যত্রতত্র সিগারেটের বিজ্ঞাপন হাতের নাগালে বিক্রি

প্রকাশ : ১১ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০

ষজুয়েলরানা লিটন, নোয়াখালী ও ফাইদুল ইসলাম, পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও)

আইনে স্পষ্ট বলা আছে, যত্রতত্র তামাকজাত দ্রব্যে বিজ্ঞান দেওয়া যাবে না। এমনি তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয় স্থলে যে কোন উপায়ে এই সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন প্রচারও করা যাবে না। কিন্তু অহরহই তা উপেক্ষা করা হচ্ছে। হাত বাড়ালেই মিলছে তামাকজাত পণ্য। নোয়াখালীর বিভিন্ন উপজেলা ও ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এই দৃশ্য দেখা যায়।

এদিকে বিক্রয় বাড়াতে হাটবাজার, জনবহুল এলাকাসহ বিভিন্ন স্কুল-কলেজের পাশের দোকানগুলোতে অবাধে চলছে সিগারেট বিক্রি প্রচারণা। এতে আকৃষ্ট হচ্ছেন শিক্ষার্থীসহ তরুণ ও যুবসমাজ। প্রথম ধূমপানে আসক্ত হয়ে পরবর্তিতে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছেন তারা। তামকদ্রব্যের এমন রমরমা ছড়াছড়িতে আতংকে আছে অভিভাবক ও সচেতন মহল।

ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারর নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৫ (ক) ধারায় বলা হয়েছে, প্রিন্ট বা ইলেকট্রিক মিডিয়া, বাংলাদেশে প্রকাশিত কোন বই, লিপলেট হ্যান্ডবিল, ফেস্টুন, পোস্টার, বিলবোর্ড ছাপানো অন্য কোনভাবে তামাকজাত দ্রব্যর প্রচার করা বা করানো যাবে না। একই আইনের ৬ (ক) (১) ধারায় কোন ব্যাক্তির অনাধিক ১৮ বছর বয়সের কোন ব্যাক্তির কাছে তামাকজাতদ্রব্য বিক্রি করা যাবে না। আইন লঙ্ঘনের শাস্তি হিসেবে অনাধিক ৩ মাস বিনাশ্রম কারাদ- সহ ১ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।

নোয়াখালী প্রতিনিধি জানান, জেলার সদর উপজেলা, সুবর্ণচর, কবিরহাট, হাতিয়া, সেনবাগ, চাটখিল উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকায় সিগারেট বিক্রয় ও ফেস্টুন দিয়ে তামাকজাতদ্রব্যে আগ্রহী করে তুলছে তামাক কোম্পানির লোকজন। জনবহুল এলাকাসহ হাট-বাজার, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশের দোকানগুলোতে চলছে অবাদে সিগারেট বিক্রি ও তার প্রচারণা। হাতের নাগালে তামাকজাত দ্রব্য পাওয়ায় ধূমপায়ে আগ্রহী হচ্ছে অপ্রাপ্ত বয়স্ক কিশোর, যুবক এবং শিক্ষার্থীরা।

সুবর্ণচর উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার হাসিনা জাহান বলেন, ধূমপান শরীররে জন্য মারাত্মক ক্ষতি করে। ফুসফুসের ক্যান্সার, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি রোগ, হৃদরোগ, রিউমাটয়েড আর্থাইটিস, শারীরিক অক্ষমতা, যক্ষ্মা বা ইনফেকশনসহ নানা জটিল রোগ হয় ধূমপানে। যত্রতত্র সিগারেট বিক্রয়ের ফলে শিক্ষার্থীরা সহজেই ধূমপানে অগ্রহী হচ্ছে, এ ব্যাপারে জনসচেতনতা বাড়ানো উচিত এবং স্কুল কলেজের সামনে যারা সিগারেট বিক্রি করে ভ্রামমান আদালতের মাধ্যমে সাজা দিলে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে।

এদিকে ঠাকুরগাঁও পীরগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, পীরগঞ্জ শহরের প্রায় প্রত্যেকটি মুদি পণ্যের দোকানে প্রকাশ্যে শো-কেসে বা রেকে সাজিয়ে রাখা হয়েছে সিগারেটের প্যাকেট। আবার ক্রেতার নজরে আনার জন্য ডামি প্যাকেট দিয়ে তৈরি করা শো-কেস/ রেকে রাখা হয়েছে দোকানের বাইরে উন্মুক্ত ও সহজে চোখে পড়ে এমন স্থানে।

শহরের এসব মুদি পণ্যের দোকানগুলোতে সিগারেট নিতে আসা ক্রেতাদের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় অপ্রাপ্তবয়স্কের সংখ্যা একেবারে কম নয়। বিশেষ করে অলি-গলির দোকান বা একটু ফাঁকা স্থানের দোকানে এ বয়সী খদ্দেরের ভিড় একটু বেশিই।

শহরের কাজী নজরুল ইসলাম সড়কের এক দোকানি জানান, কাস্টমার এসে দোকানে থাকা পণ্য চাইলে তা বিক্রি করাই আমার কাজ। অপ্রাপ্তবয়স্কদের নিষেধ করলে তাদের হাতে লাঞ্ছিত হওয়ার সম্ভাবনাও আছে। তাই প্রশাসন যদি ব্যবস্থা নেয় তবে ক্রেতা এবং বিক্রেতা সবাই সতর্ক হবে।

উপজেলার বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে ভ্রাম্যমাণ বিক্রয়কেন্দ্র স্থাপন ও স্থায়ী দোকানগুলোতে প্যাকেট ও লিফলেট প্রদর্শন করে চলছে তামাকজাত পণ্য বিক্রি। শহরের নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকা, কলেজ বাজার এলাকা, পীরগঞ্জ সরকারি কলেজ সংলগ্ন স্থান, থানা চত্বরের আশপাশ সহ বিভিন্ন স্থানে চোখে পড়ে কোম্পানিগুলোর ভ্রাম্যমাণ বিক্রয় কেন্দ্র। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিক্রয় প্রতিনিধি জানান, চাকরির শর্ত অনুযায়ী কোম্পানির কর্মকর্তাদের নির্দেশেই আমরা এ কাজ করছি।

আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি অপ্রাপ্তবয়স্কদের কাছে সিগারেট বিক্রি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন অ্যাড. হাসিনুরজ্জামান মিলার। তিনি বলেন, সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য অপ্রাপ্তবয়স্কদের কাছে সিগারেট বিক্রি বন্ধে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সচেতন করে তুলতে হবে। সেসঙ্গে অভিভাবকদের পারিবারিক শিক্ষা ও সুরক্ষা জোরদার করতে হবে।

এদিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে এর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস জানিয়েছেন পীরগঞ্জ উপজেলা নিবার্হী অফিসার এ.ডব্লিউ.এম রায়হান শাহ্।

 

"