পীরগাছার কুঁচিয়া যাচ্ছে বিদেশে

প্রকাশ : ০৯ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০

পীরগাছা (রংপুর) প্রতিনিধি

রংপুরের পীরগাছা উপজেলার ইটাকুমারী ইউনিয়নের আদিবাসী পল্লীর প্রায় শতাধিক পরিবার কুঁচিয়া সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। আদিবাসীদের সংগ্রহ করা এসব কুঁচিয়া এখন চীন, হংকং, তাইওয়ান ও আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রফতানি হচ্ছে।

আদিবাসীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বংশপরস্পরায় দীর্ঘদিন থেকে তারা খাল, বিল, নদী ও ডোবাসহ বিভিন্ন জলাশয় থেকে কুঁচিয়া মাছ সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। আগে বাজারে কুঁচিয়ার তেমন চাহিদা ছিল না। দামও ছিল কম। গত ২/৩ বছর ধরে বিদেশে রফতানি শুরু হওয়ার পর কুঁচিয়ার কদর বেড়েছে। দামও ভালো। আর এসব কুঁচিয়া মাছ কেনার জন্য উপজেলার কল্যাণী ইউনিয়নের তালুক কল্যাণী গ্রামে গড়ে উঠেছে আড়ৎ। প্রতি সপ্তাহে ওই আড়ৎ থেকে প্রচুর পরিমাণে কুঁচিয়া মাছ বিদেশে রফতানির জন্য পাঠানো হচ্ছে ঢাকায়।

কুঁচিয়া মাছ মূলত অঞ্চলভেদে কুঁচে, কুঁইচ্চা, কুঁচিয়া বা কুঁচে বাইম নামেই পরিচিত। রাক্ষুসে স্বভাবের এ মাছের প্রধান খাদ্য বিভিন্ন প্রজাতির ছোট মাছ, জলজ পোকা ও প্রাণি। একটি মা কুঁচিয়া মাছ একসঙ্গে সহস্রাধিক বাচ্চা দিতে পারে। বছরের নভেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত কুঁচিয়া মাছ ধরার মৌসুম হলেও এপ্রিল মাসে বেশি পরিমাণে কুঁচিয়া মাছ পাওয়া যায়। বিশেষ করে কুঁচিয়া মাছ মানুষ বিভিন্ন রোগের প্রতিকারের জন্যও খেয়ে থাকেন। প্রতিদিন একজন মংস্য শিকারি গড়ে চার থেকে সাত কেজি পর্যন্ত কুঁচিয়া মাছ ধরেন।

আদিবাসী পল্লীর কুঁচিয়া মাছ শিকারি নিমাই চন্দ্র বলেন, ‘পুকুর অথবা জলাশয়ের ধারে ছোট ছোট গর্ত চিহ্নিত করে কুঁচিয়া মাছ ধরি। এসব কুঁচিয়া স্থানীয়ভাবে গড়ে ওঠা আড়তে বিক্রি করা হয়।’

আরেক আদিবাসী সরেন প্রিয় চন্দ্র জানান, ‘প্রতিদিন সকালে দল বেঁধে কুঁচিয়া শিকারে বের হন তারা। সাধারণত প্রতি দলে সদস্য থাকে দুই থেকে তিনজন। সারাদিন কুচিয়া ধরে সন্ধ্যায় আড়তে বিক্রি করা হয় ১৫০-২০০ টাকা কেজি দরে। এভাবেই চলছে তাদের সংসার। বছরের বাকি মাসগুলোতে তাদের থাকতে হয় অনাহারে-অর্ধাহারে।

এ ব্যাপারে আড়তদার আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমরা সরাসরি কুঁচিয়া বিদেশে পাঠাতে পারি না। আমরা স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠাই। সেখান থেকে ঢাকার আড়তদাররা চীন, হংকং, ভারত ও আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রফতানি করেন।

"