ভরা মৌসুমেও খাল-বিলে মিলছে না দেশীয় মাছ

ভূরুঙ্গামারীতে বিলুপ্তির পথে দেশীয় মাছ

প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

মনিরুজ্জামান, ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম)

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে নদী, খাল, বিল ও ডোবা-জলাশয় থেকে দেশীয় প্রজাতির মাছ ক্রমে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। বর্ষার পর মাছের ভরা মৌসুমে নদী, খাল-বিলগুলো মাছশূন্য হয়ে পড়েছে। কৃষিজমিতে অনিয়ন্ত্রিত সার ও কীটনাশকের ব্যবহার, অবৈধ কারেন্ট জাল দিয়ে নির্বিচারে ডিমওয়ালা মা মাছ ও ছোট পোনা মাছ ধরা, খাল-বিল-ডোবা ভরাট, উন্মুক্ত জলাশয়ে বাঁধ নির্মাণসহ মাছের বিচরণক্ষেত্রের অনুকূল পরিবেশ সংকট হওয়ার কারণে দিন দিন দেশীয় প্রজাতির মাছগুলো বিলুপ্তির পথে।

উপজেলার দুধকুমার, ফুলকুমার, কালজনী, গঙ্গাধর ও সংকোষ নদী মূলত মাছের প্রধান উৎস। এছাড়াও সোনাহাট ছড়া, পাইকেরছড়া, বহলগুড়ি বিল, কেদার বিল, তিলাইছড়া, ভেড়ভেড়ি বিল, দলবাড়ী বিল, ঝুকিয়া বিল, নাউডাঙ্গা বিল, নলেয়া নতুনছড়া ও শরবোঝা বিলসহ ছোট বড় অনেক খাল বিলে প্রচুর পরিমাণে দেশীয় প্রজাতির মাছ পাওয়া যেত। এসব নদী, খাল, বিল ও জলাশয়ের মাছ এলাকার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হতো।

উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্ষা মৌসুমে মা মাছগুলো ডিম ছাড়ে। ওই সময় এক শ্রেণির অসাধু মৎস্য শিকারি কারেন্ট জাল ও ভারতীয় এক প্রকার টানা জাল দিয়ে মা মাছ ও পোনা মাছগুলো ধরে ফেলে। এতে দেশীয় প্রজাতির মাছের প্রজনন আর হয় না। এক সময় উপজেলার গ্রামগঞ্জের হাটবাজারগুলোতে নানা ধরনের দেশি মাছের সমারোহ চোখে পড়ত। দেশীয় এসব মাছের মধ্যে রয়েছে কৈ, মাগুর, শিং, পাবদা, টেংরা, পুঁটি, মলা, ঢেলা, শৌল, বোয়াল, আইড়, ভ্যাদা, বাইম, খলিশা, ফলি, চিংড়ি, টাকি, চিতল, বালিয়া, কাকিলা, চাপিলা, বৈচা, চাটুয়া, নাপতানি, নামা চাঁদা, গোল চাঁদা, আইড়, গুলশা, দেশি পুঁটি, সর পুঁটি, তিতপুঁটি সহ নাম না-জানা বহু প্রজাতির দেশীয় মাছ।

উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, ভূরুঙ্গামাীতে প্রায় একশরও বেশি দেশি প্রজাতির মাছ আজ বিলুপ্তপ্রায়। ব্যবসায়িকভাবে লাভজনক না হওয়ায় ব্যবসায়ীরা দিন দিন এসব মাছের প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছেন। এতে হারিয়ে যাচ্ছে ছোট প্রজাতির পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ এসব মাছ। অপরদিকে এর স্থান দখল করেছে চাষের পাঙ্গাশ, তেলাপিয়া, ক্রস ও কার্পজাতীয় বিভিন্ন মাছ। ভূরুঙ্গামারী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফারাজুল কবির বলেন, নদী, খাল-বিল, জলাশয়ে অভয়াশ্রম সৃষ্টি করে প্রজননের সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। সেই সঙ্গে গণসচেতনতা তৈরি করে কৃষিজমিতে অনিয়ন্ত্রিত কীটনাশক ও কারেন্ট জালের ব্যবহার রোধ এবং মৎস্য আইনের যথাযথ প্রয়োগ করা গেলে বিপন্ন প্রজাতির এসব মাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে।

 

"