নাগেশ্বরীর ৪ সাঁকোর গ্রাম আজমাতা

প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০

নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার আজমাতা গ্রামের সাধারণ মানুষ। ফুলকুমর ও মরা দুধকুমার নদী দিয়ে বেষ্টিত গ্রামটি। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে তাদের দুঃখ-কষ্টের সীমা থাকে না। ভালো রাস্তাঘাট না থাকায় জরুরি ভিত্তিতে জেলা বা উপজেলা সদরে যোগাযোগ করতে পারে না। যোগাযোগের ক্ষেত্রে ওই গ্রামের চারটি বাঁশের সাঁকোই একমাত্র ভরসা মানুষের।

জানা গেছে, নাগেশ্বরী উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দুরে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেষা আজমাতা গ্রাম। কৃষির ওপর নির্ভরশীল এ গ্রামের মানুষ। কৃষি পণ্য উৎপাদন করে সেখানে ভালো কোনো হাটবাজার না থাকায় ন্যায্য মূল্যে বিক্রি করতে পারেনা তারা। রাস্তাঘাটের অবস্থা অত্যান্ত নাজুক হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় তাদের। বর্ষা মৌসুমে বাঁশের নড়বড়ে সাঁকো কিংবা কলা গাছের ভেলায় চড়ে তাদের এ গ্রাম থেকে ওই গ্রামে যেতে হয়। বাঁশের তৈরি সাঁকো দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কোমলমতি ছেলেমেয়েরা স্কুলে যায়। আজমাতা গ্রামে দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকলেও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় বাঁশের সাঁকোই ভরসা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের। ক¤েপরহাট নামক স্থানে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থাকলেও প্রায় দেড় যুগ ধরে শিক্ষকদের বিল-বেতন না হওয়ায় শিক্ষকরা পাঠদান ছেড়ে দিয়ে বিভিন্ন পেশায় চলে গেছে। অবহেলিত এ জনপদে প্রায় ৭ হাজার লোকের বসবাস। গ্রামের এ পাড়া থেকে ও পাড়া যেতে চারটি বাঁশের সাঁকো পার হতে হয়। আজমাতা গ্রামের ৬নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য জালাল উদ্দিন জানান, আমার ওয়ার্ডটি সবচেয়ে অবহেলিত। আমি পরপর তিনবার এ ওয়ার্ড থেকে ইউপি সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছি। এখানকার প্রায় ৬৮ ভাগ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। সরকারি রিলিপ-¯ি¬প অন্যান্য মেম্বাররা যা ভাগ পায়, আমিও তা পাই। কিন্তু দারিদ্র্যের সংখ্যা বেশি হওয়ায় বিতরণ করতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়। নাগেশ্বরী উপজেলা সদরে যেতে প্রতিনিয়ত পার্শ্ববর্তী ভূরুঙ্গামারী উপজেলা সীমান্তের ওপর দিয়ে যেতে হয়।

রামখানা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল আলীম বলেন, আজমাতা গ্রামের সমস্যার কথা স্থানীয় সংসদ সদস্যকে অবহিত করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য আছলাম হোসেন সওদাগরের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, এলাকার সমস্যাগুলো সংসদে উত্থাপন করে পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

"