মিড ডে মিলের আওতায় ৮০ হাজার শিক্ষার্থী

প্রকাশ : ১১ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

হবিগঞ্জ জেলার মোট ১৭৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৫৬টি বিদ্যালয়ে মিড ডে মিল চালু হয়েছে। কার্যক্রম শুরু হওয়া বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে এমপিওভুক্ত ও নন এমপিওভুক্ত বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১ লাখ ৩৬ হাজার ৯২৪ জন। তন্মধ্যে ৮০ হাজার ৩২৫ জন শিক্ষার্থী ২০ টাকার বিনিময়ে এ সুবিধা ভোগ করছেন। শিক্ষকরাও এর অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

হবিগঞ্জ সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাতেমা ইসলাম জানান, ‘মিড ডে মিল চালু হওয়ার পূর্বে দুপুরের পরপরই আমাদের ক্ষুধা লেগে যেত। যে কারণে বাসা থেকে হয়তো খাবার সাথে নিয়ে আসত হতো, না হয় বাজার থেকে কিনে খেতে হতো। আর এতে করে পড়ালেখায় ব্যাঘাত ঘটত। কিন্তু এখন আর সেসব নিয়ে চিন্তা করতে হয় না। ক্লাস শেষে স্কুলেই সময়মতো খাবার সেরে নিচ্ছি। এটা আমাদের জন্য খুবই ভাল হয়েছে’।

হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাহিম চৌধুরী বলেন, ‘স্কুলে বসে সবাই এক সাথে খাওয়ার মজাই অন্যরকম। তাছাড়া এখন আমাদের খাবার সাথে নিয়ে আসতে হয় না। যা আমাদের জন্য একটি বাড়তি চিন্তা থেকে মুক্ত করে দিয়েছে। এর কারণে আমরা বেশি মনযোগ দিতে পারছি পড়ালেখায়।’ সুমাউন আহমেদ নামের একজন অভিভাবক জানান, ‘আগে স্কুলে আসার সময়ই ব্যাগে করে টিফিন দিয়ে দিতে হতো। যা শিক্ষার্থীসহ পরিবারের জন্য ছিল কষ্টকর। কিন্তু মিড ডে মিল চালু হওয়ায় খাবার সম্পর্কে আমাদের (পরিবারের) বেশি চিন্তা করতে হয় না। সঠিক সময়ে স্কুলেই খাবার সেরে নিচ্ছে তারা। যা খুবই ভাল দিক।’

শহরের বিকেজিসি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শুধাংশু কর্মকার জানান, স্কুলে মিড ডে মিল চালু করা সরকারের অত্যান্ত সুদৃঢ় পরিকল্পনার মধ্যে একটি। এর ফলে শিক্ষার্থীরা পুষ্টির পাশাপাশি ক্লাসের পুরো সময়টাই মনযোগি হয়ে উঠছে।

জেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ রুহুল্লাহ জানান, পূর্বে বিরতীকালীন সময়ে শিক্ষার্থীদের দোকান থেকে কিনে এনে অস্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হতো। ফলে অনেকেই বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হতো। বিদ্যালয়ে রান্না করা খাবার স্বাস্থ্যকর ও মানসম্পন্ন হওয়ার ফলে নানা অসুখ-বিসুখ থেকে শিক্ষার্থীরা মুক্ত থাকবে। এছাড়া আগে দেখা যেত অনেক শিক্ষার্থী দুপুরের বিরতির পর আর স্কুলে আসতো না। শিক্ষা ব্যবস্থাকে গতিশীল ও মানসম্পন্ন করার লক্ষ্যে দেশের সকল বিদ্যালয়ে এ নিয়ম চালু হচ্ছে। এটি সরকারের যুগান্তকারী একটি পদক্ষেপ বলে মনে করেন তিনি।

 

"