না ধরা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ায় এক সাংবাদিককে ডেকে মামলার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইউএনওর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করেন সাংবাদিক মাসুম হোসেন। মাসুম ‘দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদ’ পত্রিকার বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলা প্রতিনিধি। শাজাহানপুর মডেল প্রেস ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বেও রয়েছেন তিনি।

গত সোমবার মাসুম ফেসবুকে লেখেন, ‘এই দুর্যোগকালীন সময়ে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা পারভীনের দায়িত্ব অবহেলাটা বেড়ে গেছে। তিনি মুঠোফোন রিসিভ একেবারেই করছেন না। অনেকবার ফোন করেও তাকে পাওয়া যায় না। তিনি নিজেকে কী ভাবেন? ওটা সরকারি ফোন নম্বর, তার ব্যক্তিগত নম্বর নয়। ফোন রিসিভ করা তার ইচ্ছা বা অনিচ্ছা না, দায়িত্ব।’

ফেসবুকে এই স্ট্যাটাস দেওয়ার পরপরই এটি আলোচিত হয়ে যায়। স্থানীয় আরো কয়েকজন সাংবাদিক সেখানে মন্তব্য করেন। তারাও লেখেন শাজাহাপুরের ইউএনওকে ফোনে পাওয়া যায় না। এই স্ট্যাটাস দেওয়ার পর থেকে তাকে শাজাহানপুরের একাধিক ব্যক্তি ফোন করে স্ট্যাটাস ডিলিট করতে বলেন। অবশ্য গত মঙ্গলবার দুপুরে তিনি তার স্ট্যাটাস ডিলিটও করেছেন। পরে শাজাহানপুর মডেল প্রেস ক্লাবের সভাপতি আরিফুর রহমান মিঠু তাকে ফোন করেন। ফোনে মিঠু বলেন, ‘উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তোমার সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে চান। কোনো ভুল বোঝাবুঝি হলে সমাধান করতে চান।’

পরে সাংবাদিক মাসুম হোসেন গত মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৩টায় আরিফুর রহমান মিঠুর সঙ্গে শাজাহানপুর ইউএনওর কার্যালয়ে যান। ইউএনওর সঙ্গে কথার মধ্যে ফেসবুকের স্ট্যাটাসের বিষয়টি উঠে আসে। এ সময় তিনি (ইউএনও) বলেন ‘আপনার ওই ফেসবুক স্ট্যাটাসের কারণে আমি আপনার বিরুদ্ধে মামলা করতে পারি। আপনি সাংবাদিকতার কী জানেন? আপনি এভাবে ফেসবুকে লিখতে পারেন না। আমার দায়িত্ব অবহেলা সম্পর্কে আপনি কী জানেন।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে ইউএনও মাহমুদা পারভীনের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহাম্মদ মুঠোফোনে বলেন, ‘আমি ইউএনওর সঙ্গে কথা বলতেছি। যদি হুমকি দিয়ে থাকেন তবে বিষয়টি ঠিক হবে না। আমি বলে দিচ্ছি সবার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করার জন্য।’

 

"