ফুলবাড়ী উপজেলার ঝাঁউকুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

বিদ্যালয়ে নেই সংযোগ সড়ক ভবন সংকটে বাইরে পাঠদান

প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০

ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার ঝাঁউকুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের এক দশক পেরিয়ে গেলেও তৈরি হয়নি কোনো সংযোগ সড়ক। ফলে উপজেলার বারোমাসিয়া ও ধরলা নদী বেষ্টিত নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের চরাঞ্চলে শিক্ষার্থীরা যাওয়া-আসা খেতের চিক আল ধরে। এদিকে ভবন সংকটে ভুগছে বিদ্যালয়টি।

২০০৯ সালে স্থাপিত ঝাঁউকুটি প্রাথমিক বিদ্যালয় হলেও ২০১৪ সালে তৃতীয় ধাপে জাতীয়করণ হয়। এই ১০ বছরেও বিদ্যালয়ে যাতায়াতের জন্য কোনো সংযোগ সড়ক তৈরি করা হয়নি। ফলে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত করতে হয় আবাদি জমির চিকন আল দিয়ে। এদিকে আজ অবধি বিদ্যালয়ের কোনো ভবন তৈরি করেন শিক্ষা অধিদফতর। এছাড়া বারোমাসিয়া নদীর উপর ঝুঁকির্পূণ সাকো পাড়াপাড় করতে হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রধান শিক্ষক ও দুইসহকারী শিক্ষিকা শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে খোলা আকাশের নিচে পাঠদান করছেন।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এনামুল, দরদী খাতুন, শরীফা বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ে আসার রাস্তা নেই। মানুষের জমির আইল দিয়ে আসি। অনেক সময় পা পিচলে পড়ে বই খাতাসহ ও পোশাক নষ্ট হয়। শ্রেণি কক্ষ না থাকায় খোলা আকাশের নিচে পাঠদান করতে হয়। বর্ষা মৌসুমে বারোমাসিয়া ও ধরলা নদীতে পানি বাড়লে জমির আইল পানিতে ডুবে যায়। তখন স্কুলে যেতে পারি না।

সহকারী শিক্ষিকা পারুল খাতুন বলেন, বিদ্যালয়ের যাওয়ার কোন রাস্তা নেই। ঝুঁকিপূর্ণ সাকো পাড় হয়ে মানুষের আবাদি জমির আইল দিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হয়। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আশরাফুল হক আক্ষেপ করে বলেন, অবহেলিত এলাকার বিদ্যালয় থেকে শিক্ষক কিভাবে ডিপুটিশনে অন্য বিদ্যালয়ে গেল ঠিক বুঝতে পারছি না।

উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার হ্নদয় কৃষ্ণ বর্মন জানান, সংযোগ সড়কের জন্য উপজেলা পরিষদ ও স্থানীয় ইউপি কার্যালয়ে বিষয়টি জানানো হয়েছে। বরাদ্দ না থাকায় এতোদিনেও সড়ক নির্মাণ করতে পারেননি তারা।প্রতিষ্ঠানে চারজন শিক্ষকদের মধ্যে একজন ডিপুটিশনে আছেন। প্রধান শিক্ষক নিয়োগ না দেওয়ায় শিক্ষক সংকট দেখা দিয়েছে।

 

"