স্বেচ্ছাশ্রমেই ৫ কিলোমিটার গ্রামীণ রাস্তা

প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি

গ্রামের নাম চরকাদাই। বিল আর নদীবেষ্টিত এলাকা; নেই শুষ্ক রাস্তা। একমাত্র রাস্তাও যেন পরিত্যক্ত নালা। চরের কাদাই যেন তাদের পথের নিশানা। সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলায় অবস্থিত এই গ্রামের স্বেচ্ছাশ্রমে তৈরি হচ্ছে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার গ্রামীণ রাস্তা।

উপজেলার অবহেলিত চরকাদাই গ্রামের উত্তরাংশ থেকে দক্ষিণ পূর্বাংশ পর্যন্ত দৈর্ঘ্য এই রাস্তা। এই গ্রামে প্রায় ১০ হাজার মানুষের বসবাস। গত ১৩ সেপ্টেম্বর গ্রামবাসীর উদ্যোগে শুরু হয় রাস্তা তৈরির কাজ। এদিকে কাজ শুরুর পাঁচদিন পর গত ১৭ সেপ্টেম্বর স্থানীদের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও স্থানীয় সরকারের প্রকৌশল বিভাগে (এলজিইডি) সহযোগিতার আবেদন করা হয়েছে। এসময় উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা মুজিবুর রহমান, ফজলুল করিম, আব্দুর রহমান, শিক্ষক মো. শহিদুল ইসলাম, পল্লী চিকিৎসক মো. তারিকুল ইসলাম প্রমুখ।

বিল আর নদীবেষ্টিত চরকাদাই গ্রামের নামের সঙ্গে ‘আদর্শ গ্রাম’ তকমা লেগেছে দুই যুগ আগে, কিন্তু বাস্তবচিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আধুনিকতার ছোঁয়া ও নগরায়ণের যুগেও যোগাযোগের কাঁচা-পাকা সড়ক নেই এই গ্রামে। ফলে অন্যের বাড়ির ওপর দিয়ে পায়ে হেঁটে গ্রামের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাতায়াত করতে হয়। এভাবেই বিভিন্ন গ্রামের ২০ হাজার লোক চলাচল করে আসছে। বর্ষায় তাদের যোগাযোগের একমাত্র ভরসা নৌকা। গ্রামের একপাশ ক্যানেলের মতো একটি কাঁচা সড়ক থাকলেও সামান্য বৃষ্টিতেই তা ডুবে যায়।

এদিকে যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে মুমূর্ষু রোগীকে হাসপাতালে নিতে গিয়ে মাঝপথেই প্রাণ হারিয়েছেন অনেকবার। এমনকি লাশ কবরস্থান পর্যন্ত পৌঁছাতে বিড়ম্বনার কমতি নেই। ফলে বৈরী আবহাওয়ার সঙ্গে যুদ্ধ করে অনেকটা প্রকৃতির ওপর নির্ভর করে বেঁচে আছেন এই গ্রামের বাসিন্দারা।

সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলা সদর থেকে ৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত চরকাদাই গ্রামটি। গ্রামের শতাধিক কিশোর, যুবক স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক সংস্কার করছে। কারো হাতে টুকরি, কারো হাতে কোদাল, কেউ দাঁড়িয়ে উৎসাহ জোগাচ্ছে। শ্রমিকের সামনের সারিতে আছেন তরুণ সমাজসেবক প্রকৌশলী আবদুল্লাহ আল মাহমুদ। তার নেতৃত্বে কাজ হচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা।

জানতে চাইলে প্রকৌশলী আবদুল্লাহ আল মাহমুদ হতাশা প্রকাশ করে জানান, স্বাধীনতার প্রায় অর্ধ শতাব্দী হলেও আদর্শ গ্রামের আদর্শ চেহারা দিতে কোনো উদ্যোগ নেই। পায়ে হেঁটে চলার রাস্তাও পানির নিচে থাকে বছরের বেশির ভাগ সময়। তাই স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে গ্রামের মানুষকে নিয়ে সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছি।

এ ব্যাপারে বেলতৈল ইউপি চেয়ারম্যান ফেরদৌস হোসেন বলেন, গ্রামটি সত্যিই অবহেলিত। পাকা সড়ক তৈরি করা জরুরি। কাঁচা সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মাঝেমধ্যে ইউপি সদস্যের মাধ্যমে মাটি ফেলে দেওয়া হয়। কিন্তু তা অপ্রতুল বলে বর্ষা এলেই ধুয়ে যায়। রাস্তার একটি অংশ পড়েছে পোরজনা ইউনিয়নে। এই ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম মুকুল বলেন, চরকাদাই ২নং ওয়ার্ড আমার ইউনিয়নের আওতায়। বড় সড়ক তৈরি আমাদের বাজেট নেই। তবুও কর্মসূচির কিছু প্রকল্প দিয়ে প্রতি বছর কিছুটা মাটি ভরাট করা হয়। যাতায়াতে দুর্ভোগ যেন কমে সে জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।

গ্রামবাসীর পক্ষে আবেদন পাওয়া কথা নিশ্চিত করে ইউএনও মো. নাজমুল হুসেইন খাঁন বলেন, আবদেনটি স্থানীয় প্রকৌশলী অধিদপ্তরের পাঠি দেওয়া হয়েছে। খুব শীঘ্রই কাজটি উপজেলা প্রকৌশলীর মাধ্যমে করা হবে। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী আহম্মেদ রফিক জানান, ডিপিপি তালিকা ভূক্ত করার জন্য আমরা সব উদ্যোগ গ্রহন করেছি। তালিকা ভূক্ত হলেই রাস্তাটি আইআরআইডিপি প্রকল্পের আওতায় এনে ওই রাস্তাটি নির্মাণ করা হবে।

 

"