নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

ক্যাম্পাস নয় যেন ময়লার ভাগাড়

প্রকাশ : ১২ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০

নোবিপ্রবি প্রতিনিধি

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি)। যেখানে-সেখানে পড়ে আছে কফ-থুতু, পান-বিড়ির উচ্ছিষ্টাংশ, ফলমূলের খোসা, কাগজ, প্লাস্টিকের ব্যাগ, পানির বোতল, চিপসের প্যাকেটসহ বিভিন্ন খাবারের প্যাকেট বা পলিথিন। ক্যাম্পাসে নির্ধারিত জায়গা ও পর্যাপ্ত ডাস্টবিন না থাকায় যত্রতত্র আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। ফলে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস যেন ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।

জানা গেছে, ক্যাম্পাসে ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য কয়েকটি ডাস্টবিন থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপর্যাপ্ত। ফলে ক্যাম্পাসে যত্রতত্র ময়লা ফেলছেন শিক্ষার্থী ও দোকানিরা। তাছাড়া ময়লা পরিষ্কারের জন্য পর্যাপ্ত পরিচ্ছন্নকর্মী না থাকায় আবর্জনার স্তূপ থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। ফলে দুষিত হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ।

গত ১ ও ২ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ওই দুইদিন সারাদেশ থেকে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও দর্শনার্থীরা আসেন ক্যাম্পাসে। সে সময় পর্যাপ্ত ডাস্টবিন না পেয়ে তারা পানির বোতল, প্যাকেটজাত খাবারের মোড়ক যত্রতত্র ফেলে রাখেন। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছু ময়লা অপসারণ করা হলেও ক্যাম্পাসের কয়েকটি স্থানে এখনও ময়লার স্তূপ দেখা গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় পার্ক ক্যান্টিনের সামনে, গোল চত্বরের উত্তর পাশে, একাডেমিক ভবন, অডিটোরিয়ামের আশপাশ, লাইব্রেরি ভবন ও নীল দীঘির পাড়ে ময়লা আবর্জানা পড়ে রয়েছে। এছাড়াও সদ্য চালু হওয়া বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের দক্ষিণে ময়লার স্তূপ রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত গণিত বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত ডাস্টবিন না থাকায় আনাচে-কানাচে ময়লার স্তূপ জমেছে। এজন্য দোকানিরা বেশি দায়ী। তবে শিক্ষার্থীদের দায়ও কম নয়।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচ্ছন্ন বিভাগের কর্মকর্তা মো. আবদুল হামিদ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালযের পর্যাপ্ত পরিচ্ছন্নতা কর্মী নেই। প্রশাসনের কাছে আমরা পরিচ্ছন্নতা কর্মী চেয়ে কয়েকবার আবেদন করেছি। আশাকরি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিগগিরই জনবল নিয়োগ দেবে। বিশ্ববিদ্যালয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আমরা বেশ কিছু স্থায়ী ডাস্টবিন নির্মাণের পরিকল্পনা করেছি। তবে সবাই সচেতন হলে ক্যাম্পাসের পরিবেশ সুন্দর থাকবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. মমিনুল হক বলেন, ‘নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ থাকায় এখন পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিয়োগ দেওয়া যাচ্ছে না। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি আপাতত দিনমজুর দিয়ে নিয়মিত ক্যাম্পাস পরিষ্কার রাখবো। আর ডাস্টবিন বাড়ানোর বিষয়ে আমরা পরিকল্পনা নিয়েছি। খুব দ্রুত কাজ শুরু হবে।’

"