বগুড়ার শাজাহানপুরে নার্সারির সাফল্য

ইউরোপে যায় হাইব্রিড মরিচ দেশের ২৫ জেলায় সবজির চারা

প্রকাশ : ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০

আবদুস সালাম বাবু, বগুড়া

‘চারার নগর’খ্যাত বগুড়ার শাজাহানপুরের শাহ্নগর গ্রামসহ আশপাশের এলাকা এখন চারা কেনাবেচায় সরগরম। এই এলাকায় উৎপাদিত হাইব্রিড মরিচ ও সবজি চারা দেশের অন্তত ২৫ জেলায় যায় বলে জানিয়েছে চারা উৎপাদনকারী ও ক্রেতারা। এখানকার হাইব্রিড মরিচ গত ৩ বছর যাবত ইউরোপের কয়েকটি দেশে রপ্তানি হচ্ছে বলে জানিয়েছে উপজেলা কৃষি বিভাগ। তবে কয়েকটি জেলায় চারা রফতানিতে প্রতিবন্ধকতার অভিযোগ আছে চারা উৎপাদনকারীদের।

শাজাহানপুরের নার্সারি পল্লীতে উৎপাদিত সবজি ও মরিচের চারা বগুড়া জেলা ছাড়াও সিরাজগঞ্জ, পাবনা, মানিকগঞ্জ, জামালপুর, টাঙ্গাইল, নাটোর, গাইবান্ধা, রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়সহ অন্তত ২৫ জেলায় যাচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিদিন কাক ডাকা ভোর থেকেই শাহ্নগর গ্রামে শুরু হয় বাইসাইকেল, রিকশা-ভ্যান, অটোরিকশার আনাগোনা। দূর-দূরান্ত থেকে মরিচ ও সবজি চারা কিনতে আসা মানুষের পদরাচনায় মুখরিত হচ্ছে নার্সারিপল্লী। সুস্থ সবল চারায় বর্ণিল হয়ে উঠেছে নার্সারির বেডগুলো। আকস্মিক বৃষ্টির হাত থেকে রক্ষায় চারার বেডগুলো ঢেকে দেওয়া হয়েছে কালো ও স্বচ্ছ পলিথিনে। সবুজ চারা আর কালো-সাদা পলিথিনের ছাউনিতে বিচিত্র সাজে সেজেছে শাহ্নগরের নার্সারিপল্লী।

এখানে উৎপাদিত উল্লেখযোগ্য মরিচের জাতের মধ্যে আছে গ্রীন সুপার, লাইট মাস্টার, নোভা, লংকা ১৮২০, স্টার প্লাস, তেজ ১০০। এদিকে সফল, সুনাম জাতে টমেটো; হোয়াইট মার্বেল, লিডার ক্যাপ্টেন জাতে ফুলকপি; নরেশ ৭০ জাতে বাঁধা কপি, ফাস্ট লেডি জাতের পেঁপেসহ বিভিন্ন সবজি চারা উৎপাদন করে থাকেন।

নার্সারি মালিকেরা জানান, মূলত উচ্চ ফলনশীল জাতের হাইব্রিড মরিচের চারা উৎপাদন ও বিক্রি করে থাকেন। এর পাশাপাশি এখন উন্নত জাতের ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, বেগুনসহ সব ধরণের সবজির চারা উৎপাদন ও বিপণণ চলছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শাজাহানপুর ছাড়াও প্রতিবেশী খোট্টাপাড়া, মোস্তাইল, কামারপাড়া, চকচোপীনগর গ্রামে চলছে চারা উৎপাদন ও বেচাকেনার ধুম। চারা উৎপাদন, পরিচর্যা ও বিপননের কাজে পুরুষের পাশাপাশি এ এলাকার নারী শ্রমিকরাও কাজ করছেন। শুধু শাজাহানপুরেই নারী শ্রমিকসহ ৩ সহ¯্রাধিক কৃষি শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছে। স্থানীয়রা ছাড়াও গাইবান্ধা, রংপুর এলাকার শ্রমিকেরা এই সব নার্সারিতে কাজ করছেন। এদিকে শুধু চারা উৎপাদন নয়, মরিচ ও সবজি উৎপাদন করে শাজাহানপুরের শতাধিক কৃষক পরিবার এখন স্বচ্ছলতার অর্জন করেছেন।

খুশবু নার্সারির স্বত্তাধিকারী খোরশেদ আলম জানান, রোগ মুক্ত সুস্থ সবল সবজি চারা উৎপাদনের জন্য দরকার উপযুক্ত মাটি ও দক্ষ কারিগর। এ দুটিই শাহ্নগরে রয়েছে। সব প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে সারা বছরই শাহ্নগরে চলে চারা ও সব্জি উৎপাদনের কর্মযজ্ঞ।

সততা নার্সারির মালিক মোমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, জামালপুর জেলার কৃষকেরা শাহ্নগর থেকে মরিচ ও সবজি চারা নিয়ে যাওয়ার পথে বগুড়ার সারিয়াকান্দি খেয়াঘাট এবং জামথল খেয়াঘাটে চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন। কার্টুন প্রতি ৩০-৪০ টাকা টোল নেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নূরে আলম স্বীকার করেন, চারা ও সবজি উৎপাদন করে শাজাহানপুরের সবজি নার্সারি মালিকরা লাভবান হওয়ার পাশাপাশি কৃষি উন্নয়নে অবদান রাখছেন। এ সংক্রান্ত জ্ঞান সহ আধুনিক প্রযুক্তি কৃষকদের হাতে পৌঁছে দিচ্ছে উপজেলা কৃষি বিভাগ। তিনি জানান, মান ভাল হওয়ায় শাজাহানপুরে উৎপাদিত হাইব্রিড মরিচ বিগত ৩ বছর যাবত ইউরোপের কয়েকটি দেশে রফতানি হচ্ছে।

"