ঝালকাঠির শিল্পনগরী

বিসিক উদ্বোধনের এক বছরেও বরাদ্দ হয়নি প্লট

প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০

শাহাদাত হোসেন মনু, ঝালকাঠি

ঝালকাঠি বিসিক শিল্পনগরী উদ্বোধনের প্রায় একবছর অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো প্লট বরাদ্দ দিতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। বরং প্লটের মূল্য অতিরিক্ত হওয়ায় আগ্রহ হারিয়েছেন ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা। এখন কর্তৃপক্ষ প্লটের মূল্য কমিয়ে পুনরায় আবেদন আহ্বান করার প্রস্তাব বিসিক প্রধান কার্যালয়ে পাঠিয়েছে। প্লট বরাদ্দ কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মো. জোহর আলীও প্লটের মূল্য কমাতে বিসিক চেয়ারম্যান বরাবরে লিখিত আবেদন করেছেন বলে বিসিক সূত্র জানিয়েছে।

২০১৪ সালে শুরু হওয়া ঝালকাঠি বিসিক শিল্পনগরী নির্মাণ কাজ শেষ হয় ২০১৮ সালে। ওই বছরের ২০ অক্টোবর নগরী উদ্বোধন করেন তৎকালীন শিল্পমন্ত্রী। চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি প্লট বরাদ্দের আবেদন জমা দেওয়ার তারিখ শেষ হয়।

‘মাত্রাতিরিক্ত’ মূল্য নির্ধারণের কারণ হিসেবে কর্তৃপক্ষ বলছে, জমির পরিমাণ কম হওয়ায় শিল্প নগরীর উন্নয়ন খরচ বেশি হয়েছে। ব্যবসায়ী এবং উদ্যোক্তাদের অভিযোগ, অন্য জমির তুলনায় বিসিকের প্লটের দাম অনেক বেশি। সূত্র জানায়, ৪টি ক্যাটাগরির ৭৯টি প্লটের অনুকূলে বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করেছেন ১১ জনে। প্লট বাছাই কমিটি যাচাই-বাছাই শেষে ৬টি আবেদন ত্রুটি মুক্ত ঘোষণা করেন, কিন্তু এখনো বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। আগামী সভায় বরাদ্দ দেওয়া হতে পারে।

সূত্র মতে, বরিশাল-ঝালকাঠি-খুলনা মহাসড়ক সংলগ্ন ঝালকাঠির ঢাপড় এলাকায় ১১.৮ একর জমির ওপর গড়ে উঠেছে ঝালকাঠি বিসিক শিল্পনগরী। তবে প্লট ভূক্ত জমির পরিমাণ ৮.২৬ একর। প্রায় ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে এর নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সম্পন্ন হয়। এরপর প্লট বরাদ্দের জন্য আবেদন আহ্বান করা হয়। আবেদন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ছিল চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি। এ সময়ের মধ্যে মোট ৭৯টি প্লটের জন্য আবেদন পড়ে মাত্র ১১টি।

প্লটের ক্যাটগরি বিবরণীতে জানা যায়, এ, বি, সি ও এসÑএই চার আকারের প্লট ভাগ করে কর্তৃপক্ষ। আর প্রতি বর্গফুট জমির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬০০ টাকা। এ হিসাবে ৬ হাজার বর্গ ফুটের ‘এ’ আকারের ১টি প্লটের মূল্য দাড়ায় ৩৬ লাখ টাকা। ‘বি’ আকারের ৪ হাজার ৫০০ টাকা বর্গফুট হিসাবে প্লটের মূল্য ২৭ লাখ টাকা; ‘সি’ আকারের ৩ হাজার ২০০ টাকা বর্গফুট হিসাবে প্লটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ লাখ টাকা এবং ‘এস’ (বিশেষ) আকারের প্লটের মূল্য (আনুপাতিক হারে) নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ লক্ষাধিক টাকা।

প্লটের মূল্য পরিশোধের বিধান অনুযায়ি, প্লট বরাদ্দের পর ১০ কিস্তিতে মূল্য পরিশোধ করতে হবে। এ জন্য প্রতি কিস্তি ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকার সঙ্গে ১০ শতাংশ লভ্যাংশসহ ‘এ’ আকারের ৬ হাজার বর্গফুটের মোট মূল্য দাঁড়ায় ৩৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা। বরাদ্দের পর উদ্যোক্তা পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ সুবিধা পাবেন। তবে প্লট বরাদ্দ নিয়ে ৩১ মাসের মধ্যে উৎপাদনে যেতে না পারলে বরাদ্দকৃত প্লট বাতিল হবে।

ব্যবসায়ী জানে আলম জনি জানান, যখন জমির মূল্য নির্ধারণ করে তখন দেখলাম বাহিরের জমির তুলনায় বিসিকের প্লটের মূল্য অনেক বেশি। যার জন্য আমাদের পক্ষে নেয়া সম্ভব হয়নি।

একইভাবে উদ্যোক্তা জামাল শরীফ জানান, অন্যান্য বিসিক নগরীর তুলনায় যদি প্লটের দাম একটু কম হয় তাহলে আমাদের মতো যারা উদ্যোগ নিয়ে ব্যবসার জন্য আগ্রহী তারা সবাই আসতে পারবে। সব প্লট গুলো তাড়াতাড়ি বিক্রি হলে বিসিক নগরী চালু হবে।

উদ্যোক্তা সারেং ফার্নিচারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাহআলম জানান, বিসিকের দর অনুযায়ী কাঠা পড়েছে ১০ লাখ টাকার ওপরে। একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর পুঁজিই বা কত থাকে? এরপর যদি এত বেশি দামে প্লট কিনতে হয় তারপর তাকে প্রতিষ্ঠান করতে আবার লোন নিতে হবে। এটা কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই বিবেচনা করে মূল্য না কমালে উদ্যোক্তারা এগিয়ে আসবে বলে আমার মনে হয় না। প্রয়োজনে সরকারকে ভর্তুকি দিয়ে হলেও এর মূল্য কমাতে হবে।

প্রকল্প পরিচালক মো. শাফাউল করীম জানান, ‘শিল্পনগরীর জমি কম তবে উন্নয়ন খরচ বেশি হওয়ায় প্লটের দামে তার প্রভাব পড়েছে। এ কারণে মূল্য বেশি হওয়ায় প্লট বরাদ্দের আবেদনে তেমন সাড়া পাইনি। তাই আমরা এ বিষয়ে পরবর্তী করণীয় ও সিদ্ধান্ত জানতে বিসিক প্রধান কার্যালয়ে চিঠি পাঠিয়েছি।’ পদ্মা সেতু ও পায়রা বন্দর চালু হলে জমে উঠবে এ শিল্প নগরী এমন দাবি করে প্লট বরাদ্দ শেষ করতে চান এই কর্মকর্তা।

 

"