ক্ষেতলালে সরকারি গাছ কেটে নিল প্রভাবশালী

প্রকাশ : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০

মিজানুর রহমান, ক্ষেতলাল (জয়পুরহাট)

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার মামুদপুর ইউনিয়নের আঙ্গামাটা নামক সরকারী পুকুর পাড়ের বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ৩০টি গাছ কাটার অভিযোগ পাওয়া গেছে। যার আনুমানিক মূল্য দুই লাখ টাকা। সরকারী স্বার্থ রক্ষায় পুকুরটি নিয়ে গ্রামবাসীর করা মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

এলাকাবাসীর পক্ষে শারফুল ইসলামের অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মামুদপুর মৌজার ১/১নং ডিপি খতিয়ানভুক্ত ১৩১ নং দাগে ১.২৬ একর পুকুর বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে জেলা প্রশাসক নামে আরএস খতিয়ান প্রস্তুত হয়। যাহা বাংলা ১৪২৬-১৪২৮ জলমহল নীতিমালা অনুযায়ী ৩ বছর মেয়াদী ইজারা প্রদান করা হয়। সহকারী কমিশনার (ভূমি) (অ.দা.) ক্ষেতলাল স্বাক্ষরিত ২০১৯ সালের ১০এপ্রিল ৮১৯৬৯/২০ নং ডিসিয়ারের মাধ্যমে নির্ধারিত ইজারা মূল্যে উপজেলার বানিয়াচাপর মৎস্য সমবায় সমিতি বরাবর পুকুরটি হস্তান্তর করা হয়। পরবর্তীতে উপজেলার জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির ওই বছরের ২৯ডিসেম্বর সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক একই কতৃপক্ষের স্বাক্ষরে মামুদপুর মৌজার সাবেক ৭৪ খতিয়ানে ৮০ দাগের ১.২৬ একর ওই পুকুরটির ডিসিয়ারটি বাতিল করেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার রসুলপুর গ্রামের মৃত আব্দুস ছাত্তারের পুত্র প্রভাবশালী নাদিমুজ্জামান বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজ করে ওই সরকারী পুকুরের মালিকানা দাবি করে দীর্ঘদিন যাবৎ ভোগ দখল করে আসছিল। সরকারী খাস পুকুরটি ইতিপূর্বে সরকারীভাবে ইজারা দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে অভিযুক্ত নাদিমুজ্জামান প্রভাব খাটিয়ে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে মালিকানা দাবি করলে কর্র্তৃপক্ষ প্রভাবিত হয়ে ইজারা বাতিল করেন বলে জানা গেছে। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সরকারী পুকুরের পাড় থেকে প্রায় ৩০টি বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কর্তন করে বিক্রি করেছেন অভিযুক্ত নাদিমুজ্জামান। যার আনুমানিক মূল্য ২ লাখ টাকা। সরকারী স্বার্থ সংরক্ষনে জনসাধারনের পক্ষে বর্ণিত সম্পত্তি নিয়ে ভূমি আপিল বোর্ডে মামলা করা হয়। যা রাজশাহীতে সরকার পক্ষে বিচারাধীন রয়েছে।

গাছ কর্তনের বিষয়ে গ্রামবাসি বাধা দিলে নাদিমুজ্জামান ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। এমন পরিস্থিতে কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানান এলাকাবাসি।

মামুদপুর ইউনিয়নের তহশিলদার নুর ইসলাম বলেন, ওই পুকুর নিয়ে মামলা চলছে। আমরা পুকুর পাড়ের গাছ কাটার অভিযোগ পেয়েছি এবং গাছ কাটা বন্ধ করে দিয়েছি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত নাদিমুজ্জামান বলেন, পুকুরটি জমিদার রামকৃষ্ণ পিয়ার অর্পিত সম্পত্তি ছিল পরবর্তিতে তাদের ওয়ারিশগণের নিকট থেকে কোবলা সূত্রে দীর্ঘ ৭০ বছর যাবৎ ভোগদখলে আছি। আমাদের নামে হাল নাগাদ খাজনা খারিজ পরিশোধ আছে।

 

"