কুবিতে মেধাবৃত্তির অর্থ পেতে দুর্ভোগে শিক্ষার্থীরা

প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

কুবি প্রতিনিধি

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) শিক্ষার্থীদের মেধা তালিকায় বৃত্তির টাকা পেতে নতুন নিয়ম করেছ প্রশাসন। সেই সঙ্গে কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চলছে অর্থ সংকট। ফলে তিনমাস অতিবাহিত হওয়ার পরও টাকা পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় পড়েছে বৃত্তিপ্রাপ্তরা।

নতুন নিয়মে কুবি শিক্ষার্থীদের কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড থেকে বৃত্তি ও মেধাবৃত্তির অর্থ উত্তোলন করতে হবে। এর আগে সরাসরি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর (মাউশি) এই অর্থ ছাড় করত। নতুন নিয়মের জটিলতার সঙ্গে যোগ হয়েছে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অর্থ সংকট। পদ্ধতিগত পরিবর্তন ও অর্থ সংকটের কারণে তিন মাস অতিবাহিত হওয়ার পরও শিক্ষার্থীদের মধ্যে বণ্টন করা যায়নি বৃত্তি ও মেধাবৃত্তির অর্থ। ফলে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অর্থ না দিতে পেরে বিপাকে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আর এই অর্থ ছাড়তে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রতিনিয়ত যোগাযোগ করছেন বোর্ডের সঙ্গে।

কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড জানায়, নতুন নিয়ম বুঝতে আমাদের অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন হয়েছে। এর সঙ্গে সঠিক সময়ে অর্থ আসতে দেরি ও প্রয়োজনের তুলনায় অর্থ কম আসায় আমরা বৃত্তি বিতরণ করতে পারছি না। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বরাদ্দকৃত বৃত্তি বা মেধাবৃত্তি হচ্ছে ১২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। কিন্তু আমাদের প্রয়োজন ১৬ কোটি ৫০ লাখ। আর অতিরিক্ত অর্থের সংকটের জন্যই অর্থ বিতরণ করতে আমাদের কিছুটা সময় বেশি লাগছে। জটিলতা নিরসনের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, মাউশির কাছে চিঠি দিয়েছি।

বৃত্তিপ্রাপ্ত ১০ থেকে ১২ জনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি বছর জুন মাসে আমরা বৃত্তির টাকা পেয়ে আসছি, কিন্তু এবার বৃত্তির অর্থ উত্তোলন করতে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন আমাদের প্রতিবারেই নতুন করে সময় দিচ্ছে। আমরা এবার আদৌ টাকা পাব কিনা এ নিয়ে সন্দিহান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অফিসের সেকশন অফিসার মোশারফ হোসেন বলেন, প্রতি বছর আমরা জেলা প্রশাসকের অ্যাকাউন্টেন্ট কার্যালয়ের অফিস থেকে অর্থ পেয়ে আসছিলাম। এবার কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড আমাদের বৃত্তির অর্থ দিতে বলে জানায়। কিন্তু আমরা নিয়মিত শিক্ষা বোর্ডে যোগাযোগ করছি তারা আমাদের দ্রুত সময়ের মধ্যেই বৃত্তির অর্থ দেবে জানিয়েছে।

কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ সামাদ অর্থ সংকটের বিষয় স্বীকার করে বলেন, বোর্ডের চার কোটি টাকা সংকটের জন্য বৃত্তির টাকা সময়মতো দিতে পারিনি। শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করা হচ্ছে অর্থ পেলেই আমরা বৃত্তির টাকা দ্রুততার সঙ্গে সব প্রতিষ্ঠানে পৌঁছে দেব।

 

"