নওগাঁ শহরের প্রবেশমুখে ‘অবৈধ’ মদের দোকান

প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০

নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁ শহরের প্রবেশমুখে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে অবাধে বিক্রি করা হচ্ছে বাংলা মদ।

জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় পরিতোষ কুমার সাহা নামের একজন বৈধ দেশীয় বাংলা মদ বিক্রেতা রয়েছে। আর পারমিটধারী মদের ক্রেতা রয়েছে ৯৩৫ জন। এর মধ্যে মুসলিম সম্প্রদায়ের রয়েছে প্রায় ২০০ জন। বাকিগুলো অন্য সম্প্রদায়ের। একজন পারমিটধারী মাসে ৭ ইউনিট (প্রায় ১০ লিটার) মদ খেতে বা বহন করতে পারবেন।

নওগাঁ-ঢাকা বাসস্ট্যান্ডে ‘ইষ্টার্ণ প্রডিউস কোল্ড ষ্টোরেজ লি:’ এর ভিতরে পরিতোষ কুমার সাহার দেশীয় বাংলা মদের দোকান। দোকানে শুধু পারমিটধারীদের কাছে নির্ধারিত পরিমাণে মদ বিক্রির বিধান থাকলেও এখানে তা মানা হয় না। পারমিটধারী না হলেও যে কেউ অনায়াসে এখান থেকে মদ কিনে খেতে পারে।

গত বুধবার সকালে মদের দোকান ‘ইষ্টার্ণ প্রডিউস কোল্ড ষ্টোরেজ লি.’ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মদসেবীরা ভেতরে গিয়ে মদ পান করে ও কিনে নিয়ে বেরিয়ে আসছেন। ওই দিন দুপুর দেড়টার দিকে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর থেকে মদ পান ও বিক্রি করার নিয়মের বিষয়ে এ প্রতিবেদক তথ্য নিয়ে ফিরে আসার পর ‘ইষ্টার্ণ প্রডিউস কোল্ড ষ্টোরেজ লি:’ এলাকার চিত্র পাল্টে যায়। সেদিন বিকালে আবারো সেখানে গিয়ে দেখা যায় ‘ইষ্টার্ণ প্রডিউস কোল্ড ষ্টোরেজ লি:’ এর দরজার দুই পাশে দুইজন প্রহরী চেয়ারে বসে আছেন। পারমিট ছাড়া কাউকে ভিতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। সন্ধ্যা পর্যন্ত দরজার সামেন ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। যাদের পারমিট নাই তারা পারমিটধারীদের কিছু টাকা বেশি দিয়ে ভিতর থেকে মদ কিনে নিয়ে আসাচ্ছেন। পরদিন খোঁজ নিয়ে যায়, মদ আবারো আগের মতোই নিয়মবর্হিভূতভাবে বিক্রি করা হচ্ছে।

ট্রাক চালকের সহযোগি রুস্তম আলী বলেন, আমার মদ পানের কোন পারমিট নাই। এতোদিন অনায়াসে মদের দোকানে গিয়ে মদ কিনে খেয়েছি।

রংয়ের মিস্ত্রী টিপু বলেন, বুধবার সকালেই পারমিট ছাড়াই মদ খেয়েছি। অথচ দুপুরের পর আর পারমিটধারী ছাড়া মদ বিক্রি হবেনা বলে তারা জানায়। আকার ভেদে ২৫০ মিলির বোতল ১১০ টাকা, ১৫০ টাকা ও ২০০ টাকা দাম। এছাড়া ১ লিটারের ভাল টার দাম ৫০০ টাকা।

শহরের ভবানিপুর গ্রামের ভ্যান চালক ইদ্রিস প্রামানিক বলেন, তিনি পারমিটধারী এবং দীর্ঘদিন থেকে মদ পান করেন। প্রশাসন যখন চাপ দেয় তখন পারমিট না দেখালে কাউকে মদ দেয়া হয়না। এছাড়া অন্যান্য সময় অনায়াসে যে কেউ মদ কিনে খেতে পারেন।

নওগাঁ জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) একেএম দিদারুল আলম বলেন, ওই দেশীয় মদের দোকানে আমরা নিয়মিত তদারকি করে থাকি। পারমিটধারীদের কাছে কার্ড দেখে মদ বিক্রি এবং খাতায় তা লিপিবদ্ধ করে রাখতে হবে। কার্ড ছাড়া মদ বিক্রি করা হলে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান মিয়া বিপিএম বলেন, সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় মাদকের বিষয়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কথা বলেছি। শহরের প্রবেশ মুখে দেশীয় মদের দোকানের বিষয়ে অবগত রয়েছি। এটা অচিরেই নিয়ন্ত্রন করা হবে বলেও জানান তিনি।

"