কলাপাড়ায় উজাড় হচ্ছে সংরক্ষিত বনাঞ্চল

গাছ কাটা আড়াল করতে কাণ্ড পুড়িয়ে দেয় দস্যুরা

প্রকাশ : ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০

মো. ইমরান, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)

পটুয়াখালীর মহিপুরে কয়েক বছর ধরে বন বিভাগের গাছ কেটে তৈরি হচ্ছে আবাদি জমি, বসতভিটা। উজাড় হচ্ছে উপকূলীয় এলাকার সংরক্ষিত বনাঞ্চল। তবে বনখেকোদের বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলা দিয়ে দায় সারছে বন বিভাগ। তবে প্রকৃতির দেয়ালখ্যাত বনাঞ্চল এমন নির্বিচার ধ্বংসে শঙ্কিত এলাকাবাসী, পরিবেশবাদীসহ বিশেষজ্ঞরা।

কলাপাড়ার বিস্তীর্ণ উপকূল জুড়ে বনবিভাগের দেড় লাখ একর জমির মধ্যে প্রায় পঞ্চান্ন হাজার ২৮৫ একর জমিতে রয়েছে সংরক্ষিত বনাঞ্চল। তবে গত একদশকে ছোট-বড় কয়েকটি প্রাকৃতিক দুর্যোগে উপকূলীয় এসব বনাঞ্চলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সমুদ্রের অব্যাহত বালু ক্ষয়ের ফলে ইতোমধ্যে বিলিন হয়ে গেছে কুয়াকাটার ঝাউ বাগান, ইকোপার্ক, নারিকেল বাগান, চর গংঙ্গামতি, কাউয়ার চরের বনের অধিকাংশ গাছ।

এদিকে উপকূলীয় বাঁধ উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের জন্য কেটে ফেলা হয়েছে প্রায় ৩৯ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের গাছ। এ অবস্থায় স্থানীয় একটি চক্র চরগংঙ্গামতি ও কাউয়ারচর বনাঞ্চলের গাছ কেটে কা- আগুনে পুড়িয়ে মাটি চাপা দিচ্ছে। এতে দ্রুত কান্ড পঁচে গিয়ে গাছের প্রমাণ নিশ্চিহ্ন হচ্ছে বলে জানা গেছে। সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গাছ কেটে তৈরি করছে আবাদি জমি। প্রভাবশালী এসব বন উজারকারী ও জমি দখলকারীদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে রাজি নয় এলাকাবাসী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কাউয়ার চর ও গংগামতি এলাকার বেশ কয়েকজন বাসিন্দা জানান, রাতের অন্ধকারে গাছ কেটে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এরপর গাছের কান্ড আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মাটি চাপা দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পরে বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহায়তায় ওই জমিতে কৃষিকাজ করা হচ্ছে। কেউ বসত ঘর তুলেছে। অনেকেই আবার এসব জমির ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে বিভিন্ন ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করছে।

এদিকে বিশালায়তনের একটি ফরেস্ট বিট এলাকা দেখভাল করতে হচ্ছে একজন বিট কর্মকর্তা। জানতে চাইলে মহিপুর বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত রেঞ্জ কর্মকর্তা আবুল কালাম প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, যারা গংগামতি ও কাউয়ার চর এলাকার বন বিভাগের গাছ কেটেছে তাদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দেওয়া হয়েছে। জনবল সংকটের কারনে প্রভাবশালী এসব জমি দখলকারীদের হাত থেকে রক্ষা করা যাচ্ছে না বনাঞ্চল।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, যারা বনের গাছ কাটছেন বা ধংস করছেন তাদের বিরুদ্ধেই আইনি ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে। এছাড়াও জেলা প্রশাসনের সহায়তায় বন বিভাগের দখল হওয়া জমি উদ্বারে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক তরিকুল ইসলাম বলেন, একটি দেশের পরিবেশগত ভারসম্য বক্ষার জন্য ২৫ ভাগ বনাঞ্চল থাকা দরকার। এসব বন শুধু ভারসাম্য রক্ষা নয়, মানুষের জীবন-জীবিকায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

"