রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ ফেরিঘাট এলাকায় ভাঙন

পদ্মায় বিলীন কয়েকশ বাড়ি নদীগর্ভে ২ ফেরিঘাট

প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০

রাজবাড়ী (গোয়ালন্দ) প্রতিনিধি

‘কোথায় যাব জানি না। কোথায় সন্তানদের নিয়ে রাত কাটাব সেটাও বলতে পারব না। তবু বসতবাড়ি ভাঙতে হচ্ছে। অজানা উদ্দেশে রওনা দিতে হবে। হয়তো রাস্তার পাশেই পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করতে হবে।’ কথাগুলো বললেন ৬০-৬২ বছরের বৃদ্ধ একেএম শিকদার।

গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া লঞ্চঘাট এলাকার বৃদ্ধ একেএম শিকদার চোখের পানি হাত দিয়ে মুছতে মুছতে বলেন, পদ্মার ভাঙনের কারণে গত ৬-৭ বছর আগে দেনার বোঝা মাথায় নিয়ে এখানে আশ্রয় নিয়েছি। এখনো দেনা শেষ করতে পারিনি, এর মধ্যে আবারও পদ্মার ভাঙনের কারণে অন্য জায়গায় যেতে হবে।

বৃদ্ধ একেএম শিকদারের মতো শত শত পরিবার নদীভাঙনের কারণে অজানার উদ্দেশে ছুটছে। তারা অনেকে জানে না রাতে কোথায় থাকবে। বাড়িঘর নিয়ে কোথায় রাখবে। শুধু জানেন এখান থেকে সরে যেতে হবে। ভাঙন এলাকা সরেজমিন ঘুরে এমনই শত শত চিত্র দেখা মেলে।

জানা যায়, গত ১ অক্টোবর থেকে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের কাউয়াজানি, বেথুরী ও দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ঢল্লাপাড়া, ১নং বেপারীপাড়া, আফসার শেখের পাড়া, নতুন পাড়া, মালতপাড়া, ছিদ্দিক কাজী পাড়া, সাত্তার মেম্বার পাড়া, লঞ্চঘাট এলাকা এবং ১ ও ২নং ফেরিঘাট এলাকা পদ্মা নদীভাঙনের শিকার হয়।

এদিকে নদী ভাঙনের কারণে দৌলতদিয়া ১ ও ২নং ফেরি ঘাট বিলীন হয়ে যায়। ৪নং ফেরিঘাটে স্রোতের কারণে ফেরি ভিরতে পারছে না। মাত্র ৩, ৫ ও ৬নং ফেরিঘাট দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। এই রুটে ৩ অক্টোবর থেকে ¯্রােতের কারণে দুর্ঘটনা এড়াতে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ।

বিআইডব্লিউটিসি সূত্র জানায়, গত এক সপ্তাহ নদীতে তীব্র স্রোত থাকার কারণে ফেরি চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এ পরিস্থিতিতে গত ৫ অক্টোবর শনিবার দুপুর ২টার দিকে মাত্র ৩টা ফেরি দিয়ে শুধু যাত্রী পারাপার করা হয়েছিল। রুটে চলাচলকারী অন্য ফেরিগুলো স্রোতের বিপরীতে চলতে না পারায় বন্ধ রাখা হয়েছিল। তবে গত রোববার থেকে কিছুটা পদ্মা নদীর পানি হ্রাস পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্রোতের তীব্রতাও কিছুটা কমে আসে। এতে করে রুটে চলাচলকারী ১৬টি ফেরির মধ্যে কখনো ১০টি, আবার কখনো ১১টি ফেরি যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। তবে স্রোতের তীব্রতা এখনো থাকার কারণে ফেরিগুলোকে প্রতি ট্রিপে স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ সময় লাগছে।

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক মো. আবু আব্দুল্লাহ রনি বলেন, নদীতে তীব্র ¯স্রোতের কারণে ফেরি চালানো সমস্যা হচ্ছে। দৌলতদিয়া পারে বর্তমান ৩টি ঘাট সচল রয়েছে। ১০টি ছোট-বড় ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে।

রাজবাড়ী পাউবো নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম শেখ বলেন, পদ্মা নদীর ভাঙন শুরু হওয়ার পর থেকে আমরা দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলানো কাজ চালিয়ে যাচ্ছি ভাঙনরোধ করার জন্য।

রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগম বলেন, নদীতে স্রোতের কারণে ভাঙন দেখা দিচ্ছে। তবে পানি উন্নয়ন ভাঙনরোধ করার জন্য রাত-দিন কাজ করছে। তিনি বলেন, ঘাট রক্ষা করতে হলে শুকনো মৌসুমে স্থায়ীভাবে নদী শাসন করতে হবে।

 

"