বিভিন্ন স্থানে নদীতে ভাঙন ঝুঁকিতে তীরবর্তী বাসিন্দারা

প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

মাগুড়ার শ্রীপুরে গড়াই নদীর ভাঙনে নিশ্চিহ্ন হতে চলেছে দোরাননগর গ্রাম। এদিকে গোপালগঞ্জে মধুমতীর ভাঙনে প্রায় ২ কিলোমিটার এলাকা নদীতে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। অন্যদিকে খুলনা কয়রা উপজেলার শাকাড়িয়া নদীর ভাঙনের কবলে পড়েছে দক্ষিন বেদকাশির বেড়িবাঁধ। এছাড়া কুড়িগ্রামের ভাঙন দেখা দিয়েছে। মাগুরা থেকে আইয়ুব হোসেন খান, গোপালগঞ্জ থেকে দুলাল বিশ্বাস, খুলনার কয়রা থেকে মজিবার রহমান ও কুড়িগ্রামের উলিপুর থেকে একেএম মজাহারুল ইসলাম মিলনের পাঠান খবর:

মাগুরা প্রতিনিধি জানান, জেলার শ্রীপুর উপজেলার গড়াই নদীর ভাঙনে প্রায় নিশ্চিহ্ন হতে চলেছে কাদিরপাড়া ইউনিয়নের দোরাননগর গ্রাম। ইতোমধ্যে ভাঙনের শিকার ওই গ্রামের প্রায় অর্ধশত পরিবার অন্যের জায়গায় অথবা সরকারি স্থানে মাথা গোঁজার ঠাই করে নিয়েছে।

এদিকে ভাঙনকবলিত দোরানরগর গ্রাম রক্ষায় স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাড. সাইফুজ্জামান শিখরের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০০ মিটার এলাকায় সাড়ে ৭ হাজার জিও ব্যাগ স্থাপন করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

ক্ষতিগ্রস্ত দোরাননগর গ্রামের সাবেক মেম্বার রমেস চন্দ্র ঘোষ জানান, জিও ব্যাগ ফেলানোর সময় এলাকাবাসি ভালভাবে স্থাপনের জন্য বললেও পাউবো ঠিকাদাররা ইচ্ছা মতো কাজ করে চলে যায় ফলে। ফলে জিও ব্যাগগুলো পানি সরে যাওয়ার পরপরই নদীতে নেমে যাচ্ছে।

জানতে চাইলে, মাগুরা পাউবো নির্বাহী প্রকৌশলী সরোয়ার জাহান সুজন জানান, বর্ষার পানি নদীতে নেমে যাওয়ার পর জিও ব্যাগগুলো নিচে নেমে যেতে পারে, তবে ঐ এলাকায় পূর্বের ন্যায় ক্ষতির সম্ভবনা কম থাকবে।

এদিকে গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, জেলার সদর উপজেলার গোবরা ইউনিয়নের সর্ববৃহৎ জনপদ চরগোবরা এলাকা। কিন্তু সম্প্রতি মধুমতীর ভাঙনে প্রায় ২ কিলোমিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে আছে। গত এক সপ্তাহের ভাঙনে ১৫-১৬ একর জমিসহ প্রায় ২০-২২টি পরিবারের বসত ভিটা নদী গর্ভে চলে গেছে।

এ প্রসঙ্গে গোবরা ইউপি চেয়ারম্যান সফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, আমি প্রায় বিশদিন আগে নদী ভাঙনের বিষয়টি সদর ইউএনও মো. সাদিকুর রহমান খানের নজরে আনি। তিনি বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসক ও জেলা পাউবো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কিন্তু দৃশ্যমান কোনো কার্যক্রম এখনো দেখা যাচ্ছে না। নিজেও কয়েকবার পাউবো কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি, কিন্তু আশ্বাসই ছাড়া কিছুই পাইনি।

