উখিয়া-টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শিক্ষণ কেন্দ্র

বেতনবৈষম্যের অভিযোগ স্থানীয় শিক্ষকদের

প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০০

কায়সার হামিদ মানিক, উখিয়া (কক্সবাজার)

কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে শিক্ষণ কেন্দ্রের মাধ্যমে রোহিঙ্গা শিশু-কিশোরদের পাঠদান দিচ্ছে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন এনজিও। তবে সেখানে বাংলাদেশি শিক্ষকদের সঙ্গে বার্মিজ শিক্ষকের চরম বেতন বৈষম্য হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ দেশের নাগরিক না হয়েও বাংলাদেশিদের সমান সুযোগ কিভাবে পান এমন প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

বাংলাদেশী শিক্ষকেরা ইংরেজী, গণিত, জীবন দক্ষতা এই তিনটা বিষয় পাঠদান করে পায় ১৪ হাজার ৬০০ টাকা। এর মধ্যে যাতায়াত ভাতা ৩ হাজার ৬০০ টাকা যুক্ত আছে। অপর দিকে রোহিঙ্গা শিক্ষকেরা বার্মিজ বিষয় পাঠদান করে পায় ১১ হাজার টাকাসহ ক্যাম্পের ভিতরে সব সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন। কিন্তু সেখানে বাংলাদেশিরা ক্যাম্পের সব সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এমনকি রোহিঙ্গাদের আরো সুযোগ সুবিধা দিচ্ছে বলে জানা গেছে। এদিকে রোহিঙ্গাদের বেতন বৃদ্ধি করতে বাজেটের দরকার হয় না, কিন্তু বাজেটের দোহাই দিয়ে আটকে থাকছে বাংলাদেশীদের বেতন বৃদ্ধির প্রক্রিয়া।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী বরাবরই স্থানীয় জনগণের সুযোগ-সুবিধা কথা চিন্তা করতে বললেও এনজিওরা রোহিঙ্গাদের সুযোগ-সুবিধা দানেই ব্যস্ত। অভিযোগ আছে, বিভিন্ন এনজিওর এডুকেশন সেক্টরে কিছু অসাধু কর্মকর্তা রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফেতর না যাওয়া মদদ দিচ্ছেন। অভিযোগ করে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, রোহিঙ্গা শিক্ষকদের বেতন যদি ৮ হাজার টাকা থেকে বৃদ্ধি ১১ হাজার টাকা করা হয়, তখন বাংলাদেশি শিক্ষকদের বেতন ১১ টাকা থেকে ১৪ হাজার ৬০০ টাকা করা হয়। কিন্তু রোহিঙ্গাদের সুযোগ-সুবিধার সঙ্গে তুলনা করা হলে স্থানীয় শিক্ষকদের নূন্যতম বেতন ২০ হাজার টাকা করা অত্যাবশকীয়। তা না হওয়ায় যারা ক্যাম্পে শিক্ষকতায় নিয়োজিত তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে চলতে আর্থিক অনটনের পড়তে হচ্ছে। মাসের পর মাস গেলেও তাদের বেতন ভাতাসহ আনুসাঙ্গিক সুবিধা বাড়ছে না। রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘুরে শিক্ষণ কেন্দ্রের একাধিক শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়।

কয়েকজন শিক্ষক বিনয়ের সঙ্গে তাদের সমস্যা ও আর্থিক টানাপোড়নের কথা বলেন। তারা বলেন, এনজিও পরিচালিত শিক্ষন কেন্দ্রে কর্মরত স্থানীয় শিক্ষকদের বেতন-ভাতা ১৪ হাজার ৬০০ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ। এই টাকা থেকে যাতায়ত, টিফিন ও চা-নাস্তাসহ অন্যখরচ মেটাতে অর্ধেকেরও বেশি টাকা চলে যাচ্ছে প্রতিমাসে। অবশিষ্ট ৫-৬ হাজার টাকা নিয়ে সংসার চলতে পারে কি? এ সংকট উত্তোরনে জেলা প্রশাসক, আরআরআরসি এবং ইউএনওর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত এক মহিলা শিক্ষিকা বলেন, ‘উপরের কর্মকর্তাদের যখন বেতন বাড়ানোর কথা বলা হয় তখন তারা শিক্ষকদের ভোলনটিয়ার বলে দাবি করেন। এনজিও কর্তারা মাঝে মাঝে স্কুলে এসে বলেন, এতো বেতন পাচ্ছো তোমরা, কোন অজুহাত দেখাবে না, চাকরি চলে যাবে। সারা দিন কষ্টের পর তাদের কাছে শিক্ষকের কোন দাম নেই। গত ২০২০ জানুয়ারিতে বেতন বাড়লে সবার বাড়বে। কিন্তু মিথ্যা আশ্বাস কেন দিলো তারা। শিক্ষকেরা এত অসহায় কেন?’

রোহিঙ্গা শিক্ষকরা ক্যাম্পে বসবাস করে বিনা খরছে সন্তোষ জনক বেতন পাচ্ছেন। অথচ স্থানীয় বাংলাদেশীরা বেতন বৈষম্যের শিকার। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নজর দেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে বলে মনে করেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধি উখিয়ার নাগরিক অধিকার বাস্তবায়ন পরিষদের মহাসচিব ও সিনিয়র সাংবাদিক গফুর মিয়া চৌধুরী।

 

"