আগাম সবজি চাষে ব্যস্ত লালমনিরহাটের কৃষক

প্রকাশ : ০৯ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০

লালমনিরহাট প্রতিনিধি

লোকসান থেকে বাঁচার আশায় আগাম শীতকালীন সবজি চাষে আগ্রহ বেড়েছে সীমান্তবর্তী জেলা লালমনিরহাটে। এ বছর বৃষ্টি কম হওয়ায় উঁচু জমিতে শীতকালীন বিভিন্ন জাতের সবজির চারা রোপণ ও পরিচর্যায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন চাষিরা। প্রতি বছরের মতো এবারেও লালমনিরহাটের আগাম শীতের সবজি যাবে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে।

বাণিজ্যিক ভিত্তিতে আগাম সবজি চাষে নজর কেড়েছেন লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নের দুরাকুটি এলাকার কৃষক আমজাদ হোসেন ও মজিবর রহমান, সম্পর্কে তারা চাচা ভাতিজা।

৪ থেকে ৫ বছর ধরে দুরাকুটি এলাকার সাড়ে তিন একর জমি বছরে ৮০ হাজার টাকায় লিজ নিয়ে সারা বছর বিভিন্ন জাতের সবজি চাষ করছেন তারা। খেত থেকে সরাসরি সবজি নিয়ে যান পাইকাররা। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে নিয়ে যান তারা।

আমজাদ হোসেন ও মজিবর রহমান বলেন, সবজির কদর সবসময়, সারা দেশেই রয়েছে। তবে তা আগাম চাষে লাভ বেশি। আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করলে কীটনাশকমুক্ত সবজি চাষ করা সম্ভব। আমরা সেই পদ্ধতিই অনুসরণ করার চেষ্টা করছি। এতে সবজির গুণগতমান ভালো থাকে। চাহিদাও অনেক বেশি থাকে বলে জানান তারা।

নার্সারি থেকে সবজির চারা সংগ্রহ করে ২০ থেকে ২৫ দিন আগে রোপণ করেছেন। সাড়ে তিন একর জমিতে প্রায় ৩৫ থেকে ৩৮ হাজার কপির চারা রোপণ করেছেন। প্রতিটি চারার পেছনে তাদের খরচ হবে প্রায় পাঁচ থেকে সাত টাকা। আড়াই থেকে তিন মাসের মধ্যে প্রতিটি কপি খেতেই বিক্রি হবে ১৫ থেকে ২০ টাকা মূল্যে। কপিখেত থেকে মাত্র তিন মাসে সাড়ে তিন থেকে চার লাখ টাকা আয় করার আশা করছেন ওই দুই কৃষক।

ওই এলাকার কৃষক ছকমল হোসেন ও মিজানুর রহমান জানান, সবজি চারা রোপণের আগে জমি তৈরি করে কিছু দিন রাখা হয়। এতে কপির চারা রোগ-বালাই প্রতিরোধের ক্ষমতা সঞ্চয় করে এবং গাছগুলো সবল হয়। এ বছর বৃষ্টি কম হওয়ায় চারাগুলো নষ্ট হয়নি। ফলে উৎপাদন খরচ কিছুটা কম হওয়ার আশা করছেন তারা।

শুধু মোগলহাট এলাকায় নয় লালমনিরহাট জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে আগাম শীতের সবজি চাষ হচ্ছে। সবজি চাষের ব্যাপকতার জন্য আদিতমারী উপজেলার কমলাবাড়ী, সারপুকুর, ভেলাবাড়ী, দুর্গাপুর, সদর উপজেলার বড়বাড়ী, গোকুন্ডা, মোগলহাট, মহেন্দ্রনগর, কালীগঞ্জ উপজেলার চলবলা, মদাতি, চন্দ্রপুর, হাতীবান্ধা উপজেলার সিন্দুর্না, ভেলাগুঁড়ি, সিংগিমারী, টংভাঙ্গা এবং পাটগ্রাম উপজেলার বাউরা ও কুচলিবাড়ী ইউনিয়নে বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে বিভিন্ন জাতের সবজি। শীতের শুরুতে ট্রাকে ট্রাকে ঢাকাসহ দেশে বিভিন্ন জেলায় যাবে এ সবজি।

কমলাবাড়ী গ্রামের সবজি চাষি আমিন মিয়া জানান, সবজি চাষের জন্য জমি প্রস্তুতের কাজ চলছে। এই সপ্তাহেই মুলাবীজ বপন ও কপির চারা রোপণ করবেন তিনি। কপির চারা রোপণ থেকে ৭৫ থেকে ৮০ দিনের মধ্যে ফসল বাজারে তোলা যায়। এ বছর তিন বিঘা জমিতে বিভিন্ন জাতের সবজি চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।

লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, গত বছর এ জেলায় ৬ হাজার ২০৫ হেক্টর জমিতে আগাম জাতের বিভিন্ন সবজি চাষ হয়েছে। চলতি বছর সাড়ে ৬ হাজার হেক্টর জমির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যার মধ্যে চলতি সপ্তাহে প্রায় ১ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে রবি ১৮/১৯ জাতের আগাম সবজি চাষ হয়েছে। মার্চের মধ্যবর্তী পর্যন্ত এ রোপণ ও বপন চলবে।

লালমনিরহাট সদর উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, কৃষকরা যে ফসলে মুনাফা পায়, সেটাতেই ঝুঁকে পড়েন। তাই আগাম সবজি চাষে ঝুঁকেছেন। লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক বিদু ভুষণ রায় বলেন, কৃষি বিভাগের লোকজনের নিয়মিত মনিটরিংয়ে আধুনিক পদ্ধতির ব্যবহার বেড়েছে। আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে উৎপাদন বাড়ায় কৃষকের মুনাফাও বেড়েছে কয়েক গুণ।

"