রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ

মাইকিং শুনে ভাতা কার্ডের আশায় শত শত নারী-পুরুষ

প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি

রাজবাড়ীতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে ভাতাভোগী বাছাই কাজ শুরু করেছেন স্থানীয় প্রশাসন। ভাতাভোগীতে নিজের নাম নিবন্ধন করার আশায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে হাজির হয়েছেন শত শত নারী-পুরুষ। তবে নিবন্ধন হবে মাত্র ২১৪ জন।

জানা যায়, রাজবাড়ী জেলায় এই প্রথম সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ২০১৯-২০ অর্থবছরের বয়স্ক, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীত মহিলা এবং অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা কার্যক্রমের উন্মুক্ত পদ্ধতিতে ভাতাভোগী বাছাই শুরু করেন স্থানীয় প্রশাসন। এই বাছাই পদ্ধতিতে গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের বয়স্ক ৬৯ জন, বিধবা ৫৫ জন এবং প্রতিবন্ধী ৯০জন সহ মোট ২১৪জন নিবন্ধন হবে। তবে ২১৪ জনে জায়গায় শতশত নারী পুরুষ এসেছেন।

কথা হয় মোমেনা বেগমের (৯৫) সঙ্গে। তার জাতীয় পরিচয়পত্র দেখা যায় জন্ম ১০ মে ১৯২৫ ইং। সে হিসেবে তার বর্তমান বয়স ৯৫ বছর। স্বামী মারা গেছেন ২০ বছর পূর্বে। তবে এখন পর্যন্ত তিনি বিধবা অথবা বয়স্ক ভাতার কার্ড পাইনি। পায়নি সরকারী কোন সুযোগ সুবিধা। তিনি বলেন, ‘মেম্বার-চেয়ারম্যানের কাছে অনেক ঘুরাঘুরি করেও কোন লাভ হয়নি। মাইকে শুনলাম এখানে বয়স্ক ভাতার কার্ড দেওয়া হবে। তাই এসেছি।’

তারই মতো আরেক জন মজিরুন নেছার (৯১)। আইডি কার্ডে উল্লেখিত তার জন্ম ১ জানুয়ারি ১৯২৯ইং। তিনি বলেন, ‘অনেক আগে স্বামী মারা গেছে। স্বামী মারা যাওযার পর থেকে খেয়ে না খেয়ে চলতে হয়। কিন্ত মেম্বার-চেয়ারম্যান কোনদিন খবর নেয় না। মাইকে শুনে অনেক কষ্ট করে এসেছি। যদি একটি বয়স্ক কার্ড পাই। তাহলে ঔষুধ কিনতে পারবো।’

উজানচর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নিখিল রায়। তিনি জানান, উন্মুক্ত পদ্ধতিতে ভাতাভোগী বাছাই করায় এলাকাবাসী অনেক খুশি হয়েছে। আমরাও অনেক খুশি হয়েছি। কারণ ভাতাভোগি পাওয়ার তুলনায় অনেক মানুষ। যে কারণে বাছাই করতে আমাদের অনেক সমস্যা হয়।

গোয়ালন্দ ইউএনও মো. রুবায়েত হায়াত শিপলু জানান, উন্মুক্ত পদ্ধতিতে ভাতাভোগী বাছাই করছি, কারণ অনেক অভিযোগ পেয়েছি। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে সরকার কেন্দ্রীয়ভাবে এটা নির্ধারণ করেছে। আগের দিন আমরা ইউনিয়নের সকল ওয়ার্ডে মাইকিং করেছি। এখানে যারা উপস্থিত হয়েছেন এদের মধ্যে বেশি অসহায় তাদের বাছাই করবো।

 

"