চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল

উদ্বোধনের এক বছরেও শুরু হয়নি ভবনের কার্যক্রম

* কাগজে-কলমে ২৫০ শয্যা * জনবল ৫০ শয্যার * কার্যক্রমে চলে ১০০ শয্যা

প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০

এসএম শাফায়েত, চুয়াডাঙ্গা

উদ্বোধনের একবছরেও শুরু হয়নি চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে সাড়ে ত্রিশ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ২৫০ শয্যার নতুন ভবনের কার্যক্রম। ফলে ১০০ শয্যার পুরানো ভবনেই দেওয়া হচ্ছে চিকিৎসা। তবে হাসপাতালে জনবলের সামর্থ আছে মাত্র ৫০ শয্যা পরিচলনা করার। তারপরও দৈনিক বর্হিবিভাগে ৭০০ থেকে ৮৫০ রোগী চিকিৎসা নেন।

গণপূর্ত বিভাগ বলছে, নির্মাণের কাজ শেষ হলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভবনটি হস্তান্তর করছে না। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, ভবনের কাজ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি।

২০১৮ সালের ২৮ অক্টোবর সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ৬ তলা ভবনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এতে ব্যয় হয় সাড়ে ত্রিশ কোটি টাকা। তবে উদ্বোধনের সময় চলমান ১০০ শয্যার সেবার দেওয়ার জনবল ছিল না।

২০১২-২০১৩ অর্থ বছরে শুরু হওয়া ৬ তলাবিশিষ্ট ভবন নির্মাণে ব্যয় হয় ৩০ কোটি ৫০ লাখ টাকা। ঝিনাইদহ জেলার এমকেকেডি, এমএমআর ও এমএমআইটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে নির্মাণ কাজ শুরু হয় বলে গণপূর্ত বিভাগ সূত্রে জানায়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শুরু থেকে ৫০ শয্যার চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে লোকবল সংকট ছিল। এর মধ্যে ২০০৩ সালে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে উন্নিত করা হয়। কিন্তু গত ১৫ বছরেও ১০০ শয্যার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও লোকবল চাহিদা মতো পূরণ করা হয়নি। আবার ২০১৮ সালের শেষের দিকে হাসপাতালকে ২৫০ শয্যার অনুমোদনসহ নতুন ভবন উদ্বোধন হয়েছে। সুতরাং কাগজে কলমে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হলেও কার্যত ৫০ শয্যাবিশিষ্ট জনবল দিয়েই চালানো হচ্ছে ১০০ শয্যার কার্যক্রম।

জানতে চাইলে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. শামীম কবির প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, ‘৫০ শয্যার হাসপাতালে ডাক্তার থাকার কথা ২১ জন। দুঃখের বিষয় সেটাও নেই, আছেন মাত্র ১৫ জন চিকিৎসক। চিকিৎসক সংকট থাকার পরও প্রতিদিন হাসপাতালের বর্হিবিভাগে ৭০০ থেকে ৮৫০ রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। ১০০ শয্যা থাকলেও সবসময় ২৮০-২৯০ জন রোগী ভর্তি থাকে। তারপরও আমরা সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা দেওয়ার চেষ্টা করি।’

বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এএসএম ফয়জুল ইসলাম জানান, ভবন নির্মাণের কাজ শেষ হলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভবনটি হস্তান্তরে রাজি হচ্ছে না। তবে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের প্রধান সহকারী আব্দুস সবুর বলেন, ভবনের কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি।

জানতে চাইলে নতুন ভবনের দায়িত্বভার বুঝে নেওয়া প্রসঙ্গে চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন ডা. এএসএম মারুফ হাসান বলেন, ‘এ ভবনের প্রশাসনিক কোনো অনুমোদন নেই। তাহলে কীভাবে এ ভবনটি বুঝে নেব? এ ছাড়া ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের জনবলই এখনও আসেনি, ৫০ শয্যার জনবল দিয়েই এ বিশাল চাপ প্রতিনিয়ত সামলাতে হচ্ছে। এর মধ্যে ২৫০ শয্যার ভবন বুঝে নিয়ে তার কার্যক্রম কীভাবে পরিচালনা করব?’

সরেজমিনে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা ছাড়াও মেহেরপুর, কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিনই রোগীরা চিকিৎসাসেবা নিতে এ হাসপাতালে আসেন। এমনিতে জনবল ও শয্যা-সংকট, তার ওপর অতিরিক্ত রোগীর চাপে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক-নার্সেরা। ফলে হাসপাতালের মেঝে, বারান্দায় ও করিডরে প্রতিনিয়ত চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন শত শত রোগী। এ ছাড়া চিকিৎসাসেবার বিষয়ে রোগীদের অভিযোগের অন্ত নেই।

চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার বাগানপাড়ার ছানোয়ার হোসেন নামের এক রোগী এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘মেডিসিন ওয়ার্ডে গত চার দিন আগে ভর্তি হয়েছি, এখনো বেড পাইনি। রোগীর চাপে এ ওয়ার্ডে বেড পাওয়া খুবই কষ্টকর।’ একই অভিযোগ করে শহরতলীর দৌলাতদিয়াড় দক্ষিণপাড়ার মিলন মিয়া বলেন, ‘আমার মেয়ে মিমিয়ার বয়স ছয় মাস। নিউমোনিয়াজনিত কারণে গত বৃহস্পতিবার থেকেই হাসপাতালে আছি।’ সার্জিক্যাল ওয়ার্ডে ভর্তি মেহেরপুরের দরবেশপুরের ইয়াছদ্দিন নামের এক রোগী জানান, বেড স্বল্পতার কারণে হাসপাতালের বারান্দায় শুয়েই চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন তিনি।

আবার স্থানীয়দের অনেকে অভিযোগ করে বলেন, চিকিৎকদের হাসপাতালে সকাল সাড়ে আটটার মধ্যে আসার কথা থাকলেও বেশিরভাগ চিকিৎসকই ১০টার পরে হাসপাতালে আসেন। এ সংকটে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকেরাও যদি নির্ধারিত সময়ে হাসপাতালে আসতেন, তাহলে কিছুটা হলেও রোগীরা মানসম্মত সেবা পেতেন।

"