ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুলের’ প্রভাবে সুন্দরবনে রাস উৎসব বন্ধ

ফিরিয়ে আনা হচ্ছে জেলে ও পর্যটকদের

প্রকাশ : ০৯ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০

বাগেরহাট প্রতিনিধি

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে বাগেরহাটে বৃষ্টির তীব্রতা সময়ের সাথে সাথে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বুলবুল’র প্রভাবে সুন্দরবনের শত বছরের ঐতিহ্যবাহি রাস উৎসব বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সেই সাথে সুন্দরবনের দুবলা শুটকি পল্লীর ১৫ হাজার জেলেসহ সুন্দরবনের অবস্থানরত পর্যটকদের ফিরিয়ে আনতে কাজ শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। বাগেরহাট জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গতকাল শুক্রবার দুপুরে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবেলায় জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সভায় ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবেলায় জেলার ২৩৪টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র, ১০টি মেডিকেল টিম, ১০টি কন্টোল রুম ও জেলার সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে বলে জানানো হয়। এছাড়াও সভায় রেড ক্রিসেন্ট, ফায়ার সার্ভিস ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কয়েক শত স্বেচ্ছাসেবকদের প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মামুনুর রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় পুলিশ সুপার পংকজ চন্দ্র রায়, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কামরুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাবৃন্দসহ সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবেলায় জনসাধারনদের সচেতন করতে জেলাব্যাপী মাইকিং শুরু করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় বুলবুল ধেয়ে আসার খরবে বাগেরহাটসহ সুন্দরবন উপকূল এলাকা জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। শুক্রবার সকাল থেকেই উপকূলসহ বাগেরহাটে বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া বইতে শুরু হযেছে। ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারনে বঙ্গোপসাগর উত্তাল হয়ে উঠেছে। ঘূর্নিঝড়ের আগাম প্রস্তুতি হিসেবে সুন্দরবনের দেশী-বিদেশী পর্যটকদের ভ্রমনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পাশাপাশি বনের ভিতরে ভ্রমনে থাকা পর্যটকটের ফিনিয়ে আনার কাজ শুরু হয়েছে। একই সাথে সুন্দরবনে দুবলারচরে শুঁটকি পল্লীতে অবস্থারত ১৫ হাজার জেলেকে ফিরিয়ে আনতে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসন কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর সাথে সমন্ময় করে কাজ করছে। ঘূর্ণিঝড়ের কারনে রাস পূর্ণিমাকে সামনে রেখে ১০ নভেম্বর থেকে সুন্দরবনের আলোরকোলে শুরু হতে যাওয়া ৩ দিনব্যাপী রাস উৎসব বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। সুন্দরবন বিভাগের সকল কর্মকর্তা ও বনরক্ষীদের নিরাপদ থেকে বণ্যপ্রাণি রক্ষায় কাজ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অপরদিকে, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় মোংলা সমুদ্র বন্দরে খোলা হয়েছে ৩টি কন্ট্রোল রুম। বন্দরে এই মুহুর্তে মেশিনারী, ক্লিংকার, সার, জিপসাম, পাথর, সিরামিক ও কয়লাসহ দেশী-বিদেশি মোট ১৪টি বাণিজ্যিক জাহাজ অবস্থান করছে। এসব জাহাজে পণ্য খালাসে বিশেষ সতর্কতা জারি করা বন্দর কর্তৃপক্ষ।

"