বাঁশের তৈরি পণ্য বিক্রি করে স্বাবলম্বী গুলনগর

প্রকাশ : ২৩ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০

আশরাফুল আলম, সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ)

বাঁশ দিয়ে আসবাব, শৌখিন, গৃহস্থালিসহ বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার গুলনগর গ্রামের মানুষ। উপজেলা সাদিপুর ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী এই গ্রামের প্রায় ৬০ ভাগ মানুষ বংশ পরম্পরায় এসব তৈরি করছেন। স্থানীদের চাহিদা মিটিয়ে দেশের বড় হাট বাজারগুলোতে পাঠাচ্ছে বাঁশের সামগ্রী পাঠাচ্ছেন এই গ্রামের বাসিন্দারা। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পাইকার-মহাজনরা এ গ্রামের কারিগরদের কাছ থেকে বাঁশের তৈরি পণ্য কিনে নিয়ে বিক্রি করছেন।

এখানে উৎপাদিত পণ্যসামগ্রীর মধ্যে আছে, বাঁশ দিয়ে পাইছা, পাতি, কুলা, খাঁচা, বড় টুকরি, ছোট টুকরি, মুরগীর খাঁচা, মাছ রাখার খাঁচি, চালনী, বুকসেলফ, কলমদানী ও ফুলদানীসহ নিত্য প্রয়োজনী জিনিসপত্র।

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার গুলনগর গ্রামের বাসিন্দা রোকেয়া বেগম (৫৪), তার স্বামী আসন আলী স্বাধীনতা পূর্বে এ গ্রামে বাঁশের তৈরি পণ্য তৈরি করা শুরু করেন। তার হাত ধরে প্রায় ৩৭ বছর ধরে এই পেশায় আছেন তিনি। সারা বছরই এসব পণ্যের চাহিদা থাকে বিধায় লাভের পরিমাণ বেশি। প্রতিটি পণ্য বিক্রি করলে ৪০-৫০ টাকার মত লাভ হয়। এর মাধ্যমে তাদের অর্থনৈতিক সাচ্ছলতাও এসেছে। কয়েক বছর আগে তার স্বামী মারা গেলেও তিনি এই পেশায় আছেন।

তিনি জানান, তাদের দেখাদেখি এ গ্রামের মানুষ এ পেশায় যুক্ত হয়েছেন। নিজেদের কাজে পাশাপাশি গুলনগর গ্রামের অধিকাংশ বাসিন্দাদের বাঁশ দিয়ে বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি করার কাজও তিনি শিখিয়েছেন। এদের মধ্যে অনেক নারী এ পেশায় এগিয়ে রয়েছেন। এক সময়ের অভাব অনটনে থাকা মানুষেরা এখন অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বী হয়েছেন।

গতকাল শুক্রবার সকালে গুলনগর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের মানুষ তাদের বাড়ির উঠানে বাঁশ কেটে বিভিন্ন পণ্য সামগ্রী তৈরি করছেন। পুরুষদের সঙ্গে নারীরাও সমান তালে এ কাজ করছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আলী আকবর জানান, বিভিন্ন স্থান থেকে বাঁশ সংগ্রহ করে আমরা বাঁশের নানা রকম সামগ্রী তৈরি করি। এসব পণ্য তৈরি করে গ্রামের বেশির ভাগ মানুষ জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। বংশ পরম্পরায় আমরা এ কাজ করছি। একাজ শিখতে লেখাপড়া জানতে হয় না। আমরা তাই তেমন লেখাপড়া শিখতে না পারলেও ছেলে মেয়েদের স্কুলে পাঠাই।

বাঁশের তৈরি বিভিন্ন পণ্য তৈরির কারিগর গুলনগর গ্রামের জমিলা খাতুন (৪৫) জানান, আমাদের গ্রামের আসন আলীর মাধ্যমে এ গ্রামের বেশির ভাগ মানুষ এ পেশায় জড়িত হয়েছেন। গ্রামের পুরুষদের পাশাপাশি প্রায় ৩০ ভাগ নারী এখন এ পেশায় যুক্ত। এ পেশায় কাজ করে গ্রামের একজন দক্ষ নারী কারিগর মাসে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করে থাকে। বর্তমানে এ গ্রামে এখন কারো ঘরে অভাব অনটন নেই বললেই চলে, সবাই অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বী।

সাদিপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ জানান, গ্রামীণ সংস্কৃতির ঐতিহ্য বাঁশের তৈরি পণ্য। গুলনগর গ্রামের নারী-পুরুষরা বংশ পরম্পরায় এ পেশায় যুক্ত। এ পেশায় তাদের গ্রামের অনেকেরই ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে। ছেলে মেয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে তারা বেশ ভাল আছেন।

"