বদলগাছীতে ঘর দেওয়ার নামে অর্থ আদায়

প্রকাশ : ১২ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০

শহীদুল ইসলাম, বদলগাছী (নওগাঁ)

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার ৫ নম্বর কোলা ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার হারুনের বিরুদ্ধে গৃহহীন হতদরিদ্র চারজন নারীকে ঘর দেওয়ার নামে জনপ্রতি ১০ হাজার টাকা করে মোট ৪০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এদিকে, নিয়মবহির্ভূতভাবে টাকা নেওয়ার ১৮ মাস হলেও এখন পর্যন্ত তাদের দেননি ঘরও।

উপজেলার কোলা ইউনিয়নের খামার আক্কেলপুর গ্রামের ইউনুছ আলীর স্ত্রী জোসনা বেগম, নুরুল ইসলামের স্ত্রী ফেরোজা বেগম, চঞ্চলের স্ত্রী রোকেয়া ও মিরাজের স্ত্রী আজিদা বেগমের কাছ থেকে এ টাকা নেওয়া হয়েছে বলে জানান তারা।

সরেজমিনে গেলে জোসনা বেগম, ফেরোজা, রোকেয়া, আজিদাসহ প্রতিবেশিরা জানান, তাদের নামে ঘর বরাদ্ধ করাসহ ঘর নির্মাণ করা হয়নি। ঘুষ নেওয়া টাকাও তাদের ফেরত দেওয়া হয়নি।

কান্নাজড়িত কন্ঠে জোসনা বেগম জানান, গাভীর বাছুর বিক্রি করে হারুন মেম্বারকে ১০ হাজার টাকা ঘুষ দেন। এরপর হারুন মেম্বার তাকে জরাজীর্ণ বেড়ার ঘর ভেঙে অন্যত্র সরিয়ে নিতে বললে সে ঘর ভেঙে অন্যের জমিতে মাথা গোঁজার ঠাই করে নেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত নতুন ঘর করে না দেওয়ায় অতিকষ্টে বসবাস করছেন।

ফেরোজা বেগম বলেন, হারুন মেম্বার টাকা জোগাড় করার সময় পর্যন্ত দিতে চায়নি। তাড়াতাড়ি টাকা না দিলে অন্য কাউকে ঘর দেওয়া হবে বলে জানিয়েছিলো। তাই বাধ্য হয়ে তড়িঘড়ি করে ঘরের গরু বিক্রি করে তাকে ১০ হাজার টাকা দিয়েছি। কিন্তু ১৮ মাস পেরিয়ে গেলেও ঘর পাইনি।

ভুক্তভোগীরা আরো জানান, টাকা দেওয়ার দীর্ঘদিনেও ঘর না পাওয়ায় এক পর্যায়ে তারা হারুন মেম্বারের কাছে টাকা ফেরত চান। কিন্তু হারুন মেম্বার তাদের জানান উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ওই টাকা দেওয়া হয়েছে। তিনি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বরাদ্ধ এলেই ঘর নির্মাণ করে দেবেন।

অভিযোগের বিষয়ে কথা হয় ইউপি সদস্য হারুন মেম্বারের সঙ্গে। তিনি টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে প্রতিবেদককে বলেন,‘ তিনি জীবনে কারো কাছ থেকে ঘুষ নেননি। এটা একটা মিথ্যা অভিযোগ। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাসুম আলী বেগের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

"