জানাতে চাইলে জেলা পাউবো নির্বাহী প্রকৌশলী বিশ্বজিৎ বৈদ্য বলেন, চরগোবরা এলাকায় নদী ভাঙন ঠেকাতে ২-১ দিনের মধ্যেই জরুরিভিত্তিতে কাজ শুরু করবো, পাশাপাশি স্থায়ীভাবে ভাঙন প্রতিরোধের জন্য প্রকল্পভিত্তিক কাজের পরিকল্পনা চলছে, ইতিমধ্যে সার্ভের কাজ শুরু হয়েছে।

অপরদিকে খুলনার কয়রা উপজেলা প্রতিনিধি জানিয়েছেন, খুলনার উপকূলীয় জনপদ কয়রা উপজেলায় প্রায় ২৫০ মিটার এলাকা শাকাড়িয়া নদীর ভাঙনের কবলে পড়েছে। উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের আংটিহারা গেটের গোড়া থেকে পূর্বদিকে ওই এলাকায় বেড়িবাঁধের সিংহভা ভেঙে গেছে। এখন জরুরিভিত্তিতে বেড়িবাঁধ সংস্কার করা না হলে যে কোন মুহূর্তে প্লাবিত হওয়ার আশংকায় দিন কাটাচ্ছে এলাকাবাসী।

সরেজমিনে ভাঙনকবলিত এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বেড়িবাঁধের উপরিভাগে কোথাও কোথাও আনুমানিক ৩ ফুটে এসে ঠেকেছে। এই অবস্থার মধ্যে সম্প্রতি উল্লিখিত স্থানের গীরেন্দ্রনাথ সরদার ও শ্রীপদ ম-লের বসতবাড়ির লাগোয়া বেড়িবাঁধ হঠাৎ ধসে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।

দক্ষিণ বেদকাশি ইউপি চেয়ারম্যান জিএম শামছুর রহমান বলেন, ‘ইউনিয়নের যে কোন স্থান থেকে বেড়িবাঁধ ভেঙে গেলে সমস্ত ইউনিয়ন লোনা পানিতে প্লাবিত হবে। আংটিহারা ভাঙন দেখে ইউনিয়ন পরিষদের তহবিল থেকে অর্থ দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ক্জা করে যাচ্ছি তবে সেটি টেকসই হবে কিন সন্দেহ আছি।’

পাউবো সেকশন কর্মকর্তা মো. মশিউল আলম বলেন, আংটিহারা বেড়িবাঁধ ভাঙন এলাকা পরিদর্শন শেষে সার্বিক বিষয় নিয়ে পাউবোর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জাননো হয়েছে। আশা করি উল্লিখিত স্থানে ভেড়িবাঁধ সংস্কারের কাজ অতিতাড়াতাড়ি শুরু করা হবে।

এছাড়া কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলা প্রতিনিধি জানান, জেলার উলিপুরে ব্রম্মপুত্র নদেও এক সপ্তাহের ব্যবধানে নতুন করে শুরু হওয়া ভাঙনে বসতভিটাসহ আবাদি জমি নদীতে চলে যাচ্ছে। এদিকে তিন কিলোমিটার ভাঙনে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড সম্প্রতি ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে ভাঙন কবলিত ৬০ মিটার স্থানে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিং করেন। পাউবো কর্তৃপক্ষ জানান, বরাদ্দ না থাকায় কিছুই করার নেই।

উপজেলার হায়িতা ইউনিয়নের একাব্বর আলী জানান, ‘আটবার বাড়ি ভাংলং, এবার নয়বার হসে। নদীর এ জন্তন্না না থামালে হামার যাবার আর জাগা নাই’। হাতিয়া ইউপি চেয়ারম্যান বিএম আবুল হোসেন বলেন, যেভাবে ভাঙন শুরু হয়েছে দ্রুত কার্যকরী ব্যবস্থা না নিলে ওয়াবদা বাঁধসহ হাতিয়া ইউনিয়নের অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীতে বিলীন হয়ে যাবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানান, পরবর্তীতে ৬০০ মিটার টেন্ডার গৃহীত হয়েছে, অনুমোদন হলেই কাজ শুরু হবে।

"