নোয়াখালী

ওষুধের মূল্য নিয়ে প্রতারণা

ফার্মেসি ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্যে অস্থির রোগীরা

প্রকাশ : ১৫ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০

জুয়েল রানা লিটন, নোয়াখালী

নোয়াখালীর সোনাপুর বাজারে যমুনা ফার্মেসীতে একটি ক্রিমের প্যাকেটের গায়ের মুদ্রিত মূল্য মুছে দিয়ে ৫৫ টাকার স্থলে ৮০ টাকা করা হয়েছে। এর পাশের সবুজ ফার্মেসীতে এক পাতা এ্যালার্জির ট্যাবলেটের প্রকৃত দাম ৭০ টাকার স্থলে ১২০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। এমন চিত্র পুরো জেলাজুড়ে। যদিও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রোকনুজ্জামান মুঠোফোনে এ প্রতিনিধিকে বলেছেন, বিষয়টি অবশ্যই দেখবেন। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোন অভিযানের খবর পাওয়া যায়নি।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, নোয়াখালীতে ওষুধ বিক্রয় সমিতির নামে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কায়েমী স্বার্থ চরিতার্থ করতে গিয়ে জেলাজুড়ে মূল্য বৃদ্ধিতে অরাজকতা সৃষ্টি করেছে। কার্যত এ জেলায় ওষুধের বাজার ক্রমশ নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন এলাকায় ওষুধ বাণিজ্যে গড়ে ওঠেছে সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট। বাজারে প্রচলিত বিভিন্ন ওষুধের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে নির্ধারিত মূল্যের কয়েকগুণ বেশি দাম রাখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওষুধের মূল্য নিয়ে নৈরাজ্য দীর্ঘদিনের। আর প্রশাসন থেকে এসবের যথোপযুক্ত দেখভাল না করায় এর ব্যাপকতা দিনদিন আরো প্রসারিত হচ্ছে। ২০০৮ সালে অপরিহার্য ওষুধের ক্যাটাগরিতে সরকার যে ১১৭টি ওষুধের মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছে, সেই ওষুধগুলোর মূল্যেরই কোনো ঠিক নেই। একেক কোম্পানি একেক দাম রাখছে। আগের মতোই বিভিন্ন অজুহাতে যেমন খুশি মূল্য রাখছে ফার্মেসিগুলো। এই নির্ধারিত মূল্যের বাইরেও শত শত ওষুধের মূল্য বেশি রাখা হচ্ছে। এই নৈরাজ্যের বাজারে ওষুধ কোম্পানি আর বিক্রেতা ফার্মেসিগুলো মিলে নেমেছে ভয়াবহ অরাজকতায়।

অভিযোগ রয়েছে, জেলার বিভিন্ন বেসরকারী হাসপাতালে রক্ষিত ফার্মেসীগুলোতেও প্যাকেটের গায়ের মূল্যের চেয়ে দ্বিগুণ মূল্য আদায় করা হচ্ছে। জরুরী প্রয়োজনে রোগীরাও এরকম গলাকাটা দাম মেনে নিচ্ছে। সোনাপুরের একটি ফার্মেসির শিট বের করলে দেখা যায়, আকাশ-পাতাল দাম রাখা হয়েছে ক্রেতাদের কাছ থেকে। জানা গেছে, দেশি কোম্পানির সঙ্গে বিদেশি কোম্পানির দামের পার্থক্য দ্বিগুণ। উল্লেখ্য, মাত্র ১১৭টি ওষুধ ছাড়া বাকিগুলোর মূল্য নির্ধারণের ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই ওষুধ প্রশাসনের। ফলে কারণে-অকারণে ওষুধের এই দাম বাড়ানোর নির্যাতন সহ্য করতে হয় ক্রেতাদের। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ওষুধের প্যাকেটে খুচরা মূল্য উল্লেখ থাকলেও সে দামে বিক্রি হচ্ছে না।

ওষুধের দোকানদাররা বলছেন, তারা বাড়তি দামে এ ওষুধ কিনতে হয়। তাই বাধ্য হয়ে বাড়দিত দামেই বিক্রি করছেন। এভাবে জেলাব্যাপী বৈধ ও অবৈধ উপায়ে পরিচালিত ফার্মেসীগুলোতে প্রায় ওষুধ ‘বাড়তি দামে’ বিক্রি করছেন। রোগীদের আত্মীয়-স্বজন অনেকটা বাধ্য হয়েই এই বাড়তি দামে ওষুধ কিনছেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও জেলা বিএমএর সাধারণ সম্পাদক আবদুস সাত্তার ফরায়েজী বলেন, ক্রেতাদের সঙ্গে ওষুধের দাম নিয়ে প্রতারণা বন্ধে তদারকি বাড়ানো দরকার। ফার্মেসিতে ওষুধের দাম টাঙানো থাকলে ক্রেতাদেরও যাচাই করতে সুবিধা হতো। আর নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণা ঠেকানো সম্ভব।

"