শিক্ষক পেটানো সেই ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা

প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় শিক্ষক পেটানো সেই ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন পরিষদের ৯ সদস্য। গত বৃহস্পতিবার ওই ৯ ইউপি সদস্য ইউএনওর কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে অনাস্থা প্রস্তাব এনে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।

লিখিত অভিযোগে কান্দি ইউনিয়ন পরিষদের ওই ৯ সদস্য তাদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে শিক্ষক পেটানো, অর্থ আত্মসাৎ, সাম্প্রদায়িক ইস্যু সৃষ্টি, পরিষদের সদস্য ও জনগণের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণসহ ১৫টি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগগুলো আমলে নিয়ে চেয়ারম্যান উত্তম কুমার বাড়ৈকে বহিষ্কার করার দাবি জানিয়েছেন ওই ৯ ইউপি সদস্য।

জানা গেছে, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার কান্দি ইউনিয়নের ধারাবাশাইল বাজারে গজালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক অমূল্য রতন হালদারকে চেয়ারম্যান উত্তম কুমার বাড়ৈ ও তার ভাই মনি বাড়ৈ পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠায়। ঘটনার পর থেকে ইউনিয়নবাসী বিক্ষোভ সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে। এর আগে শিক্ষক পেটানোর ঘটনায় শিক্ষক অমূল্য রতন হালদারের স্ত্রী মনি হালদার বাদী হয়ে কোটালীপাড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় পুলিশ চেয়ারম্যান উত্তম কুমার বাড়ৈর ভাই মনি বাড়ৈকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে প্রেরণ করেন।

কোটালীপাড়া শিক্ষক সমিতির সম্পাদক কাজী সাফায়েত হোসেন বলেন, চেয়ারম্যান উত্তম কুমার বাড়ৈ শিক্ষকের গায়ে হাত দিয়ে জাতির মেরুদ-ে আঘাত করেছেন। তার কাজ থেকে ইউনিয়নবাসী ভালো কিছু আশা করতে পারে না।

চেয়ারম্যান উত্তম কুমার বাড়ৈ বলেন, ঘটনার দিন কান্দি ইউনিয়নের একটি বিদ্যালয় নিয়ে শিক্ষক অমূল্য রতন হালদারের সঙ্গে ধারাবাশাইল বাজারে আমার কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে শিক্ষক অমূল্য রতন হালদার আমার বাপ-মা তুলে গালি দেয়। তখন আমার ভাই মনি বাড়ৈর সঙ্গে তার হাতাহাতি হয়। অপরদিকে যে ৯ ইউপি সদস্য আমার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনে ইউএনওর কাছে অভিযোগ করেছে তারা আগেও আমার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ এনেছিল। সেসব অভিযোগ তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছিল।

অনাস্থা প্রস্তাব এনে দাখিল করা অভিযোগের বিষয়ে ইউএনও এস এম মাহফুজুর রহমানের কাছে জানার জন্য তার ব্যক্তিগত নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।

 

"