ক্লিনিকের সার্জন সরকারি হাসপাতালের পিয়ন!

প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০

শহিদুল ইসলাম সোহাগ, দৌলতপুর (কুষ্টিয়া)

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পিয়ন জিহাদ সার্জন সেজে বিভিন্ন ক্লিনিকে রোগীদের জটিল অপারেশন করে আসছে। দীর্ঘদিন ধরে এই অপরাধ করে আসলেও এখনো তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ। সর্বশেষ গত রোববার তার অপারেশনের পর এক প্রসূতির মৃত্যু অভিযোগ উঠে। এলাকাবাসী ও সচেতন মহল বিষয়টি জানার পর বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ক্লিনিকের মালিকদের সঙ্গে যোগসাজস করে জিহাদ সার্জন হিসাবে অপারেশন করে আসছেন। গত রোববার উপজেলার প্রাগপুর বাজারের আল্লারদান ক্লিনিকে তার হাতে অপরেশন হয় প্রসূতি কহিনুর (৩০)।

প্রসূতির পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের গড়–রা পালপাড়া গ্রামের আরশেদ আলীর কন্যা কহিনুর (৩০) প্রসব ব্যাথা নিয়ে পার্শ্ববর্তী প্রাগপুর বাজারের আল্লারদান ক্লিনিকে ভর্তি হন। ওই রাতেই ক্লিনিক মালিক মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার করমদি গ্রামের রতন আলীর স্ত্রী পাপিয়া দৌলতপুর হাসপাতালের পিয়ন (ইমার্জেন্সি অ্যাটেনডেন্স) জিহাদকে ডেকে নিয়ে কহিনুরের সিজারিয়ান অপারেশন করান। অপারেশনের পর জিহাদ সেখান থেকে ফিরে গেলে প্রসূতির অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরে স্থানীয় বাজারের ব্যবসায়ীরা ২ ব্যাগ রক্ত দিয়ে সহযোগিতা করেন। তাতেও রক্তক্ষরণ বন্ধ না হওয়ায় দুপুর ১২টার দিকে ক্লিনিক মালিক পাপিয়া বেগম তড়িঘড়ি করে মাইক্রোবাসে করে কোহিনুরকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তিনি মারা গেছেন। সে সময় পাপিয়া বেগম হাসপাতাল থেকে সটকে পড়েন। এ ঘটনার পর থেকে ক্লিনিক মালিক পাপিয়া ও ভুয়া সার্জন জিহাদ গা ঢাকা দিয়েছে।

নিহত গৃহবধুর স্বজনরা জানান, জিহাদ ও ক্লিনিক মালিক পাপিয়া গোপনে ৫ লাখ টাকা দিয়ে মিমাংশার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন।

ঘটনার সময় উপস্থিত অপর এক ক্লিনিকের সংশ্লিষ্ট এক নারী জিহাদ হাসান এই অপারেশন করেন বলে তিনি নিশ্চিত করেন। স্থানীয়রা জানান, জিহাদ নিজেকে সার্জন সবুজ নামে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন ক্লিনিকে অপারেশন করে আসছিল।

জিহাতকে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী স্বীকার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. অরবিন্দ পাল জানান, বিষয়টি জানার পর তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

দৌলতপুর থানার ওসি আরিফুর রহমান জানান, এ ব্যাপারে নিহত কোহিনুরের পিতা আরশেদ আলী বাদি হয়ে জিহাদ ও ক্লিনিক মালিক পাপিয়ার বিরুদ্ধে মামলা করেছে। মামলার বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

"