খানসামায় ধানের আবাদ ছেড়ে ভুট্টা চাষ

প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০০

খানসামা (দিনাজপুর) প্রতিনিধি

দিনাজপর খানসামা উপজেলায় ধান আবাদের বদলে বড়ছে ভুট্টা চাষ। কয়েকবছর যাবৎ ধানের আবাদ করে লোকসানের মুখে পড়ায় অর্থকরি ফসল হিসেবে ভুট্টার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

কৃষকরা বলছেন, এবার বোরো মওসুমে শীতের প্রকোপে ধানের বীজতলা যে ক্ষতি হয়েছে, তা পোশানোই বড় চিন্তার বিষয়। সার, তেল, শ্রমিক খরচ মিলিয়ে ধানচাষ করে বিঘা প্রতি ২-৩ হাজার বেশি লাভ না হওয়ায় কৃষক বোরো চাষে অনিহা প্রকাশ করেছে।

উপজেলা ভেড়ভেড়ি ইউনিয়নের জোলা পাড়ার আমীন বলেন, কি হেউত (আমন) আর কি বোরো, ধান চাষ করলেই ফকির। তাই এবার বোরো ধানের তিন বিঘা (৫০ শতাংশ) জমিতে পপকর্ন (চিকন) ও মোটা ভুট্টা লাগাইছি। ভূট্টার আবাদে খরচ কম কিন্তু লাভ বেশি।

ভাবকি ইউনিয়নের কৃষক জালাল জানান,আমাদের এলাকায় বেশি ভাগই ভুট্টা চাষ করে আসছেন। আমাদের এলাকায় শুধু মাত্র রোপা আমন মোসুমে রোপা আমন ধান চাষ করে। একই ধরনে কথা বলেন খামারপাড়া ইউনিয়নের কৃষক ওবায়দুল হক, গোয়ালডিহির কৃষক জাহিদ পাটোয়ারি। আঙ্গারপাড়ার কৃষক আলম বলেন, বোরো মৌসুমে এলাকার প্রায় সব কৃষক চিকন ভূট্টা বা মোটা ভূট্টা আবাদ করে।

উপজেলা কৃষি অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, এ বছর উপজেলায় বোরো উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রা ছিল ৭ হাজার ৩০০ হেক্টর, কিন্তু অর্জন ৭ হাজার হেক্টর। অপর দিকে চলতি মৌসুমে কৃষকরা যে পরিমাণ পপকর্ন ও মোটা ভূট্টা রোপন করছে, তা লক্ষ্য মাত্রাকে ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জানতে চাইলে কৃষি সম্প্রসারন কর্মকর্তা ইয়াসমিন আক্তার জানায় এবার বোরো মৌসুমে বোরোধান চাষের লক্ষ্য মাত্রা ৪ হাজার ২৪৫ হেক্টর আছে। উপজেলার কৃষক ১৯০ হেক্টর জমিতে বোরোধানের বীজতলা তৈরি করেছে।

 

"