করোনাঝুঁকিতে সিংগাইরের ইটভাটা শ্রমিকরা

প্রকাশ : ০৮ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০

সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সারা দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার চারিগ্রাম ইউনিয়নের আত্রাইল এলাকায় অবস্থিত জেবিসি ইটভাটায় কাজ চলছে পুরোদমে। সরকারি নির্দেশনার তোয়াক্কা না করে শ্রমিকদের জিম্মি করে ভাটা চালাচ্ছে একটি প্রভাবশালী মহল। ভাটার মালিক উপজেলার চারিগ্রাম ইউনিয়নের আত্রাইল গ্রামের গিয়াসউদ্দিন মাদবরের ছেলে জাফর ইকবাল (৩৫)। একই চিত্র দেখা যায় উপজেলার বেশ কয়েকটি ইটভাটায়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই ইটভাটায় প্রতিদিন প্রায় ২ শতাধিক শ্রমিক কাজ করেন। সরকার করোনার প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে সবধরনের চলাচল ও জনসমাগমে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এক্ষেত্রে নিম্নআয়ের মানুষকে সরকারিভাবে সহায়তার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। কিন্তু সিংগাইরের ওই ইটভাটায় সরকারের নির্দেশনা মানা হচ্ছে না। অবাধে চলছে ভাটার কার্যক্রম। শ্রমিকদের দারিদ্রতার সুযোগ নিয়ে ভাটা মালিক একদিনের জন্যও বন্ধ করেননি ভাটা। ইটভাটার শ্রমিকদের নিরাপত্তার জন্য নেই কোনো ব্যবস্থাও।

সরেজমিনে দেখা যায়, স্বাভাবিক নিয়মে কাজ করছেন শ্রমিকরা। করোনাভাইরাস সম্পর্কে এসব শ্রমিকের কোনো ধারণাও নেই। সরকারে নিয়মকানুন উপেক্ষা করে চলছে কাজ। শ্রমিকদের ছবি তুলতে গেলে সাংবাদিকদের বাধার মুখে পড়তে হয়। কাজ শেষে বিকাল বেলা অযথা

বিভিন্ন জায়গায় ঘুরাফেরা করতে দেখা যায় শ্রমিকদের।

ইটভাটার সরদার জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘আমাদের দেশে করোনাভাইরাস আছে জানি। কিন্তু ভাটার মালিক আমাদের কাজ করতে বাধ্য করছে, আমরা কী করব। আমাদের ছেড়ে দেয় না। ফলে আমাদের কাজ করতে হচ্ছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের নিয়ে পরিবারের সবাই চিন্তিত। কারণ দেশের সবাই যার যার ঘরে আছে, কিন্তু আমাদের কাজ করতে হচ্ছে।

ভাটার মালিক মো. জাফর ইকবাল বলেন, ইটভাটা বন্ধে সরকার কোনো দিক-নির্দেশনা দেয়নি। এ বিষয়ে আমরা কোনো চিঠিপত্র পায়নি, তাই কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। তাছাড়া মৌসুম শেষ, এই মুহূর্তে শ্রমিক ছেড়ে দিলে আমাদের বড় ক্ষতি হয়ে যাবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুনা লায়লা বলেন, ‘যেখানে পাঁচজন লোক একত্রিত হতে পারবে না সেখানে এত লোক একত্রিত হয়ে কাজ করছে। আমি বিষয়টি দেখছি।’

 

"