চট্টগ্রামের রাউজান

ভরাট হয়ে যাচ্ছে গৌরিসংকর হাটের একমাত্র পুকুর

প্রকাশ : ১২ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০

রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার ঊনসত্তরপাড়ার গৌরিসংকর হাটের কাছে থাকা একমাত্র পুকুরটিও রাতের আঁধারে বালু ফেলে ভরাট করা হচ্ছে। বিষয়টি স্থানীয় তহশিল অফিসে জানানো হলেও ভরাট কাজ বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। স্থানীয়রা জানান, এই এলাকায় আরো কয়েকটি পুকুর আগে একই কায়দায় ভরাট করে বাড়িঘর নির্মাণ করেছে প্রভাবশালী মহল। এখন পানির উৎস বলতে আর কোনো পুকুর বাজারের কাছে নেই। ফলে অগ্নিকা-সহ অন্যান্য জরুরি কাজে পানির সঙ্কংকট পড়তে হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায়, উনসত্তরপাড়া সরকারি তহশিল অফিসের ১০০ গজের মধ্যে পুকুরটির অবস্থান। ওই অফিসে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা যায়, নাল জমি কেটে ওই পুকুরটি সৃষ্টি করা হয়েছিল প্রায় তিন দশক আগে। সরকারি রেকর্ডে পুকুরের জায়গা এখনো নাল হিসাবে চিহ্নিত আছে। তহশিলদার বলেছেন নাল জায়গা ভরাট করে বাড়িঘর বানানোর বিধান নেই। পুকুর জলাশয় ভরাট করাও আইনত নিষিদ্ধ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, গত কয়েকদিন থেকে পুকুরটি ভরাট কাজে নিয়োজিত রাখা হয়েছে কয়েকটি ট্রাক। প্রশাসন ও জনসাধারণের দৃষ্টি এড়িয়ে রাতের বেলায় ভরাট কাজ করা হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, এই পুকুরটি ছিল এলাকার একমাত্র জলাশয়। গত কয়েক মাস আগে এখানে সংগঠিত একটি অগ্নিকা-ের ঘটনায় পুকুরটির পানি ব্যবহার করে আগুন দ্রুত নিভানো সম্ভব হয়েছিল। অগ্নিকা-ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পেয়েছিলো ভুক্তভোগীরা। এখন পুকুরটি ভরাট করে ফেলার কারণে অগ্নিকা-েরমতো দুঘর্টনায় বাজারের আশপাশে আর কোনো পানির উৎস পাওয়া যাবে না। বাজারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পুকুরটির মালিক পক্ষ বিদেশে থাকেন। পুকুর পাড়ে আছে মালিকের আবাসিক ভবন ও ভাড়া দেওয়া কাঁচা ঘর। প্রবাসী পরিবারের সদস্যরা দেশে না থাকলেও এটি ভরাট কাজে দায়িত্ব নিয়েছেন এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য মোহাম্মদ ইসমাইল। তিনি নিজেজকে প্রবাসী পরিবারের আত্মীয় দাবি করে বলেন, ভরাট করা জায়গা পুকুর নয়। এটি জলাশয়। দোকান মার্কেট নির্মাণে জলাশয়টি ভরাট করা হচ্ছে। পুকুর জলাশয় ভরাট করা নিয়ে রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জোনায়েদ কবির সোহাগের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে খবর নিয়ে তদন্ত সাপেক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

"