কামারখন্দে রেলস্টেশনের পাশে অবৈধ উচ্ছেদ

উচ্ছেদের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নতুন ঘর

প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০

গাজী শাহাদত ফিরোজী, সিরাজগঞ্জ

সিরাজগঞ্জ কামারখন্দে রেল স্টেশনের পাশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের কয়েক ঘন্টার মধ্যেই আবারো নতুন করে টিন কাঠের ঘর তৈরি করেছেন দখলদাররা। ফলে উপজেলার জামতৈল রেলওয়ে স্টেশনে পরিচালিত প্রশাসনিক অভিযানে সাফল্যর চেয়ে ব্যর্থতাই বেশি। গত ৯ সেপ্টেম্বর এই অভিযান পরিচালনা করে রেলওয়ে ভূমি কর্মকর্তা পাকশি ডিভিশন।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, রেলওয়ে পাকশি ডিভিশনের ভূমি কর্মকর্তা গত ৯ সেপ্টেম্বর কামরাখন্দের জামতৈল রেলওয়ে স্টেশনে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন কর্তৃপক্ষ। অভিযানের কারণ হিসেবে বলা হয়, জনগণের নিরাপত্তা, সরকারি আয় বৃদ্ধিসহ রেল যোগাযোগের উন্নয়নে এই স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। তবে উচ্ছেদের মাত্র কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে ওই স্থানে নতুন ঘর তুলেন পুরনো দখলদাররা। আর তাদের পেছনে আছেন রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যক্তি জানায়, ‘দলীয় প্রভাবে একটি কুচক্রি মহল সরকারি স্বার্থকে বিষর্জন দিয়ে স্বীয় স্বার্থ উদ্ধার করে চলেছে। এদের দাপটে কেউ কোন কথা বলতে পারেন না। ফলে এই উচ্ছেদ প্রক্রিয়ায় জনগণের সুবিধার চেয়ে অসুবিধাই হয়েছে বেশি।’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ইতিপূর্বে বার্ষিক ভাড়ার ভিত্তিতে জামতৈল স্টেশনে পরিত্যক্ত জায়গা বাণিজ্যিক প্লট হিসাবে টেন্ডারের মাধ্যমে বরাদ্দ দেয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। সে সময় অনেকেই টেন্ডারের মাধ্যমে বৈধভাবে বরাদ্দের কাগজপত্র পেলেও আজো জায়গা বুঝে পাননি তারা।

জানতে চাইলে কামারখন্দ উপজেলার চরটেংরাইল গ্রামের নাসির উদ্দিন প্রতিদিনের সংবাদকে জানান, তিনি দীর্ঘদিন যাবত টেন্ডারের মাধ্যমে ১১৩নং প্লট ও নান্দিনামধু গ্রামের আমিনুল ইসলাম ১১৬নং প্লটবরাদ্দের কাগজপত্র পান। কিন্তু আজো তারা প্লট বুঝে পাননি। এর পেছনে রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনের অবহেলাই কাজ করে যাচ্ছে বলে ভূক্তভোগিসহ এলাকাবাসির অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিনে জানা যায়, রেল লাইন সংলগ্ন ওভার ব্রিজ থেকে দক্ষিণে আওয়ামী লীগ অফিস পর্যন্ত শতাধিক এবং পশ্চিমে রেলের সীমানা পর্যন্ত সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। কিন্তু স্টেশনের পূর্বপাড়ের ৩৪টি স্থাপনা ‘অবৈধ’ হওয়ার পরও অদৃশ্য কারসাজিতে উচ্ছেদ করা হয়নি।

এদিকে স্টেশনের পশ্চিমে উচ্ছেদ আর পূর্বপাড়ে বন্ধ রাখাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে সমালোচনা সূচনা হয়েছে। তাদের দাবি, উচ্ছেদকৃত জায়গায় আবারো অবৈধ দখলদারদের স্থাপনা গড়ে না তোলা, বৈধভাবে বরাদ্দ পাওয়া মালিকদের প্লট বুঝিয়ে দেওয়ার রেলওয়ে বিভাগ ঘোষণা বাস্তবায়ন করা হোক।

জানতে চাইলে, রেলওয়ের আমিন শরিফুল ইসলাম মোবাইল ফোনে প্রতিদিনের সংবাদকে জানান, প্লট বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

এ বিষয়ে পাকশি ডিভিশনের ভূমি কর্মকর্তা নুরুজ্জামান মুঠোফোনে জানান, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পরে আবারো যদি কেউ অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলার চেষ্টা করে তাহলে দ্রুত তা উচ্ছেদ করা হবে। আর প্লট বরাদ্দ পাওয়ার পরেও যদি কেউ জায়গা না পেয়ে থাকেন তার জায়গাও বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

তবে গতকাল শনিবার বিকালে এই খবর লেখা পর্যন্ত তা বাস্তবায়নের কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। বরং অবৈধ স্থাপনার কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলতে দেখা গেছে। ভূক্তভোগীরা বলছেন, অতিসত্বর ভূমিদস্যুদের হাত হতে সম্পত্তি উদ্ধারের ক্ষেত্রে রেলওয়ে বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজেসই দায়ি। এ অপকর্ম বন্ধ করা না হলে সরকারের সমৃদ্ধ বাংলা গড়ার পরিকল্পনা হোঁচট খাবে।

 

"