পলাশে ডায়িং কারখানার বর্জ্যে হাঁড়িদোয়া দূষণ

অন্য স্থান থেকে মাছ এলেও দু-তিন দিনেই ভেসে ওঠে

প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০০

আল-আমিন মিয়া, পলাশ (নরসিংদী)

নরসিংদীর পলাশে ডায়িং কারখানার বর্জ্যে দূষিত হয়ে পড়েছে হাঁড়িদোয়া নদী। উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত এই নদীর পানি দূষিত হওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয়রা। এমনকি বর্ষায় অন্যস্থান থেকে নদীতে মাছ এলেও কয়েকদিনে মধ্যে মরে ভেসে উঠে। অপর দিকে দখলে কবলে মরতে বসেছে এই নদী। এতে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে হচ্ছে পরিবেশ ও ফসলি জমি।

উপজেলার চরসিন্দুর ইউনিয়নের আলীনগরের শীতলক্ষ্যা থেকে উৎপত্তি হাঁড়িদোয়া নদী শিবপুরের ওপর দিয়ে হয়ে নরসিংদীর মেঘনা নদীতে গিয়ে মিশেছে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হাঁড়িদোয়া নদীর অধিকাংশ পলাশ উপজেলার উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ পাশের অর্ধশত গ্রামের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এর তীরেই গড়ে উঠা নামে-বেনামে ডাইং কারখানার থেকে বিষাক্ত ক্যামিকেল বর্জ্যরে দূষিত পানি সরাসরি নদীতে ফেলা হচ্ছে। এতে পরিবেশ দূষণ ও চাষাবাদের ফসলি জমির মারাত্মক ক্ষতি করছে।

সরেজমিন উপজেলার জিনারদী ইউনিয়নের রাঘবদী গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, হাঁড়িদোয়া নদীর পানি একেবারে কালো। যে কারণে এ নদীর পানি ব্যবহার করে না এলাকাবাসী। স্থানীয়রা জানান, এক সময় হাঁড়িদোয়ার পানি দিয়ে হাজার হাজার একর জমিতে বোরো ধান চাষসহ গৃহস্থালির সব কাজই করতেন গ্রামবাসীরা। কিন্তু নদীর তীরে গড়ে উঠা ডাইং কারখানার বর্জ্য কোনো প্রকাশ পরিশোধন ছাড়াই নদীতে ফেলা হচ্ছে। এখন এই দূষিত পানি মেঘনা নদীতেও মিশে যাচ্ছে।

ডাইং কারখানার ক্যামিকেল বর্জ্য সরাসরি হাঁড়িদোয়ায় ফেলার এক দৃশ্য দেখা যায় উপজেলার জিনারদী ইউনিয়নের রাঘবদী গ্রামে। সেখানে জান্নাত ডাইং নামে এক কারখানার বিষাক্ত ক্যামিকেল বর্জ্য পাইপ দিয়ে সরাসরি নদীতে ছাড়ছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই ডাইং কারখানার নিজস্ব বর্জ্য নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই তারা সরাসরি পাইপ দিয়ে হারিদোয়া নদীতে বিষাক্ত ক্যামিকেল পানি ছাড়ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আমির হোসেন প্রতিদিনের সংবাদকে জানান, জান্নাত ডাইং কারখানার বিষাক্ত পানিতে নদীর পানি দীর্ঘ বছর ধরে দূষিত হচ্ছে। এ নদীতে একসময় দেশি অনেক রকমের মাছ পাওয়া যেত। কিন্তু এখন পাওয়া যায় না। ডাইং কারখানার রঙিন পানিতে নদীর পানি নষ্ট হয়ে গেছে। এই পানি লাগলে শরীর চুলকায়। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আগে পানি দিয়ে দুই ধারের জমিতে বোরো ধান চাষ হতো। আর এখন পানির পঁচা গন্ধে কাছে যাওয়া যায় না। বর্ষায় অন্য জায়গা থেকে কিছু মাছ এই নদীতে আসলেও কয়েক দিন থাকার পর মরে ভেসে ওঠে। শুধু তাই নয়, এই নদীর পানি এতটাই বিষাক্ত যে এখানের পানিতে হাঁসও নামে না।

খলিল হোসেন নামে এক কৃষক জানান, হাঁড়িদোয়া নদীতে শুধু ডাইং কারখানার বিষাক্ত বর্জ্যই ফেলা হচ্ছে না। এ নদীর দুইধারে গড়ে উঠা কারখানাগুলো প্রতিনিয়ত নদীটি ভরাট করে দখলে নিয়ে যাচ্ছে। নদীর পানি দূষণ বন্ধ ও তীর দখল মুক্ত করার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রত্যাশা করেন স্থানীয়রা।

পলাশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন ফারহানা আলী। প্রতিদিনের সংবাদকে তিনি বলেন, হাঁড়িদোয়া নদীতে ডাইং কারখানার বিষাক্ত ক্যামিকেলের পানি ছাড়ার বিষয়টি শুনেছি। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

"