সৈয়দপুরে ইটভাটায় কৃষি জমির মাটি, পোড়ানো হচ্ছে কাঠ

প্রকাশ : ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ০০:০০

জহুরুল ইসলাম খোকন, সৈয়দপুর (নীলফামারী)

নীলফামারীর সৈয়দপুরে চলতি মৌসুমে ইট তৈরির জন্য ২৬টি ইটভাটা প্রস্তুত করেছে ভাটা মালিকরা। স্তূপ করে রাখা হয়েছে জ্বালানী কাঠ। তবে একটি ইটভাটাও শতভাগ আইন মেনে গড়ে ওঠেনি। গাছ কাটার কারণে একদিকে পরিবেশ অন্যদিকে ফসলী জমির টপসয়েল কেটে ফেলায় জমি হারাচ্ছে তার উর্বরতা। ইট তৈরির কারণে কৃষি জমি যেমন হ্রাস পাচ্ছে তেমনি আবাদি জমি হারাচ্ছে তার উর্বরতা। বন উজার করে গাছ কেটে ফেলায় হুমকির মুখে পড়েছে পরিবেশ।

অভিযোগ রয়েছে উপজেলার ২৬টি ইটভাটার মধ্যে মাত্র ৬/৭টি মোটামুটি আইন মেনে চললেও বাকীগুলি চলছে কৌশলে অথবা ঘুষ বাণিজ্যে। আর এসব ইটভাটা গড়ে ওঠেছে আবাদ যোগ্য জমির ওপর। এসব ভাটাগুলোতে কৃষি জমির উপরিভাগের মাটি কেটে তৈরি করা হচ্ছে ইট। ফলে সেগুলি অনাবাদি থেকে যাচ্ছে।

স্থানীয়দের মতে, ফসলী জমির উপরিভাগের মাটি কেটে নেওয়ার ফলে উর্বর শক্তি নষ্ট হচ্ছে। ফসলও হচ্ছে না আগের মতো। এক মৌসুমে ১টি ইটভাটা তৈরি করতে প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার ঘনফুট মাটি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। সেই হিসেবে ২৬টি ইটভাটা তৈরি করতে প্রায় ১ কোটি ৯২ হাজার ঘনফুট মাটি ব্যবহার হয়ে থাকে। অনেক সময় ফসলের মূল্য না পেয়ে কৃষকরা ইটভাটা মালিকদের কাছে মূল্যবান জমির উপরিভাগের মাটি বিক্রি করে দিচ্ছেন। আর ভাটার মালিকরাও সুযোগ বুঝে কৃষকদের সবুজ বেষ্টনির গাছ কম দামে কিনে উজার করে দিচ্ছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইটভাটার এক মালিক জানায়, ইটভাটা শুরু করার আগে বিভিন্ন খাতে অর্থ ব্যয় করতে হয়। যেমন, কাস্টমস ট্যাক্স, ইনকাম ট্যাক্স, পরিবেশ সার্টিফিকেট, ইউনিয়ন বা পৌর এলাকার ট্রেড লাইসেন্স ও জমির বাণিজ্য খাজনা। এছাড়া রয়েছে বিএসটিআই, শিল্প কারখানা, ফায়ার, জেলা প্রশাসকের লাইসেন্স ও আয়কার। মাঝে মধ্যে বিভিন্ন অনুদান হিসেবে ইটও দিতে হয়। উল্লেখিত বিষয়গুলো না সামলালে ইটভাটা থেকে আয়করা অসম্ভব বলে জানান তিনি।

স্থানীয় বেশ কয়েকজন কৃষক জানান, উপজেলায় প্রায় সাড়ে ৯ হাজার একর জমিতে উন্নত মানের ফসল উৎপাদন হতো। কিন্তু পর্যাপ্ত ইটভাটার কারণে বর্তমানে ৩ হাজার হেক্টর জমিতেও সঠিকভাবে ফসল আবাদ হয় না। জমির টপসয়েল দিয়ে ই্টবানানো এবং কালো ধোয়ায় জমির উর্বরতা কমে যাচ্ছে। পরিবেশ পড়েছে হুমকির মুখে। অনেক ইটভাটার মালিকদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকলেও তারা প্রশাসনকে ম্যানেজ করে জমির টপসয়েল কেটে ইট পোড়ানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ইটভাটার মালিক সমিতির সভাপতি নুর উদ্দিন জানান, ২-৪ জন ছাড়া প্রায় সকলেও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রয়েছে। কৃষকরা তাদের সমস্যার কথা জানালে অবশ্যই তা সমাধান করা হবে বলে জানান তিনি। সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হুমায়রা মন্ডল জানান, ইটভাটার কারণে উপজেলার সিংহভাগ আবাদী জমির উর্বরতা কমে যাওয়ায় পর্যাপ্ত ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। যেসব ইটভাটার মালিকদের শতভাগ বৈধ কাগজপত্র নেই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবী জানান তিনি।

 

"