বড়াইগ্রামে ভুল চিকিৎসায় গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে হাসপাতালটি সিলগালা ও মালীকে আটকের নির্দেশ দেওয়া হয়

প্রকাশ : ০৭ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০

বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি

নাটোরের বড়াইগ্রামে ভুল চিকিৎসায় সুমাইয়া খাতুন (১৬) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল রোববার ভোর চারটায় দিকে উপজেলার হেলথ কেয়ার জেনারেল হাসপাতালে ঘটনাটি ঘটে। সুমাইয়া বড়াইগ্রামের রামেশ্বরপুর গ্রামের সবুজ হোসেনের স্ত্রী এবং নগর ইউয়িনের তালশো গ্রামের রাহাবুল ইসলামের মেয়ে। এ ঘটনায় ওই দিন দুপুর ১২টার দিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে হাসপাতালটি সিলগালা করে দেন ইউএনও ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ার পারভেজ। এ ছাড়া ওই হাসপাতালের মালিক আরশেদ আলীকে (৬৫) আটক করে পুলিশ। সে একই উপজেলার মাঝগাঁওয়ের নটাবাড়িয়া গ্রামের মৃত অসিমউদ্দিনের ছেলে।

সুমাইয়ার মা মোমেনা খাতুন জানান, শনিবার সন্ধ্যায় সুমাইয়ার পেটে প্রচন্ড ব্যাথা হলে তাকে বনপাড়া হেলথকেয়ার জেনারেল হাসপাতাল ভর্তি করা হয়। রাত আটটার দিকে ওই হাসপাতালে ডাক্তার সামিরা তাবাচ্ছুম সাথী (এমবিবিএস) এপেন্ডিসাইটিস এর অপারেশন করেন। অবস্থার খারাপ হলে রাত তিনটার দিকে ওই ডাক্তার পুনরায় সুমাইয়াকে ইনজেকশন পুশ করেন এবং তার এক ঘন্টা পর সে মারা যায়। সকালে রোগীর স্বজনরা পুলিশ প্রশাসন ও সাংবাদিকদের এ বিষয়ে অভিযোগ করলে ঘটনা তদন্ত আসেন বড়াইগ্রাম সার্কেল এএসপি হারুন-অর-রশিদ ও ইউএনও আনোয়ার পারভেজ। তদন্ত শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত হাসপাতালটি সিলগালা করে দেয় ও মালিককে আটক করে। এই ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট ডাক্তার ও নার্স পালিয়ে যায়। ইউএনও আনোয়ার পারভেজ জানান, হাসপাতালটির কোন কাগজপত্র ঠিক নাই। আবাসিক মেডিকেল অফিসার নাই এবং পরীক্ষার যন্ত্রপাতি যথার্থ না থাকায় হাসপাতালটি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে।

 

"