টঙ্গীতে করোনাঝুঁকিতে ৩ লাখ বস্তিবাসী

প্রকাশ : ২৫ মার্চ ২০২০, ০০:০০

নাঈমুল হাসান, টঙ্গী (গাজীপুর)

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে গণমাধ্যমের প্রচার-প্রচারণা ছড়িয়ে পড়া নানা তথ্য ও প্রতিবেশীদের আলোচনায় আতঙ্কমুক্ত হতে পারছেন না গাজীপুরের টঙ্গীর বস্তিবাসী। বস্তির অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও বহুলোকের একত্রে বসবাস করায় করোনা রোগে আক্রান্ত হওয়ার তীব্র ঝুঁকি রয়েছে বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

বস্তিগুলোতে সরেজমিনে দেখা যায়, দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হবার খবরের পর বস্তিগুলোতে সচেতনতার তেমন কোন কার্যক্রম চোখে পড়ে নি। বস্তির পরিবারগুলো এ ব্যাপারে সচেতন না। শিশুরা অবাধে খেলাধুলা করছে। তারা তাদের বাচ্চাদের ঘরের বাইরে বের হতে নিষেধ করছে না। জীবাণুমুক্ত থাকার জন্য সাবান ব্যবহার করছে না। বস্তিবাসিদের নিয়ে কাজ করে এমন একটি সংস্থার কর্মীদের কাজ করতে দেখা যায়। বস্তির বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যসেবায় নেই কোন স্বাস্থ্যকেন্দ্র।

গাজীপুর জেলা প্রশাসকের তথ্যমতে টঙ্গীতে প্রায় ৩ লাখ মানুষ বস্তিতে বাস করেন। যদি কোনো বস্তির একজন ব্যক্তিও এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয় তাহলে সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়বে পুরো বস্তি। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকবে বৃদ্ধ ও শিশুরা। বস্তির অধিকাংশ বাসিন্দাই গরিব। কেউ সিএনজি অটোরিকশা চালক, কেউ রিকশা চালক, কেউবা সিকিউরিটি গার্ড, দিন মজুর, পোশাক শ্রমিক। অন্যদিকে বেশির ভাগ মহিলাই বিভিন্ন বাসাবাড়িতে গৃহ পরিচালিকার কাজ করে।

টঙ্গীর এরশাদ নগর বস্তিতে বসবাস করেন মরিয়ম বেগম। তিনি গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করেন তিনি বলেন, যে বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করি, সেখানে বাধ্যতামূলকভাবে হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত ধুয়ে কাজ করতে হয়। কাপড় ধোয়া থেকে মেঝে সব কিছুতেই জীবাণুনাশক ব্যবহার করা হয়। কিন্তু আমরা এখানে ভাইরাস থেকে বাঁচতে কিছুই ব্যবহার করি না। এখানকার ঘরগুলোতে একসঙ্গে অনেক মানুষের বসবাস। ফলে কেউ আক্রান্ত হলে আলাদা করে রাখার কোনো সুযোগ নেই। এদিকে বস্তিগুলোর আশপাশের ওষুধের ফার্মেসিগুলোতেও কোনো হ্যান্ড স্যানিটাইজার পাওয়া যাচ্ছে না। তবে ফার্মেসি মালিকরা বলছেন, তাদের কাছে থাকা হ্যান্ড স্যানিটাইজার সব বিক্রি হয়ে গেছে।

আইন পেশায় কর্মরত ব্যাংক মাঠ বস্তির স্থায়ী বাসিন্দা নাসির উদ্দিন বলেন, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে সবাইকে সচেতন থাকার জন্য বলে আসছি। কিন্তু কাউকেই এ ব্যাপারে সচেতন মনে হচ্ছে না। তিনি অভিযোগ করে বলেন, এখন পর্যন্ত সিটি করপোরেশনের কোনো সহযোগিতা এখানে আসেনি। কোনো পরিচ্ছন্নতা কর্মীও আমরা লক্ষ দেখি নাই।

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে প্রতিটি ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে আলাদা করে বস্তিবাসীদের জন্য কোন সিন্ধান্ত আসে নি। নির্দেশনা পেলে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

গাজীপুর সিভিল সার্জন ডা. মো. খাইরুজ্জামান এসব বস্তিতে বিশেষ নজর দেওয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে এ প্রতিনিধিকে বলেন, যদি এসব জনবহুল জায়গায় ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে তাহলে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে। যারা বিভিন্ন গণপরিবহণে ও বাসাবাড়িতে কাজ করে তাদের সবার মাস্ক ও হ্যান্ড গ্লাভস ব্যবহার করা উচিত। বস্তিগুলোতে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করতে বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে।

 

"