কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় বাণিজ্য অনুষদ

সেমিনার লাইব্রেরি শুধু অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের!

প্রকাশ : ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০

স্বকৃত গালিব, কুবি

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাণিজ্য অনুষদের চারটি বিভাগের ১ সহস্রাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করলেও সেমিনার-লাইব্রেরি ব্যবহার করতে পারছেন না তারা। বরং শুধু অনিয়মিত (সন্ধ্যাকালীন) শিক্ষার্থীরা ব্যবহার করছেন এই লাইব্রেরি। এতে গবেষণা করতে না পেরে ক্ষুব্ধ সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

প্রশাসন বলছে, অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের অর্থে তৈরি লাইব্রেরিটি তৈরি করা হয়েছে, তাই শুধু তারাই ব্যবহার করতে পারে। তবে শিক্ষার্থীরা বলছেন, লাইব্রেরিটি সব শিক্ষার্থীদের জন্য খোলা থাকতো তাহলে আমাদের অর্থ ও সময় উভয় সাশ্রয় হতো।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য অনুষদের চারটি বিভাগের ১ হাজার ৩০০ শিক্ষার্থীর গবেষণা ও পড়াশোনার সুবিধার্থে একটি সেমিনার লাইব্রেরি তৈরি করা হয়। কিন্তু লাইব্রেরিটি সপ্তাহের দুইদিন শুধু সন্ধ্যাকালী শিক্ষার্থীদের জন্য খোলা হয়। এতে লাইব্রেরিটি সাধারণ শিক্ষার্থীরা ব্যবহার করতে পারেন না। ফলে শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে গবেষণার কাজে ইন্টারনেট ও বই পড়তে সেন্ট্রাল লাইব্রেরির ওপর নির্ভরশীল থাকতে হয়। কিন্তু সেন্ট্রাল লাইব্রেরিতে নির্দিষ্ট কোর্সের ওপর সমসাময়িক বই কম থাকায় নিয়মিত পড়াশোনা ও গবেষণায় পিছিয়ে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য অনুষদের সেমিনার লাইব্রেরি সূত্রে জানা যায়, অনুষদের অধীনে মার্কেটিং, ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং, ব্যবস্থাপনা শিক্ষা, একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস্ চারটি বিভাগ রয়েছে। চারটি বিভাগের অনিয়মিত (সন্ধ্যাকালীন) শিক্ষার্থীদের জন্য সেমিনার লাইব্রেরিতে প্রায় দেড় হাজার বই রয়েছে। লাইব্রেরিটি দেখভাল করার জন্য প্রশাসন ভবনের কর্মচারী মো. আলমগীর হোসেনকে লাইব্রেরিয়ান হিসেবে শুক্র ও শনিবারের জন্য চুক্তি ভিত্তিতে নিয়োগ দিয়েছে বাণিজ্য অনুষদ প্রশাসন। ফলে লাইব্রেরিটি শুক্র ও শনিবার সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত অনিয়মিত (সন্ধ্যাকালীন) শিক্ষার্থীদের জন্য খোলা থাকে। এই সময় সন্ধ্যাকালীন শিক্ষার্থীরা লাইব্রেরিতে বসে বই পড়তে ও এক মাসের জন্য লাইব্রেরি থেকে বই নিয়ে নিজের কাছে রাখতে পারে। আবার কেউ ইচ্ছা করলে সেমিনার লাইব্রেরি থেকে বই নিয়ে ফটোকপি করার ব্যাবস্থা রয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাণিজ্য অনুষদের নিচ তলায় সেমিনার লাইব্রেরিটি সপ্তাহে ৫ দিন তালা থাকলেও শুক্র ও শনিবার অনিয়মিত (সন্ধ্যাকালীন) শিক্ষার্থীদের জন্য খোলা রয়েছে। লাইব্রেরিটিতে ২৪ জন বসার মতন সারি সারি চেয়ার টেবিল সাজানো। চারটি আলমারি ভর্তি রয়েছে অনুষদের চারটি বিভাগের প্রয়োজনীয় বই। আর অনিয়মিত (সন্ধ্যাকালীন) শিক্ষার্থীরা এই লাইব্রেরিতে বসে পড়ছে বিভিন্ন ধরনের বই। দেখে বুঝবার উপায় নেই যে, লাইব্রেরি সপ্তাহে পাঁচ দিনই বন্ধ থাকে।

এ বিষয়ে ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থী আনিছুর রহমান প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে পর্যাপ্ত বই না থাকায় আমরা ঢাকা থেকে বই কিনে এনে পড়ি। আবার অনেক সময় বই কিনতে না পারলে, বড় ভাইয়া-আপুদের কাছ থেকে বই নিয়ে ফটোকপি করে পড়ি। সেমিনার লাইব্রেরিটি যদি সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য খোলা থাকতো তাহলে আমাদের অর্থ ও সময় উভয় সাশ্রয় হতো।

বাণিজ্য অনুষদের একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, বার বার প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানিয়েছি যেন, সেমিনার লাইব্রেরিটি সপ্তাহে সাত দিন খোলা থাকে। আর প্রশাসনের কাছ থেকে প্রতিবারই বলা হয়েছে, অনিয়মিত (সন্ধ্যাকালীন) শিক্ষার্থীদের অর্থে সেমিনার লাইব্রেরিটি তৈরি করা হয়েছে, তাই শুধু তারাই সেমিনার লাইব্রেরি ব্যবহার করবে। তারা ক্ষোভ করে বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থী, আর আমাদের জন্য সকল সুযোগ সুবিধা থাকার কথা থাকলেও, আজ অর্থের কাছে সকল সুযোগ-সুবিধা বিক্রি হয়ে গেছে।

জানতে চাইলে বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, পর্যাপ্ত অর্থ ও লোকবলের অভাবে সেমিনার লাইব্রেরিটি সবার জন্য উন্মুক্ত করতে পারছি না। তবে ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছ থেকে অর্থ সহযোগিতা পেলে সেমিনার লাইব্রেরিটি সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

"