যশোরে দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ

প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

এইচ আর তুহিন, যশোর

মজুদদারদের কারসাজিতে যশোরে উচ্চমূল্যে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ। ভারতে পেঁয়াজের রফতানিমূল্য বৃদ্ধি করার পর বাংলাদেশ সরকার দৃশ্যমান কোনো ভূমিকা না নেওয়ায় পেঁয়াজের দাম কমছে না বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। তারা জানান, ভারতের মূল্যবৃদ্ধির পেঁয়াজ দেশে এখনো প্রবেশ না করলেও দাম বেড়ে গেছে হু হু করে। আবার পাশাপাশি দেশীয় পেঁয়াজের দাম বেড়েছে অকারণে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, যে পরিমাণে দেশীয় পেঁয়াজ মজুদ আছে আগামী তিন মাসের মধ্যে দেশে পেঁয়াজের সংকট হওয়ার কথা না। কৃষকের কাছ থেকে বেশির ভাগ পেঁয়াজ এখন মজুদদারদের হাতে। এখন মজুদদাররাই পেঁয়াজের কৃত্রিম সংকট করে দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।

গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিপ্রতি পেঁয়াজ ৩৫ টাকা বেড়েছে। ৪৫ টাকার পেঁয়াজ ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর একমাস আগে দাম ছিল ২৫ থেকে ৩০ টাকা। গত ১২ আগস্ট ছিল ঈদুল আজহা। এ ঈদ উপলক্ষে দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছিল ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। শুক্রবার যশোরের বিভিন্ন আড়ৎ ও দোকান ঘুরে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

শহরের বড় বাজারের নোয়াখালী এজেন্সির আড়তদার আলমগীর হোসেন জানান, ভারত তাদের পেঁয়াজের রফতানিমূল্য বৃদ্ধি করার কারণে এ অবস্থার তৈরি হয়েছে। এটি বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রচার হওয়ার পর মজুদদাররা সংকট দেখাচ্ছে। ফলে দাম বেড়ে গেছে। আমরা কুষ্টিয়া, ফরিদপুর ও ঝিনাইদহের শৈলকুপা থেকে পেঁয়াজ এনে পাইকারি বিক্রি করি। যে দামে কিনি তার থেকে সামান্য লাভে বিক্রি করি। আর খুচরা বাজারে একটু বেশি দামে বিক্রি হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আড়তদার বলেন, দেশে যে পরিমাণ পেঁয়াজ মজুদ আছে আগামী এক মাসেও সংকট হবে না। কিন্তু ভারত দাম বৃদ্ধির ঘোষণা দেওয়ার পরই আমাদের দেশে হু হু করে বেড়ে গেছে। অস্থির হয়ে উঠেছে পেঁয়াজের বাজার। অথচ বৃদ্ধিমূল্যের ভারতীয় পেঁয়াজ এখনো দেশেই প্রবেশ করেনি। পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির পেছনে মজুদদারদের কারসাজি রয়েছে। তারা কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে আমাদের চাহিদা মোতাবেক পেঁয়াজ দিচ্ছে না। সরকার তদারকি ও পেঁয়াজ আমদানির বিষয়ে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা না নেওয়ায় এ অবস্থায় উন্নতি হচ্ছে না।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, অভ্যন্তরীণ বাজারে পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টায় রফতানিতে লাগাম টেনে দিয়েছে ভারত সরকার, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। পেঁয়াজ রফতানিতে আবারও ন্যূনতম দাম ঠিক করে দিয়ে ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক বাণিজ্য ১১ সেপ্টেম্বর বলেছে, এখন থেকে প্রতি মেট্রিক টন পেঁয়াজ ৮৫০ ডলারের কমে রফতানি করা যাবে না।

বাংলাদেশের আমদানিকারকরা বলছেন, এখন ভারত ন্যূনতম রফতানি মূল্য বেঁধে দেওয়ায় তা বেড়ে প্রায় তিন গুণ হয়েছে। তবে অনেকে বলছেন, এখন ভারত ছাড়াও বিভিন্ন দেশ থেকে পেঁয়াজ আসে। তার সঙ্গে দেশের উৎপাদন মিলিয়ে ঘাটতি খুব বেশি হবে না। ফলে খুচরা বাজারে দাম কিছুটা বাড়লেও পরিস্থিতি অতটা মারাত্মক হওয়ার কথা নয়। আমদানিকারকরা এরই মধ্যে তুরস্ক, মিসর, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু করেছেন। ফলে ভারতের সিদ্ধান্তের কারণে বাজার নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ার মতো কোনো প্রভাব পড়ার কথা না। অথচ এ সপ্তাহেই নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দেশে বছরে পেঁয়াজের উৎপাদন হয় ১৮ থেকে ১৯ লাখ মেট্রিক টন। তাতে চাহিদা পূরণ না হওয়ায় আমদানি করতে হয় ৭ থেকে ৯ লাখ মেট্রিক টন। স্বল্প দূরত্ব আর সহজলভ্যতার কারণে আমদানির বেশির ভাগটা ভারত থেকেই করা হয়। এর আগে ২০১৭ সালের শেষদিকেও একবার ভারত নিজেদের বাজার সামাল দিতে ন্যূনতম রফতানিমূল্য ৪৩০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ ডলার করেছিল। তখন ঢাকার খুচরা বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজ ৭৫ টাকা কেজিতে পাওয়া গেলেও দেশি পেঁয়াজের দাম ১০০ টাকা পেরিয়ে গিয়েছিল।

 

"