ব্রহ্মপুত্রে নাব্য সংকট

কুড়িগ্রামে নৌ-চলাচল ব্যাহত ড্রেজিংয়ের নামে চাঁদা আদায়

প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০

আরিফুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম

ব্রহ্মপুত্রে নাব্যতা সংকটে কুড়িগ্রামের চিলমারী রমনা নৌ বন্দর হতে রৌমারী, রাজীবপুর ও গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ নৌপথে নৌ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। প্রায় এক মাস ধরে এমন নব্য সংকট চললেও এ থেকে উত্তরণে সংশ্লিষ্ট মহলের নিষ্ক্রিয়তায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ওই নৌপথে যাতায়াতকারী মাঝি ও ব্যবসায়ীসহ সাধারণ যাত্রীরা। নৌ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে মাঝিদের কাছে অতিরিক্ত টাকার নিয়ে ড্রেজিংয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে ইজারাদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পানি সংকটে নদের বিশাল এলাকা জুড়ে চর জেগে উঠেছে। নদের প্রশস্ততা কমে গিয়ে নৌ পরিবহণের চলাচলের পথ পরিবর্তনের পাশাপাশি বেড়েছে নৌ পথের দূরত্বও। চিলমারী নৌ বন্দর (রমনা ঘাট) থেকে উত্তরে টোনগ্রাম- সোনালীপাড়া সংলগ্ন নৌপথে নদের পানি কমে গিয়ে ডুবো চর সৃষ্টি হওয়ায় উলিপুর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নসহ রৌমারী ও রাজীবপুর উপজেলার সঙ্গে চিলমারী নৌঘাটে নৌ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ইজারাদার কর্তৃক শ্যালো চালিত ড্রেজার দিয়ে নাব্য সংকট দূর করার চেষ্টা করা হলেও তাতে স্থায়ী কোনও সমাধান হচ্ছে না।

অন্যদিকে চিলমারী নৌ ঘাট থেকে রাজীবপুরের মোহনগঞ্জ ও কোদালকাটি ইউনিয়নসহ গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ নৌ রুট এবং চিলমারীর অস্টমীরচর ইউনিয়নের কয়েকটি চরাঞচলে গমনের একমাত্র নৌপথটিও নাব্য সংকটে পড়েছে। এই নৌপথে প্রায় এক কিলোমিটার জুড়ে নাব্যতা সংকটের কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন চিলমারীর জোরগাছ হাটে লেনদেনকারী ব্যবসায়ী ও কৃষকরা।

জোরগাছ হাটে যাত্রী ও মালামালসহ গরু পরিবহণের কাজে ব্যবহৃত নৌকার মাঝি আজাদ জানান, জোরগাছ হাট থেকে দক্ষিণে ব্রহ্মপুত্র নদের মনতোলার চর এলাকায় প্রায় এক কিলোমিটার জায়গায় নদের পানি কমে গেছে। ওই জায়গায় নৌকার যাত্রীরা নেমে নৌকা হাতে ঠেলে পার না করলে যাতায়াত করা যাচ্ছে না। ফলে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর, কামারজানি, পাঁচপীর, চর কাপাশিয়াসহ রাজীবপুর উপজেলার মোহনগঞ্জ ইউনিয়নের বড়বেড়, নাওশালা, কের্তনটারি, মোল্লারচর, কোদালকাটি ইউনিয়নের বিভিন্ন চরাঞ্চল, চর রাজীবপুর, কড়াইবরিশালসহ চিলমারী উপজেলার অষ্টমীরচর ইউনিয়নের বিভিন্ন চরাঞচলের সাধারণ যাত্রী ও ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। অপরদিকে চিলমারী ঘাটের উত্তরে সৃষ্ট নৌ চ্যানেলে নব্য সংকটে রৌমারী উপজেলা এবং রাজীবপুরের কিছু অংশসহ উলিপুর উপজেলার সাহেবের আলগা, মেকুরের আলগা, জাহাজের চর ও বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের বিভিন্ন অঞ্চলের নৌ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চিলমারী রমনা নৌ ঘাটের একাধিক মাঝি জানান, ঘাটের ইজারাদার রমনা ঘাটের উত্তরের মূল চ্যানেলটি শ্যালো চালিত ড্রেজার দিয়ে খননের ব্যবস্থা নিলেও ড্রেজিং করার নামে দরিদ্র মাঝিদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে। তবে ড্রেজিং করেও সমস্যার উপযুক্ত সমাধান মিলছে না।

মাঝিদের কাছে ড্রেজিংয়ের টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করে চিলমারী নৌ ঘাট ইজারাদারের প্রতিনিধি মো. সাইফুল ইসলাম লিপু বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বারবার নাব্য সংকটে নৌ যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ার কথা জানানোর পরও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। ফলে আমাদের ব্যবসা চলমান রাখার স্বার্থে আমরা ড্রেজিংয়ের উদ্যোগ নিয়ে সাময়িক ভাবে নৌ চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছি।’ মাঝিদের কাছে কেন ড্রেজিংয়ের খরচ নিচ্ছেন জানতে চাইলে লিপু বলেন, ‘সব নৌকার কাছে নয়, শুধুমাত্র মালামাল পরিবহণে ব্যবহৃত নৌকা থেকে সামান্য খরচ নেওয়া হচ্ছে।’ তবে এ ব্যাপারে সংবাদ পরিবশেন না করতে অনুরোধ করেন লিপু।

এ ব্যাপারে চিলমারী উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শওকত আলী সরকার (বীরবিক্রম) জানান, ‘ড্রেজিংয়ের খরচ নৌকার মাঝিদের কাছে নেওয়ার কথা নয়। এটা ইজারাদাররা সমন্বয় করে নৌ চলাচল স্বাভাবিক রাখার কথা। এধরণের ঘটনা ঘটে থাকলে আমি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেবো।’

এ ব্যাপারে জানতে কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলেয়া খাতুন বলেন, ‘নৌকার মাঝিরা টাকা কেন দেয়, এটা ইজারাদাররা খরচ করবে।’

জেলা পরিষদ কর্তৃক ইজারা দেওয়া ঘাটের নৌ চলাচল স্বাভাবিক রাখার দায় কেন নৌকার মাঝিরা নেবেন, এমন প্রশ্নের জবাবে এই নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ‘এক্ষেত্রে কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে ইজারাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ নাব্যতা সংকট নিরসনে পানি উন্নয়ন বোর্ডের করণীয় সম্পর্কে জানতে প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলামকে ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

 

"