নারায়ণগঞ্জের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক

সিদ্ধিরগঞ্জে মহাসড়ক দখল করে বাজার

প্রকাশ : ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দখল করে বাজার গড়ে তুলেছেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা। এক থেকে দেড় লাখ টাকা অগ্রিম ও দৈনিক ১০০ থেকে ২০০ টাকা ভাড়ায় মহাসড়কের দক্ষিণ পাশে শিমরাইল মোড়ে এ বাজার বসিয়েছে বলে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।

ব্যবসায়ী ও বাজার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রেডিমেড পোশাক, জুতা, মোবাইল এক্সেসরিজ, ফলসহ বিভিন্ন রকমের ৩ শতাধিক দোকান রয়েছে এ বাজারে। সড়কে নির্মিত ফুটওভার ব্রিজের ওপরও বসেছে দোকান। ফলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পথচারীদের।

পথাচারীরা জানান, গার্মেন্টস ছুটির পর প্রতিদিন সন্ধ্যায় পথচারীদের ভিড় প্রকট হয়। ফুটওভার ব্রিজ দিয়ে চলাচল কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। প্রচ- ভিড়ে প্রতিনিয়তই ঘটে পকেটমারের ঘটনা। ভিড়ের মধ্যে প্রতিনিয়তই নারীদের বখাটেদের হাতে লাঞ্ছিত ও বিব্রত হতে হচ্ছে বলে জানান, আদমজী ইপিজেডের পোশাক কারখানার শ্রমিক ইয়াছমিন আক্তার, লিপি বেগম, সাথী ও বিউটি।

স্থানীয়রা জানান, মহাসড়কের দক্ষিণ পাশে মার্কেটের সামনে সরকারি জায়গার ফুটপাত উচ্ছেদ করে মহাসড়কের সঙ্গে মিলিয়ে বাইপাস একটি সড়ক নির্মাণ করে নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। যানজট কমাতে জেলা শহর থেকে আসা গাড়ি ঢাকার দিকে যেতে প্রায় তিনশ’ ফুট বাইপাস সড়ক নির্মাণ করা হয়। কিন্তু জেলা সওজ বিভাগকে ম্যানেজ করে সড়কটি দখল করে বাজার করে প্রভাবশালীরা। এখন বাজারে শুধু চাঁদাবাজি আর ভাড়া বাণিজ্যই নয়, অবৈধ ভাবে বিদ্যুৎ লাইন সংযোগ দেওয়া হয়েছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, বাইপাস সড়কের পুরোটাই দখল করে দুই পাশ ও মাঝখান দিয়ে লাইন করে বসানো হয়েছে দোকান। পথচারী রবিউল, আব্দুল জব্বার, শফিউল আলম সড়কে বাজার বসানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

অগ্রিম ও দৈনিক ভাড়া দিয়ে দোকান বসিয়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী জানান, পাঁচ ফুট জায়গার দোকান দেড় লাখ আর ১০ ফুট জায়গা ৩ লাখ টাকা করে অগ্রিম দিতে হয়েছে। এছাড়া দৈনিক ১০০ থেকে ২০০ টাকা ভাড়া দিচ্ছেন তারা। তারা জানান, আলম ওরফে গোধুলী আলম, কাউন্সিলর ওমর ফারুক ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আমিনুল হক রাজুর লোকজন দোকান বসিয়ে দৈনিক ভাড়া নিচ্ছেন। সূত্র মতে, দৈনিক অর্ধলাখ টাকা ভাড়া আদায় করছেন তারা।

জানতেই চাইলে আলম জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে লিজ নেওয়া অংশে কয়েকটি দোকান আমি বসিয়েছি। অন্যগুলো নিয়ন্ত্রণ করছে কাউন্সিলর ফারুক ও আমিনুল হক রাজু।

তবে কাউন্সিলর ফারুক সড়ক দখলের অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে বলেন, আমি নিজে উপস্থিত থেকে সব দোকান উচ্ছেদ করাব। আমিনুল হক রাজু জানান, আমি রেন্ট-এ কার মালিক সমিতির সভাপতি সড়কের ওপর কোন দোকান বসাইনি। চাঁদাও খাই না। জানা গেছে, রেন্ট-এ কার স্ট্যান্ডটিও সরকারি জায়গায়।

জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, আমাদের কোনো গাফিলতি নেই। বহুবার উচ্ছেদ করা হচ্ছে। তারপরও দোকানপাট বসেছে বলে জানতে পেরেছি। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে আবার উচ্ছেদ করা হবে।

"