ময়মনসিংহের গৌরীপুর

শহীদ সুধীরের সমাধির পাশে ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়!

প্রকাশ : ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ০০:০০

রাকিবুল ইসলাম রাকিব, গৌরীপুর (ময়মনসিংহ)

ময়মনসিংহের গৌরীপুরের শ্যামগঞ্জ রেলওয়ে মাঠের পাশে শহীদ সুধীর বড়–য়ার সমাধিস্থল (স্মৃতিসৌধ) অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে আছে। সমাধির সামীনাঘেঁষে উঠেছে ভ্রাম্যমাণ দোকান-পাট ও অবৈধ স্থাপনা। স্থানীয়রা সমাধির আশেপাশে মলমূত্র ত্যাগ ও ময়লা-আবর্জনা ফেলায় স্থানটি ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।

জানা গেছে, শহীদ সুধীর বড়–য়ার বাড়ি চট্টগ্রাম। তিনি তৎকালীন ইপিআর এ চাকরি করতনে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি অংশগ্রহণ করেন। ’৭১ সালের ৯ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণে নেত্রকোনা থেকে পাকবাহিনী ট্রেনযোগে পালিয়ে যাচ্ছিলো। এসময় শ্যামগঞ্জে পাকবাহিনীর ব্রাশফায়ারে শহীদ হন সুধীর বড়–য়া। পরে শ্যামগঞ্জ রেলওয়ে মাঠের উত্তরপাশে তাকে সমাহিত করা হয়। স্বাধীনতার পর শহীদ সুধীর বড়–য়ার স্মৃতি রক্ষায় তাকে যেখানে সমাহিত করা হয়েছিলো সেই জায়গায় স্মৃতিসৌধ গড়ে তোলা হয়।

সরজমিনে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার মইলাকান্দা ইউনিয়নের শ্যামগঞ্জ রেলওয়ে মাঠের উত্তর পাশে লেভেল ক্রসিংয়ের পাশেই শহীদ সুধীর বড়–য়ার স্মৃতিসৌধ। প্রয়োজনীয় সংস্কার রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অরক্ষিত স্মৃতিসৌধের পাশে আগাছা জন্মে জঞ্জাল হয়েছে। স্মৃতিসৌধের সীমানা ঘেঁষে গড়ে উঠেছে ভ্রাম্যমাণ দোকানপাট ও অবৈধ স্থাপনা। মানুষ যত্রত্রত মলমূত্র ত্যাগ করছে। স্মৃতিসৌধের পাশে একটি ডোবায় স্থানীয়দের ফেলা ময়লা-আবর্জনা জমে স্থানটি ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।

জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমা- কাউন্সিলের সাবেক কার্যকরী সদস্য মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম মুহাম্মদ আজাদ বলেন, সুধীর বড়য়া মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে পাকবাহিনীর গুলিতে শহীদ হয়েছেন। একজন বীর শহীদের সমাধিস্থলের পাশে ময়লা-আবর্জনার ভাগাড় থাকবে এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা নির্মাণের মাধ্যমে এই শহীদের সমাধিস্থল রক্ষা করা হোক সরকারের কাছে এটাই দাবি।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমা-ার মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহিম বলেন, সরকারের কাছে আমাদের দাবি সুধীর বড়–য়ার সমাধিস্থলের চারপাশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে সামীনা প্রাচীর নির্মাণের পাশাপাশি আশেপাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে জায়গাটির সৌন্দর্য্য বর্ধন করা হোক। পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধে এই শহীদের বীরত্বের ইতিহাস পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে স্মৃতিসৌধের পাশে নামফলক করে প্রদর্শনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেজুতি ধর বলেন, শহীদ সুধীর বড়ুয়ার স্মৃতিসৌধ রক্ষায় খোঁজ-খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

"