কক্সবাজারে রেললাইন প্রকল্প

নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় পানিবন্দি শতাধিক একর জমি

প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজার

বাড়ির পাশ দিয়ে রেললাইন হচ্ছে এটা খুশির খবর। নির্মিত হয়েছে বেড়িবাঁধ। কিন্তু কক্সবাজার সদর উপজেলার ইসলামপুর নাপিতখালী এলাকাবাসীর কাছে এই খুশির খবরটি অভিশাপ হয়ে এসেছে। এই এলাকার শত শত মানুষের দৈনন্দিন জীবনে চরম প্রভাব ফেলেছে। প্রবল বর্ষণে পাহাড় এবং উজান থেকে নেমে আসা বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনে বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে মধ্যম নাপিতখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নূরানি মাদরাসা ও কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ। এছাড়া চলাচলের একমাত্র জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তাসহ প্রায় ১০০ একর চাষের জমি এবং ঘরবাড়ি।

জানা গেছে, গত বছর ২০১৮ সালে রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয়। কাজও কিছুটা দৃশ্যমান। ঠিক সেই মুহূর্তে চলে আসে বর্ষা মৌসুম। প্রবল বৃষ্টিতে পাহাড় এবং উজান থেকে নেমে আসা বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের কোনো বিকল্প ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ। বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় একটু বৃষ্টিতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে কক্সবাজার সদর উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের মধ্যম নাপিত খালি এলাকার জামে মসজিদ, স্কুল, রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি। এতে করে রাস্তা ও ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।

এতে এলাকাবাসী ছাড়াও পানিবন্দি হয়ে আছে স্কুল, ফোরকানিয়া ও নূরানিতে পড়–য়া কোমলমতি অন্তত ১ হাজার ৪০০ শিক্ষার্থী। তাদের যাতায়াতে ব্যাপক অসুবিধা হচ্ছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীরা স্কুলে যেতে না পারায় পড়ালেখায় চরম ব্যাঘাত ঘটছে। যে কোনো মুহূর্তে মসজিদের দেয়াল ধসে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী। এলাকার প্রায় ৩ হাজার বাসিন্দার মনে শান্তি নেই।

এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পুরো এলাকা পানিবন্দি হওয়ার ফলে ছেলেমেয়েরা ঠিকমতো স্কুলে যেতে পারছে না। এতে করে পড়ালেখায় চরম বিঘœ ঘঠছে। এ অবস্থা চলতে থাকায় ছেলেমেয়েরা পড়াশোনায় অমনোযোগী হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

স্থানীয় বেদার মিয়া নামের এক কৃষক অভিযোগ করে বলেন, অল্প জমিতে চাষ করে নিজের পরিবারের সদস্যদের মুখে দুমুঠো ভাত তুলে দিই কিন্তু পানি নিষ্কাশনের কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় আমাদের মুখের ভাতটুকু যেন কেড়ে নিয়েছে রেললাইন। এ অবস্থা যদি চলতে থাকে তাহলে পরিবারের খাবার জোগার করতে ভিক্ষার থালা নিয়ে বসতে হবে।

রেললাইন নির্মাণ কাজে নিয়োজিত জেবি ম্যাক্স চায়না কনস্ট্রাকশন গ্রুপের বক্তব্য নেওয়ার জন্য চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি।

এমন পরিস্থিতিতে নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে এলাকার জনসাধারণকে পানিবন্দি জীবদ্দশায় থেকে মুক্তি দেওয়া হোক, এটাই দাবি এলাকাবাসীর।

"