লাউয়াছড়ায় ১৫ দিনের ব্যবধানে গাড়িচাপায় বিপন্ন ২ প্রাণীর মৃত্যু

প্রকাশ : ১০ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ভিতর দিয়ে চলে যাওয়া কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল সড়কে রাস্তা পারাপারের সময় গাড়িচাপায় গত ২৮ অক্টোবর সোমবার রাতে বিপন্ন প্রজাতির একটি সজারুর মৃত্যু হয়েছিল। এদিকে, গত শুক্রবার রাত ৮টায় গাড়িচাপায় মারা গেছে বিপন্ন প্রজাতির একটি গন্ধগকুল। ফলে মাত্র ১২ দিনের ব্যবধানে দুইটি বিপন্ন প্রজাতির প্রাণীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটল।

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের বন বিট কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জাতীয় উদ্যান এলাকায় একটু সতর্ক হয়ে ধীরগতিতে যানবাহন চালানোর জন্য গাড়িচালকদের নিয়ে ২৮ অক্টোবর সোমবার সকালে উদ্যানের ভেতর একটি সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সে সভায় বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তাসহ অন্যান্য কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। আর সোমবার দিনগত রাত ১২টায় জাতীয় উদ্যানের প্রবেশপথ সংলগ্ন গাড়ি পার্কিং এলাকায় একটি রাস্তা পারাপারকালে গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায় বিপন্ন প্রজাতির একটি সজারু। ঘটনার খবর পেয়ে লাউয়াছড়া বন বিট কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে বনকর্মীরা রাস্তা থেকে মারা যাওয়া সজারু উদ্ধার করে মাটিচাপা দিয়েছিলেন।

এদিকে, ৮ নভেম্বর শুক্রবার রাত ৮টায় জাতীয় উদ্যানের ভেতর সড়ক পারাপারের সময় গাড়িচাপায় মারা গেছে একটি গন্ধগকুল। মারা যাওয়া প্রাণীটিকে উদ্ধার করে জাতীয় উদ্যানের ভেতর মাটিচাপা দেওয়া হয়।

লাউয়াছড়া বনবিট কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, চালকরা বেশির ভাগ অসচেতন তাই দুর্ঘটনা ঘটে। লাউয়াছড়া বন রেঞ্জ কর্মকর্তা মোনায়েম হোসেন বলেন, এ উদ্যানে সাধারণত রাতে বন্যপ্রাণি চলাচল করে থাকে। আর রাতে চলাচলকারী দ্রুতগামি গাড়ির চাপায় বন্যপ্রাণি মারা যাচ্ছে। বন পরিবেশ ও সড়ক মন্ত্রনালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এসড়কটি যানবাহন চলাচলের জন্য বন্ধ করে বিকল্প সড়ক চালুর কথা রয়েছে। বিকল্প সড়ক চালু বন্যপ্রাণির মৃত্যু হবে না বলে জানান তিনি।

"