উল্লাপাড়ার মর্জিনা খাতুন

নেই কোনো ভাতার কার্ড মিলেছে শুধুই আশ্বাস

প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০

উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি

দরিদ্র মর্জিনা খাতুন (৬৪)। তার সরকারি কোন ভাতার কার্ড নেই। বিভিন্ন সময়ে ইউপি জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে তার জন্য কিছু করার শুধুই আশ্বাস মিলেছে। কিন্তু এখনো তার না আছে ভিজিডি, বিধবা ভাতা কার্ড। এক বেলা খেয়ে তো আরেক বেলা না খেয়ে সে দিন পার করছেন বলে জানায়। ছেলে সন্তানদের কাছে এখন হয়েছেন বাড়তি একজন। সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাখুয়া গ্রামের মর্জিন বেগমের স্বামী শামসুল ইসলাম ২০১২ সালে মারা যান। তিনি ছিলেন ‘দিন এনে দিন খাওয়া’ মানুষ। এখন মর্জিনা খাতুনের জমি সম্পত্তি বলতে মাত্র ৯ শতক একটি বসতভিটে রয়েছে। সেখানে কোন মতে ঘর তুলে মাথা গুজে আছেন। সন্তানদের মধ্যে মেয়ে ৩ জনেরই বিয়ে হয়ে গেছে। আর ছেলে সন্তান ২ জনই বিয়ে করে আলাদা সংসার পেতেছেন। মর্জিনা খাতুন বলেন, ‘বিগত সময়ে এলাকার ইউপি জনপ্রতিনিধির কাছে ভিজিডি কার্ডের জন্য বহুবার অনুনয় বিনয় করেছি। এরপর স্বামী মারা গেলে একটি বিধবা কার্ডের জন্য জন প্রতিনিধিদের কাছে বার বার গেছি। সবাই আমার অভাবের কথা জানেন। আমাকে কিছু একটা করে দেওয়ার আশ্বাস দিলেও তা আর কেউ করে দেয়নি। এখন বলছে কার্ড পাওয়ার সময় পার হয়েছে গেছে।’ তিনি জানান, তার সন্তান ২ জনই অভাবি। তারা বিভিন্ন পেশায় ‘দিন আয়’ করে সংসার চালায়। সদর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান শফি উদ্দিন সরকার, মর্জিনা খাতুনকে ভাতা কার্ড দেওয়ার ইচ্ছে আছে। উপজেলা সমাজসেবা অধিদফতর কর্মকর্তা আব্দুল মোতালেব বলেন, ২৯ জানুয়ারি সদর ইউনিয়নে বয়স্ক ভাতার যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ডাকা হয়ে ছিল। এখন সময় পেরিয়ে গেছে। তবুও চেষ্টা করবো।

এদিকে শাহজাদপুর উপজেলা প্রতিনিধি জানান, উপজেলার হাবিবুল্লাহ নগর ইউনিয়নে দুইদিন মাইকিং করে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা ও প্রতিবন্দ্বি ভাতার কার্ডের তালিকা প্রণয়নে উন্মুক্ত স্থানে যাচাই-বাছাই করছে উপজেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা অধিদফতর। গতকাল মঙ্গলবার সকালে হাবিবুল্লাহ নগর ইউনিয়নে এর উদ্বোধন করেন উপজেলা চেয়ারম্যান প্রফেসর আজাদ রহমান, ইউএনও শাহ মো. শামসুজ্জোহা, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার আব্দুল মুতালিব প্রমুখ। পর্যায়ক্রমে ১৩টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় এ ধরণের কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

 

 

"