সোনারগাঁয়ে মেঘনায় ভাঙন

হুমকিতে ২০ হাজার বাসিন্দা ২৬ বছরেও নির্মাণ হয়নি বাঁধ

প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

আশরাফুল আলম, সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ)

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় মেঘনা নদীতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনে উপজেলার নদী পরিবেষ্টিত সড়কপথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন নুনেরটেক, রঘুনারচর, সবুজবাগ, টেকপাড়া, গুচ্ছগ্রাম, কমলাপুরসহ সাতটি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হওয়ার পথে। গত ২৫ বছরে ওই এলাকার কয়েকশ’ পরিবার ভাঙনে বাড়িঘর হারিয়ে পথে বসেছে। মেঘনা নদীর ঢেউ ও প্রচন্ড স্রোতে নুনেরটেক গ্রামের বাড়িঘর গত একমাস ধরে ভেঙে নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। গত ২৬ বছর ধরে নদীর তীরের বাড়িঘর রক্ষায় স্থানীয়রা বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিগত ১৯৯১ সালে সোনারগাঁয়ের বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য রেজাউল করিম ও ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল কায়সার ওই এলাকায় ভাঙনরোধে বাঁধ নির্মাণ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও কেউ কথা রাখেননি। বর্তমান জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা তিনিও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বাঁধ নির্মাণ করে দেওয়ার। দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে তারা নুনেরটেক এলাকায় মেঘনা নদীর ভাঙনরোধে বাঁধ নির্মাণ করে দেওয়ার জন্য এলাকাবাসীকে বার বার প্রতিশ্রুতি দিলেও কেউ কথা রাখেনি বলে অভিযোগ করেছেন বাসিন্দারা। ভাঙনের কারণ হিসেবে তারা নদীর প্রচন্ড ঢেউ, স্রোত ও অপরিকল্পিতভাবে নদী থেকে ড্রেজারের সাহায্যে বালু উত্তোলনকে দায়ী করেন। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে ভাঙনের ফলে মানুষের ফসলি জমি ও বাড়িঘর নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। গত ২৬ বছরে ওই এলাকার প্রায় ৮০০ বিঘা ফসলি জমি ও ৩০০ মানুষের বাড়িঘর নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।

সরেজমিন উপজেলার বারদী ইউনিয়নের নুনেরটেক গ্রামের পূর্বপ্রান্তে রঘুনারচর ও কমলাপুর মহল্লায় গিয়ে দেখা যায়, মেঘনা নদীর প্রচন্ড স্রোত ও ঢেউয়ের কারণে গ্রামটির কয়েকটি মহল্লাগুলোর বাসিন্দাদের বাড়িঘর ভেঙে গত একমাস ধরে নদতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

কমলাপুর গ্রামের বাসিন্দা আলী আকবর জানান, গত কয়েক বছর ধরেই আমাদের গ্রামের মানুষের বাড়িঘর ভেঙে মেঘনা নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। গত বছর আমাদের গ্রামের ২০ জন মানুষের বাড়িঘর নদীতে বিলীন হয়ে যায়। এ বছর বর্ষা শুরু হওয়ার পর থেকে ভাঙনের পরিমাণ একটু কম থাকলেও গত একমাস ধরে নদীর তীরের অনন্ত ১১ জন বাসিন্দার বাড়িঘর নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।

কমলাপুর গ্রামের বাসিন্দা সোহরাব মিয়া জানান, প্রচন্ড স্রোতের কারণে আমাদের বাড়িঘর যেভাবে ভেঙে নদীতে বিলীন হচ্ছে, এভাবে চলতে থাকলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে আমাদের গ্রামের অধিকাংশ মানুষ বাড়িঘর হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যাবে।

নুনেরটেকের গ্রামবাসীরা অভিযোগ করে বলেন, গ্রামটি রক্ষা করার জন্য আমরা দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে আন্দোলন করে আসছি। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগে আমরা নদীর তীরে মানববন্ধন, স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের স্মারকলিপি দিয়ে আসছি। আন্দোলনের সময় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা নদীর তীরে বাঁধ নির্মাণ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও কোনো কাজ হচ্ছে না। গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি সদর আলী জানান, মেঘনার ভাঙনে আমাদের ফসলি জমি ও বাড়িঘর নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

নুনেরটেক গ্রামের বাসিন্দা ও বারদী ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য লোকমান হোসেন জানান, আমাদের বাড়িঘর নদীর ভাঙন থেকে রক্ষা করতে হলে অবশ্যই নদীর তীরে বাঁধ নির্মাণ করতে হবে। বাঁধ নির্মাণ করার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবায়ন করতে কেউ এগিয়ে আসছে না।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার সরকার জানান, মেঘনা নদীর ভাঙনের ফলে মানুষের বাড়িঘর নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এভাবে ভাঙতে থাকলে নদী পাড়ের গ্রামগুলোর অস্তিত্ব থাকবে না। আমি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবগত করেছি। নদীভাঙন থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 

"